আন্তর্জাতিক জোট লিবিয়াতে সামরিক অপারেশন গুটিয়ে নিচ্ছে. এরই মধ্যে মস্কো সাবধান করে দিয়েছে যে, জোটের লিবিয়াতে কাজকর্ম নিয়ে প্রশ্ন তোলা হবে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে ও রাশিয়া- ন্যাটো সভার কাঠামোয়.

    সোমবারে – ন্যাটো জোটের লিবিয়াতে "সংযুক্ত রক্ষা কর্তা" নামের অপারেশন শেষ হওয়ার দিনে- রাশিয়ার পররাষ্ট্র সংস্থায় ঘোষণা করা হয়েছে যে, জোট খুবই নোংরা ভাবে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১৯৭৩ নম্বর সিদ্ধান্তে দেওয়া অধিকার লঙ্ঘণ করেছে. পররাষ্ট্র দপ্তরের উপপ্রধান আলেকজান্ডার গ্রুশকো উল্লেখ করেছেন: "আমাদের সকলের স্বার্থের জন্যই দরকার, যাতে এই ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে আর কখনও না ঘটে". রাশিয়া জোর দেবে যাতে ন্যাটো জোটের সমস্ত কাজকর্ম আন্তর্জাতিক আইন মেনে এর পর থেকে করা হয়. লিবিয়ার শিক্ষা মস্কো ইচ্ছা প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে ও রাশিয়া – ন্যাটো সভায় আলোচনা করার.

    গ্রেট ব্রিটেন, ফ্রান্স, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, বেলজিয়াম, ইতালি, স্পেন, ডেনমার্ক ও নরওয়ে ঠিক সাত মাস আগে শুরু করেছিল লিবিয়াতে সামুদ্রিক ও আকাশ পথে অপারেশন. তাদের ঘোষিত লক্ষ্য ছিল গাদ্দাফির পক্ষের লোকেদের বিরোধীপক্ষের লোকেদের উপরে কাজকর্ম থামিয়ে দেওয়া. তারই মধ্যে প্রশাসনের সরাসরি ধ্বংস করার জন্য ন্যাটো জোটের সহায়তায় স্থানীয় বিরোধী পক্ষের লোকেদের দিয়ে অপারেশন করা হয়েছে.

    আজ লিবিয়ার নতুন প্রশাসন ন্যাটো জোটকে থেকে যেতে বলছে. রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক মূল্যায়ণ ইনস্টিটিউটের সভাপতি আলেকজান্ডার কনোভালভ উল্লেখ করেছেন যে, এই দেশের নতুন তথাকথিত নেতৃত্ব ভয় পেয়েছে জঙ্গী বাহিনীর সঙ্গে মুখোমুখি ভাবে থাকতে, যারা অন্তর্বর্তী কালীণ জাতীয় সরকারকে মানে না, তাই তিনি বলেছেন:

    "ন্যাটো জোটের জন্য বর্তমানে প্রধান কাজ হল – লিবিয়া থেকে কিছু একটা করে বেরিয়ে আসা ও এই আন্তর্প্রজাতিগত দ্বন্দ্বের ফাঁদে না পড়া. অবশ্যই ন্যাটো অন্তর্বর্তী কালীণ জাতীয় পরিষদের শক্তিকে সাহায্য করবে. কিন্তু খুবই সন্দেহের বিষয় হল যে, এই অন্তর্বর্তী কালীণ জাতীয় পরিষদ নিজেরাই তাদের অখণ্ডতা বজায় রাখতে পারবে কি না. তাই এখন লিবিয়াতে থেকে যাওয়ার অর্থ হবে – নিজেদের উপরে সেখানে যা ঘটতে চলেছে তার দায়িত্ব নেওয়া. সেখানে ভাল কিছুই ঘটবে না. এটা একেবারেই স্পষ্ট দেখতে পাওয়া যাচ্ছে".

    এখন লিবিয়ার প্রজাতিদের জন্য খনিজ তেলের জন্য, মানবিক সাহায্যের ভাগ পাওয়ার জন্য, বিদেশ থেকে চোরাচালান হয়ে আসা অস্ত্রের উপরে নিয়ন্ত্রণের জন্য এক যুদ্ধের যুগ শুরু হতে চলেছে. এই মত দিয়েছেন স্ট্র্যাটেজিক মূল্যায়ণ ও বিশ্লেষণ ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ সের্গেই দেমিদেঙ্কো. এই সবের সঙ্গে আরও যোগ হয়েছে চরমপন্থী ইসলামের বিপদ, তাই তিনি বলেছেন:

    "চরমপন্থী ঐস্লামিক লোকেরা এর মধ্যেই তাদের সঙ্গে নিজেদের হিসেব মেটাতে শুরু করেছে, যারা গাদ্দাফির প্রশাসনকে সমর্থন করেছিল. এখন মিসুরাত, সির্ত এলাকায় খুবই ভয়ঙ্কর অবস্থা. তথাকথিত জঙ্গীরা এর মধ্যেই গাদ্দাফির মায়ের কবর খুঁড়ে ফেলেছে. তাঁর অস্থির বিনিময়ে চাইছে যে, বলা হোক, কোথায় লুকিয়ে আছে গাদ্দাফি পুত্র সৈফ আল- ইসলাম. অর্থাত্ লিবিয়াতে এর মধ্যেই জঘন্য সব ঘটনা ঘটতে শুরু করেছে. এমনকি খুবই কঠিন হয়েছে ধারণা করা যে, কখন খনিজ তেল, অস্ত্র, খাদ্য ও রাজনৈতিক প্রভাবের জন্য লড়াই শুরু হবে. পশ্চিম এই পরিস্থিতিতে কিছুই স্পষ্ট করে প্রস্তাব করতে পারছে না".

    লিবিয়াতে ন্যাটো জোটের সামরিক বিজয়ের ফল – প্রাথমিক ভাবে ব্যবহার করতে পারে – এখনই তা করেও দেখাচ্ছে  - সবচেয়ে যুদ্ধে সক্ষম জঙ্গীদের অংশ – চরমপন্থী ঐস্লামিকেরা. আর যদি ন্যাটো লিবিয়াকে পদাতিক বাহিনী ও গোয়েন্দা বাহিনী তৈরী করতে সাহায্য করে, তবে তা পরিণতিতে কাদের দখলে আসতে চলেছে?