বিশ্বের সাতশো কোটি তম বাসিন্দা ৩০ থেকে ৩১শে অক্টোবরের সন্ধিক্ষণে জন্ম নিয়েছে. সঠিক করে বললে বলা যেতে পারে রাত বারোটা বেজে ২ মিনিটে. এই শিশুটি একটি ছেলে, যে জন্মেছে কালিনিনগ্রাদ শহরে. রাষ্ট্রসঙ্ঘের তরফ থেকে এই শহরটিকে আচমকাই বেছে নেওয়া হয় নি: এখানে সংস্থার পক্ষ থেকে বিশ্বের জনসংখ্যা পরিস্থিতি নিয়ে রিপোর্ট প্রকাশ করা হতে চলেছে.

 বোঝাই যাচ্ছে যে, সঠিক ভাবে এই পূর্ণ সংখ্যার শিশু নির্ণয় করা সম্ভব নয়. প্রতি মিনিটেই বিশ্বে শিশুর জন্ম হচ্ছে. আর তাই রাষ্ট্রসঙ্ঘ আগে থেকেই এই উল্লেখ যোগ্য ঘটনার তারিখ ঠিক করে দেয়. যেমন, ১৯৯৯ সালে বসনিয়ার সারায়েভো শহরে যে ছেলেটি জন্মেছিল, সে এই বিশ্বের ছয়-শ' কোটি তম বাসিন্দা বলে চিহ্নিত হয়েছিল. সেই সময় থেকেই এখন আমরা আরও একশো কোটি বেড়ে গিয়েছি. আর এটা একেবারেই বাস্তব প্রক্রিয়া, যা জীবনের যুক্তি অনুযায়ী চলে, এই কথা উল্লেখ করে জনসংখ্যা গবেষণা ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর ইগর বেলোবরোদভ বলেছেন:

"একশো কোটি – এটা সাধারন মানুষের ধারণার পক্ষে বিরাট ব্যাপার. আর বিশ্বের আয়তনের হিসাবে- সিন্ধুতে বিন্দু. সত্তরের দশকে করা কিছু আকর্ষণীয় হিসাব রয়েছে যে, বিশ্বের সবচেয়ে বেশী জনসংখ্যা হতে পারে ৬০ কোয়াড্রিলিয়ন লোক – এই সংখ্যার পরে ষোলটি শূণ্য রয়েছে. স্বাভাবিক ভাবেই আমাদের এখন অত দূর অবধি বাড়তেই থাকতে হবে".

জনসংখ্যা বিশারদদের আজকের দিনের নানা সমস্যা কিছু কম চিন্তিত করে না. বিশেষত ইউরোপে যে ধরনের উদ্বেগ জনক পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে. হিসাবে দেখা গিয়েছে যে, আগামী ৮০০ বছরের মধ্যে বেশ কিছু ইউরোপীয় দেশের জনসংখ্যা একেবারেই নিশ্চিহ্ণ হয়ে যেতে পারে. সেখানে জন্ম হার কমেছে সঙ্কট জনক ভাবে, আর এখনই শতকরা ৪২ শতাংশ লোক এমন জায়গায় বাস করে, যেখানে একেবারেই সাধারন প্রজন্ম নেই. প্রসঙ্গতঃ, এমন দেশও রয়েছে – যারা বংশ পরম্পরায় জনসংখ্যার রেকর্ড সৃষ্টি করে চলেছে. এটা ভারতবর্ষ ও চিন. আর বিশ্বের নতুন বাসিন্দাদের প্রধান সরবরাহ কারী এলাকা -  আফ্রিকা: সেখানে জনসংখ্যা বাড়ছে অতি দ্রুত গতিতে. একবিংশ শতকের শেষের মধ্যে বিশেষজ্ঞরা মনে করেছেন যে, জনসংখ্যা এক হাজার কোটি পেরোবে. এই প্রসঙ্গে প্রশ্নের উদয় হয়, বিশ্বের বাসিন্দাদের জন্য কতটা সম্পদ রয়েছে, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার হায়ার স্কুল অফ ইকনমিক্সের জনসংখ্যা ইনস্টিটিউটের ভাইস ডিরেক্টর সের্গেই জাখারভ বলেছেন:

"কাঁচামালের তুলনায় বিশ্ব এখনই অতিরিক্ত রকমে জনবহুল, তা না হলে আমাদের এত দুর্ভিক্ষ ও রোগ থেকে মৃত্যু দেখতে হতো না, যা জলের খারাপ হওয়ার জন্যই ঘটছে. আমাদের সময়ে ভোগের উপকরণ হিসাবে আধুনিক প্রযুক্তি প্রবেশ করছে, শিল্প থেকে অনেক ধরনের জিনিস তৈরী হচ্ছে, তার জন্য যেমন শক্তির প্রয়োজন, তেমনই দরকার জলের. তাই বিশ্বের জন্য উপযুক্ত জনসংখ্যা – একটা তুলনা মূলক বিষয় – আমাদের প্রয়োজন ও ইচ্ছার সঙ্গে যা যুক্ত".

কালিনিনগ্রাদের বাচ্চাটির অবশ্য এই ধরনের সমস্যার সঙ্গে এখন কোন যোগ নেই. তার এখন কাজ হল – বাবা মায়ের খুশীতে বেড়ে ওঠা. নিকোলায়েভ পরিবারে এটি তৃতীয় সন্তান, তার মধ্যে আবার বহু প্রতীক্ষিত ছেলে. চিকিত্সকদের কথামতো, সে সুস্থ – তিন কিলোর চেয়ে সামান্য বেশী তার ওজন, লম্বায় – ৫০ সেন্টিমিটার. এখনই এই সপ্ত শত কোটি তম শিশুর নাম জানা গিয়েছে – এই আনন্দময় ঘটনার অনেক আগেই তার পিতা মাতা নাম রেখেছেন পিওতর.

রাষ্ট্রসঙ্ঘের তরফ থেকে তাদের বিশ্বের জনসংখ্যা সম্বন্ধে রিপোর্ট প্রকাশের সময়ে সরকারি ভাবে এই শিশুর জন্ম হয়েছে বলে ঘোষণা করা হবে. বাচ্চার বাবা মাকে একটি সার্টিফিকেট দেওয়া হবে, যাতে লেখা থাকবে নিকোলায়েভ পরিবারের জীবনের ও মানবেতিহাসের এই উল্লেখযোগ্য ঘটনার কথা.