গত সপ্তাহের শেষ – এই সপ্তাহের শুরুতে জাপান – ভারত যোগাযোগের ক্ষেত্রে এক বড় মাপের সক্রিয়তা লক্ষ্য করা গিয়েছে. একই সঙ্গে ভারতের দুই মন্ত্রী – পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান এস. এম. কৃষ্ণ ও প্রতিরক্ষা দপ্তরের প্রধান এ. কে. অ্যান্টনি – টোকিও গিয়েছেন. পররাষ্ট্র মন্ত্রী সেখানে ছিলেন ২৮ – ২৯শে অক্টোবর, প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জাপানে আসছেন ২রা নভেম্বর. আর এই দুটি সফরই যেমন দুটি দেশেই বিভিন্ন রকমের প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে, তেমনই তাদের বাইরেও.

    জাপান – ভারতবর্ষ সহযোগিতা বৃদ্ধির বাস্তব সক্রিয়তা বৃদ্ধি ও যোগাযোগ উচ্চ পর্যায়ে হওয়াতে কোন কিছুই অস্বাভাবিক নয়, সন্দেহ জনকও নয়. ভারতবর্ষ দ্রুত উন্নতিশীল দেশ, যাদের খুবই প্রয়োজন আধুনিক প্রযুক্তি, আর জাপান – এই বিষয়ে বিশ্বের স্বীকৃত নেতা.

    কিন্তু এস. এম. কৃষ্ণের এর মধ্যেই শেষ হওয়া সফরে ও আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই শুরু হতে যাওয়া এ. কে. অ্যান্টনির সফর নিয়ে পর্যবেক্ষকদের যা সন্ত্রস্ত করেছে – তা হল এই সব আলোচনার বিষয় বস্তু. ভারতের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান মুখ্যতঃ আলোচনা করেছেন পারমানবিক শক্তি ক্ষেত্রে সহযোগিতা নিয়ে.

    যেমন আশা করা হয়েছে যে, জাপানের প্রযুক্তি ভারতীয় পারমানবিক শক্তি কেন্দ্র গুলির জন্য সরবরাহ করার চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে খুবই নিকট সময়ের মধ্যে. জাপান এখনও নিজেদের দেশের পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের বিপর্যয়ের পরে বেরিয়ে পড়া তেজস্ক্রিয় পদার্থের সম্বন্ধে ফুকুসিমা সিনড্রম ছেড়ে বের হতে পারে নি. আর এই বিপর্যয় এমনকি জাপানের সরকারকেই বাধ্য করেছে নিজেদের পারমানবিক শক্তি বিষয়ে উন্নতির পরিকল্পনা স্থগিত রাখতে. কিন্তু এটা তাদের নিজেদের দেশের বাইরে পারমানবিক শক্তি প্রযুক্তি প্রসার করাতে বাধা দেওয়াতে পারে নি. আর ভারতবর্ষ এখানে ব্যতিক্রম নয়. সোমবারে টোকিওতে শুরু হওয়া আলোচনাতে জাপান ও ভিয়েতনামের প্রধান মন্ত্রীরা ইয়সিহিকো নোডা ও নগুয়েন তান দুঙ্গা, একই সঙ্গে তাদের আলোচনার কেন্দ্রে রেখেছেন পারমানবিক ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয় কে, - এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

    "এই তথ্য এর মধ্যেই খুব তীক্ষ্ণ সমালোচনার ঝড় তুলেছে. আসলে দেখা যাচ্ছে, জাপান বেশীর ভাগ উন্নত পশ্চিমের দেশের মতই, নিজেদের দেশে ফুকুসিমার মতো আবার বিপর্যয়ের ভয় পেয়ে, হয় বন্ধ করছে, নয়তো কমিয়ে ফলছে পারমানবিক শক্তি ক্ষেত্রে উন্নতির পরিকল্পনা. আর একই সময়ে – সক্রিয়ভাবে চেষ্টা করছে অন্যান্য দেশে তার প্রসারে. বিশেষ করে এই ধরনের অবস্থানের মত বিরোধ বেশী করে দেখতে পাওয়া যাচ্ছে ভারতের ক্ষেত্রেই, যেখানে তামিলনাডু রাজ্যে স্থানীয় জনতার শুধু কুদানকুলাম পারমানবিক বিদ্যুত প্রকল্পের কাছে থাকা নিয়ে তীব্র আপত্তির কারণে বিক্ষোভ এই নিয়ে তিন মাস হতে চলল বন্ধ হচ্ছে না".

