উদ্ভাবনী শিল্পে অর্থ বিনিয়োগে শীর্ষে থাকা ১০টি দেশের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে রাশিয়া।প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ মস্কোর স্কোলকোভা বিজনেস স্কুলে তরুন উদীয়মান প্রকৌশলী,বিজ্ঞানী ও উদ্ভাবকদের সাথে সাক্ষাত্কারে এ কথা বলেন।

আগামী বছর রাশিয়ার অর্থনীতির আধুনিকায়ন প্রকল্পে ট্রিলিয়ান রুবল বরাদ্ধ দেওয়া হবে।মেদভেদেভের ভাষায়,বিগত ২ বছরে রাষ্ট্রীয় উদ্ভাবনী ও বৈজ্ঞানিক গবেষনা যা কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।তিনি বলছেন, ‘বিগত বছরগুলোতে আমরা ওই সব খাতে সরকারি বরাদ্ধ যথেষ্ট বৃদ্ধি করেছি এবং বর্তমানে রাশিয়া উদ্ভাবনী শিল্পে অর্থ বিনিয়োগে শীর্ষে থাকা ১০টি দেশের তালিকার ৮ম স্থানে রয়েছে।ওই তালিকায় থাকা অন্যান্য দেশগুলো হলোঃ যুক্তরাজ্য,ফ্রান্স,ইতালি ও কানাডা ইত্যাদি।এটি খুবই ভাল’ ।

দিমিত্রি মেদভেদেভ উল্লেখ করেন,গত কয়েক বছর ধরে রাশিয়ায় বৈজ্ঞানিক গবেষনার কাজ বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তরুন গবেষকদের জন্য রয়েছে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় বৃত্তি।যেমন,রাশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে রয়েছে ‘সুপার স্কলারশীপ’ প্রোগ্রাম যা বিশ্ব বরন্য বিজ্ঞানীদের নামে তরুন গবেষকদের দেওয়া হয়।রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট বলছেন, ‘যেহেতু স্কোলকোভার বর্তমানে নির্মাণ কাজ চলছে এবং এর মধ্যেই কিছুটা অগ্রসর আমরা দেখতে পাচ্ছি।তাছাড়া আইনগত বিষয়গুলি নিয়েও কাজ করতে হয়েছে যা খুবই প্রয়োজন।যে কোন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম চালু করতে হলে সাধারণ নীতিমলা নির্ধারন করতে হয় এবং যে বিষয়ে আমরা আজ কথা বলছি।প্রশাসনিক বিধিবিধান কমিয়ে আনা ও কর প্রদানের বিষয়টিও ঠিক করা হয়েছে।এটি আন্তর্জাতিক মানের একটি প্রকল্প,যেখানে বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠানগুলো অংশ নিবে।আমরা তাদেরকে আমন্ত্রন জানাচ্ছি যেন তারা এখানে এসে তাদের প্রয়োজনীয় কাঠোমো ও কাজের উপযোগি পরিবেশ তৈরী করে নেয়।আমি বিখ্যাত যে সব প্রতিষ্ঠান মনে করছি তাদের মধ্যে রয়েছেঃসিমেন্স,সিসকো,মাইক্রোসফট,ইন্টেল,নোকিয়া ইত্যাদি’।

দিমিত্রি মেদেভেদেভ একই সাথে উদ্ভাবনী ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত বিনিয়োগের পরিমান তেমন বৃদ্ধি না পাওয়ার কথা উল্লেখ করেছেন।যেমনঃরাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর অন্তর্গত উফিম বৈজ্ঞানিক সেন্টারের গবেষক লিলিয়া আনিসিমোভা বলেন,বেসরকারি উদ্যোক্তরা সবসময় নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে অর্থ বিনিয়োগ করতে চায় না।লিলিয়া গত ৮ বছর ধরে চাষাবাদ জমির উর্বরতার জন্য ব্যাকটেরিয়া চাষ করছেন।এক্ষেত্রে লিলিয়া নিজের উদাহরন দিয়ে বলেন, ‘এই ব্যাকটেরিয়া একটি জৈবিক ঔষধি যা ভাল কীট থেকে তৈরী করা হয়।ওই ব্যাকটেরিয়া মাটির বিষাক্ত সবকিছুকে ধ্বংস করে।তাদের জন্য ওগুলি হচ্ছে খাদ্য।আমরা যখন ব্যাকটেরিয়াগুলো মাটিতে ফেলি তখন ওরা নিজেরাই চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে,ওরা বিষাক্ত সবকিছু খাওয়ার পর নিজেরাই মারা যায়’।

মেক্সিকোসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এই প্রক্রিয়া অনুসরন করা হচ্ছে।কিন্তু রাশিয়ার কৃষকরা এখনও এই প্রক্রিয়া চাষাবাদে ব্যবহার করছেন না।লিলিয়া প্রস্তাব দিয়ে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট যে সবজি খায় সেই শাখসবজির পরিবেশগত বিশুদ্ধতা পরীক্ষা করে তিনি বিস্তারিত টুইটারে জানাবেন।পুষ্টিকর ফসল চাষাবাদ কতটা গুরুত্বপূর্ণ তা কৃষকরা এরপরই অনুধাবন করবেন এবং আমাদের কাজের প্রতি আগ্রহ দেখাবেন’ ।

দিমিত্রি মেদভেদেভ নিজের বক্তব্যে বলেন,ব্যাবসায় চিন্তাধারাকে পরিবর্তন  ও উদ্ভাবনীকে ব্যবহার করার আহবান জানান।হয়তবা তাই জীবনকে এগিয়ে নিয়ে যাবে।