২৮শে অক্টোবর ২০১১ –রাশিয়ার সাংস্কৃতিক জীবনে এক উত্সবের দিন. এই দিনে আবার কাজ করতে শুরু করছে মস্কো শহরের বলশয় থিয়েটারের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাগৃহ. আজ এখানে বিশ্বের বিখ্যাত বহু তারকা শিল্পীরা উত্সব উপলক্ষে আয়োজিত জলসায় অংশগ্রহণ করে ছয় বছর ধরে চলা পুনর্গঠন ও সংস্কারের পরে এর প্রধান মঞ্চের উদ্বোধন করবেন.

     বলশয় থিয়েটারের পুনর্গঠনের কাজ করা হয়েছে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় প্রকল্পের আওতায়, যা রাষ্ট্রপতির প্রশাসন ও মন্ত্রীসভার প্রশাসনের অভিভাবকত্বে করা হয়েছে. সুতরাং এই প্রক্রিয়ার শেষ বিন্দু – ঐতিহাসিক মঞ্চের উদ্বোধন – যেটিকে দেখা হয়েছে  রাষ্ট্রের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ এক ঘটনা হিসাবে. রাশিয়ার নেতৃত্ব, ইউরোপীয় সঙ্ঘের দেশগুলির নেতারা ও স্বাধীন রাষ্ট্রসমূগের নেতৃবর্গ, কূটনৈতিক মিশনের প্রতিনিধিরা – এঁরাই প্রথম সম্মানিত দর্শক হয়ে প্রবেশ করবেন বলশয় থিয়েটারে. বোঝাই যাচ্ছে যে, বলশয় থিয়েটারে আজ আমন্ত্রণ করা হয়েছে এই থিয়েটারের পুনর্নির্মাণ ও সংস্কারের কাজ নিরত থাকা সংস্থা গুলির কর্মী প্রতিনিধিদের, তাঁরা আবার বিদেশ থেকেও আসছেন. এটা যেমন, জার্মানীর “ম্যুল্লের বি বি এম” কোম্পানীর প্রতিনিধিরা, যাঁরা এই মঞ্চের ও প্রক্ষাগৃহের ধ্বনি ব্যবস্থা প্রকল্প তৈরী করেছেন, তেমনই ব্রিটেনের মঞ্চের ব্যালে নাচের মেঝে তৈরী করা “আরলেকিন” কোম্পানীর বিশেষজ্ঞরা ও ফরাসী “ভিলেরয় ও বখ” কারখানার সেরা কারিগরেরা, যারা এখানে প্রধান প্রেক্ষাগৃহের কেন্দ্রীয় এলাকায় মেঝে তৈরী করে দিয়েছেন.

     “এর আগে বলশয় থিয়েটার কখনোই এত বড় ও এত সুন্দর ছিল না আর কখনোই এত বেশী রকমের প্রযুক্তিগত সম্ভাবনা পায় নি”. – এই কথা আজ বলেছেন তাঁরাই, যাঁরা আগের অভিজ্ঞতার সঙ্গে বর্তমানকে মিলিয়ে দেখছেন. একই ধারণা পোষণ করে বলশয় থিয়েটারের জেনেরাল ডিরেক্টর আনাতোলি ইকসানভ বলেছেন:

     “দেশের প্রধান থিয়েটারের এই রকমেরই হওয়া উচিত্ সুন্দর, আড়ম্বর পূর্ণ, মঞ্চে থাকা উচিত্ সর্বাধুনিক প্রযুক্তি. আমাদের যথেষ্ট মহড়া দেওয়ার জায়গা হয়েছে, আর আমরা এখন একই সঙ্গে বেশ কয়েকটি প্রথম অভিনয়ের বিষয় নিয়ে কাজ করতে পারবো. এখানে সৃষ্টি করার জন্য সমস্ত রকমের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যা সত্যিই এবারে আমরা করতে চাই”.

     এই বড় জলসার আয়োজকেরা আজ দেখাতে চাইবেন এই মঞ্চের সমস্ত রকমের সম্ভাবনা, কিন্তু সবার আগে সবচেয়ে বেশী করে দেখাবেন এই দলের সমস্ত শিল্পীদের – যা বিশ্বের অপেরা থিয়েটারের দল গুলির মধ্যে একটি অন্যতম বৃহত্ দল. এই সন্ধ্যায় যা মঞ্চস্থ করা হবে, তাতে অতীতের ও বর্তমানের সাতটি অভিনয়ের এক বিরতিহীণ অংশ রয়েছে. এখানে আজ শুধু রুশ সঙ্গীত পরিবেশিত হবে – এমনকি বিদেশী অপেরা গায়কদের জন্যও আজ কোন ছাড় দেওয়া হয় নি, যাঁরা নিজেদের অমুষ্ঠান দিয়ে আজকের এই জলসার রূপ বর্ধন করবেন.

     নতুন প্রযুক্তিগত সম্ভাবনা সম্বন্ধে বলতে হলে বলা উচিত্ হবে যে, এখানে এখন ভিডিও উপস্থাপনা সম্ভব হবে, যেটি বলশয় থিয়েটারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠানের আমন্ত্রিত পরিচালক দিমিত্রি চেরনিয়াকভ নিজের পরিকল্পনায় ব্যবহার করেছেন, তিনি বলেছেন:

     “এই অনুষ্ঠানে থিয়েটারের অভিনয় অংশের উপরে জোর দেওয়া হচ্ছে না, কারণ এটা জয়ন্তী অনুষ্ঠান নয়, কারণ থিয়েটার আবার করে কাজ শুরু করছে না – এই ছয় বছর ধরেই থিয়েটার কাজ করেছে. এই অনুষ্ঠানের কেন্দ্র বিন্দু হল, থিয়েটার সেই মঞ্চেই ফিরে আসছে, যেখানে তার থাকার কথা. আর এই বড় জলসার সময়ে এই প্রেক্ষাগৃহ সম্বন্ধেও বলা হবে. আমরা অনেক মনোযোগ দিচ্ছি, মঞ্চের নেপথ্য কি রকমের হবে তাই নিয়ে, মঞ্চের নতুন সম্ভাবনা ও তার ১৭৭৬ সালে শুরু হওয়ার পর থেকে ইতিহাসের দিকে. এখানে ফিরে দেখার ব্যবস্থা – খুবই গুরুত্বপূর্ণ অংশ, কারণ আমাদের যেমন মনে হয়েছে যে, আজকের দিনে প্রধান হল – ঐতিহাসিক স্থানে প্রত্যাবর্তন”.

     আমন্ত্রিত উচ্চপদস্থ সাক্ষী অতিথিদের সাথে, আজকের এই অনুষ্ঠান দেখতে পাবেন বহু কোটি মানুষ সারা বিশ্ব জুড়েই. এই জলসা সরাসরি প্রচার করা হবেবিশ্বের ৩৬টি দেশে, তার মধ্যে রয়েছে লাতিন আমেরিকা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও জাপান. রাশিয়ার দুটি বৃহত্তম জাতীয় চ্যানেলও দেশের সর্বত্র প্রচারের জন্য এই অনুষ্ঠান সরাসরি দেখাবে. আর বহু লক্ষ মানুষের ইন্টারনেট দর্শকেরা, ইউটিউব ব্যবহার করে অন লাইনে এই অনুষ্ঠান দেখতে পাবেন.