    প্রসঙ্গতঃ, বিপদ, পারমানবিক শক্তির উন্নতি নিয়ে – এটা অর্ধেক ব্যাপার. বোঝাই যাচ্ছে যে, ভারত, নিজেদের দেশে প্রায় খনিজ তেল ও গ্যাসের অভাব থাকায় দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নতির জন্য প্রয়োজন বোধ করছে শক্তি সম্পদের বৃদ্ধি করার, আর পারমানবিক শক্তি থেকেও তারা পেছিয়ে যাবে না. আর পারমানবিক শক্তি চেরনোবিল বা ফুকুসিমা বিপর্যয় স্বত্ত্বেও – আজকের দিনে সবচেয়ে পরিবেশ বান্ধব শক্তি হয়েই রয়েছে. এখানে গুরুত্বপূর্ণ হল জাপানের কাছ থেকে শিক্ষা নেওয়ার ও পারমানবিক কেন্দ্র ভূমিকম্প প্রবণ এলাকায় তৈরী না করা ও বাস্তবিক ভাবেই নিরাপত্তা প্রশ্নে মনোযোগ দেওয়া.

    কিন্তু জাপান – ভারত নৈকট্যের মধ্যে রয়েছে খুবই বড় মাপের রাজনৈতিক ফল, যা আরও বেশী ঝুঁকির, পারমানবিক সক্রিয় পদার্থের বেরিয়ে পড়ার থেকেও. এখানে কথা হচ্ছে সামরিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির, এই কথা উল্লেখ করে বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

    "সেই সমস্ত প্রশ্ন, যা মন্ত্রী এস. এম. কৃষ্ণের সফরের সময়ে আলোচিত হতে চলেছে, তার মধ্যে পারস্পরিক ভাবে নৌবাহিনী দের মহড়া বৃদ্ধি, সামরিক প্রযুক্তি বিষয়ে সহযোগিতার বৃদ্ধি রয়েছে. আর যদিও ভারতীয় কূটনীতিজ্ঞ মহল জের গলায় বলছে যে, কোন তৃতীয় দেশের বিরুদ্ধে জাপান ও ভারতের সামরিক বিষয়ে সহযোগিতা লক্ষ্য করে করা হয় নি, তবুও এই ধনের উক্তির বয়ানই বুঝিয়ে কে বা কার এর লক্ষ্য. আর যখন নিজের আলোচনার শেষে টোকিও মন্ত্রী কৃষ্ণ মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, এখানে একই সাথে জাপান – ভারত – আমেরিকা ত্রিপাক্ষিক আলোচনা নিয়েও কথা হয়েছে, যা খুব শীঘ্রই করা হতে পারে, আর যেখানে বিভিন্ন আঞ্চলিক ও বিশ্বের সমস্যা নিয়েও আলোচনা করা হবে, যেগুলি এই তিনটি দেশেরই উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো, তখন সব কিছুই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে. এখানে কথা হচ্ছে আমেরিকার পক্ষ থেকে এশিয়ার জোটকে ভেঙে দেওয়ার প্রচেষ্টার, যা স্পষ্ট চিন বিরোধী লক্ষ্য রাখে".

    এই ধরনের উত্তেজনা বৃদ্ধি শেষ অবধি পারমানবিক শক্তি কেন্দ্র তৈরীর চেয়েও আরও বেশী বিপর্যয়ের কারণ হতে পারে.