রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি বিশেষজ্ঞদের আহ্বান করেছেন মস্কো শহরে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ কেন্দ্র তৈরীর প্রকল্প নিয়ে খোলাখুলি মূল্যায়ণ করতে. “আমার ইচ্ছা হয় যে, আপনারা সত্ভাবে বলেন কোনটা আমরা ঠিক করছি, আর কোনটা তা নয়”, - এই ভাবেই দিমিত্রি মেদভেদেভ আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ কেন্দ্র প্রকল্পের বিষয়ে রুশ রাজধানীতে তাঁদের প্রথম আলোচনা সভাতে আন্তর্জাতিক পরামর্শদাতা পরিষদের প্রতিনিধিদের প্রতি আবেদন করেছেন.

     মস্কো শহরে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ কেন্দ্র তৈরীর প্রয়োজন সরকারি ভাবে সেই ২০০৮ সালেই ঘোষণা করা হয়েছিল. তখনই সেই অর্থনৈতিক সঙ্কটের চূড়ান্ত সময়েই স্পষ্ট দেখা গিয়েছিল যে, দেশে বিনিয়োগকারী ও যাঁরা মূলধন সংগ্রহে আগ্রহী, তাঁদের জন্য একটা কেন্দ্র তৈরী করার আশু প্রয়োজন রয়েছে. বিশ্বের অর্থনীতির জন্য আজও সময় আগের মতই সহজ নয়, এই কথা উল্লেখ করেছেন দিমিত্রি মেদভেদেভ. “কিন্তু তা সত্ত্বেও আমরা আগের মতই আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ কেন্দ্র তৈরীর বিষয়ে বেশী করে স্থির প্রতিজ্ঞ হয়েছি” – বিশেষ করে বলেছেন রাষ্ট্রপতি.

     “আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ কেন্দ্রের প্রকল্প রাশিয়াতে এখনও শেষ অবধি তৈরী করা হচ্ছে, এর মধ্যেই একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা তার সফল বাস্তবায়নের জন্য সহায়তা করবে. অংশতঃ, এখানে কথা হচ্ছে আমাদের দুটি বৃহত্তম অর্থ বাজারের সম্মিলনের. আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ কেন্দ্র তৈরী করা আমাদের দেশের অর্থনীতিকে এক গুণগত ভাবে নতুন স্তরে উন্নীত করবে, নতুন কাজের জায়গা তৈরী করে দেবে, নতুন বাজারে জায়গা করে দেবে”.

     রুশ রাষ্ট্রপতি যেমন স্বীকার করেছেন, প্রথম অধিবেশনে আসা সমস্ত বিশেষজ্ঞরা খোলাখুলি ভাবেই তাঁদের মন্তব্য করেছেন ও সম্ভাব্য ভুলের বিষয়ে নির্দেশ করেছেন. ব্ল্যাকস্টোন গ্রুপ বিনিয়োগ কেম্পানীর কার্যকরী প্রধান স্টেফান শোয়ার্ত্সমান রাশিয়াকে ব্যক্তি মালিকানায় জাতীয় সম্পত্তিকে পরিনত করার পথেই চলতে বলেছেন. এছাড়া, বিদেশী বিনিয়োগকারীরা প্রস্তাব করেছেন সরকারি ভাবে ঋণপত্র বাজারে আনতে, যার মাধ্যমে ব্যক্তি মালিকানায় পরিনত হওয়া কোম্পানীর শেয়ার পাল্টে নেওয়া যাবে. আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ কেন্দ্রের স্বাভাবিক কাজের জন্য খুবই শক্তিশালী আইনের ভিত্তি ও প্রশিক্ষিত কর্মী তৈরী করার প্রয়োজন, এই কথা ঘোষণা করেছেন জে পি মরগ্যান চেস কোম্পানীর কার্যকরী পরিষদের সভাপতি ও কার্য়করী প্রধান জেমস ডাইমন. তিনি আরও উল্লেখ করেছেন – “যদি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ কেন্দ্র গড়ে তুলতে চান, তাহলে সমালোচনা শুনতে হবে, আর খুবই শক্তিশালী আর্থ বিনিয়োগের রাজনীতি করতে হবে”.

     আলোচনা শেষ হয়েছে এক আশাব্যঞ্জক সুরে: “রাশিয়া এক বড় দেশ, আর তার পক্ষে সম্ভব শক্তিশালী আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ কেন্দ্র তৈরী করা”. আন্তর্জাতিক পরামর্শদাতা পরিষদের সভায় অংশগ্রহণকারীরা  এই সিদ্ধান্তেই উপনীত হয়েছেন.