রাশিয়ার যোগাযোগের ব্যবস্থা ও তথ্য প্রযুক্তি বিশ্বের বাজারে আরও বেশী করে জনপ্রিয় হতে চলেছে. জেনেভা শহরের ২৪ থেকে ২৭শে অক্টোবর "টেলিকম – ২০১১" বিশ্ব টেলি যোগাযোগ প্রদর্শনীতে রাশিয়ার উত্পাদকেরা নিজেদের প্রযুক্তির জন্য শুধু ইতিবাচক প্রশংসাই পান নি, বরং বিশাল অঙ্কের চুক্তিও করতে পেরেছেন.

    প্রদর্শনীতে দেখানো রাশিয়ার নতুনত্বের মধ্যে, বিশেষ করে মনোযোগ আকর্ষণ করতে পেরেছে যে কোন ধরনের মিডিয়া কনটেন্টের অ্যাক্সেস পাওয়ার জন্য বিশেষ প্রযুক্তি. এই গুলির মাধ্যমে টেলিফোন করা যেতে পারে, টেলিভিশনের থেকে ছবি পাওয়া যেতে পারে ও এই পরিষেবার জন্য দামও দেওয়া যেতে পারে. একই যন্ত্রের মধ্যে এত রকমের কাজ করার সম্ভাবনা আছে এমন কোন প্রযুক্তি বিশ্বের কোথাও নেই, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার তথ্য ও জনসংযোগ মন্ত্রণালয়ের তথ্য সচিব এলেনা লাশকিনা বলেছেন:

    "প্রদর্শনীতে রাশিয়ার উদ্ভাবনী প্রযুক্তি নিয়ে যাওয়া হয়েছে বাস্তব সময়ে ধ্বনি ও সচিত্র তথ্য সরবরাহের ব্যবস্থা "রাভিস", যা বহু গুণে রেডিও তরঙ্গের ব্যবহার বৃদ্ধি করতে সক্ষম হয়েছে, প্রোগ্রাম গুলির পরিমান ও গুণ বৃদ্ধি করতে পেরেছে, "বৈদ্যুতিন প্রশাসন" নামের প্রকল্প, "QWERTY" মিডিয়া সেন্টারের ইন্টারনেটে রেডিও সম্প্রচারের প্রযুক্তি, একই সঙ্গে বর্তমানের বিশ্বে তুলনাহীণ. জেনেভা শহরে রাশিয়ার প্রদর্শনীর মুখ্য উদ্দেশ্যই হল – আধুনিক তথ্য প্রযুক্তি পেশ করা, যা বিস্তৃত ভাবে বহু লোকের কাজে লাগবে".

    যদি "বৈদ্যুতিন প্রশাসন" প্রকল্প নিয়ে একটু বিশদ করে বলা হয়, তবে প্রদর্শনীতে এর সম্বন্ধে উত্সাহ দেখিয়েছেন বেশ কয়েকটি দেশ, তার মধ্যে প্রাথমিক ভাবে রয়েছেন তাঁরা যাঁদের বর্তমানে এই ধরনের কাজ করার মতো বিনিয়োগের ক্ষমতা নেই. রাশিয়ার তথ্য ও জনসংযোগ মন্ত্রী ইগর শ্যেগলেভের কথামতো সবটাই এখন দামের প্রশ্ন. রাশিয়াতে বৈদ্যুতিন প্রশাসন তৈরী করেতে খরচ করা হয়েছে ছয় কোটি ডলার, যা অন্যান্য দেশের চেয়ে অনেক কম. আমরা কম খরচে প্রশ্নের সমাধান বের করতে পারি. মন্ত্রী বিশ্বাস করেন যে, সেই বৈদ্যুতিন প্রশাসন, "যা আমরা তৈরী করতে পেরেছি, তা যেমন দামে কম, তেমনই বেশী ফলপ্রসূ, আর বেশী আধুনিক". তুলনা করার জন্য এস্তোনিয়া একই ধরনের প্রকল্পের জন্য খরচ করেছে একশো পঞ্চাশ কোটি ডলার, আর সিঙ্গাপুর – এক হাজার পাঁচশো কোটি ডলার, অবশ্য এই কথা সত্য যে, তা করা হয়েছে দশ বছর ধরে.

    জেনেভাতে বাইরের দেশের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে রাশিয়ার কৃত্রিম উপগ্রহ গুলিও. যেমন ব্রিটেনের উপগ্রহ সঞ্চার ব্যবস্থা এখন থেকে নিজেদের পরিষেবা নিকট প্রাচ্যে রুশ উপগ্রহ "এক্সপ্রেস – এ – এম – ৪৪" ব্যবহার করে, দেবে. এই উপগ্রহের কাজের মেয়াদ হিসেব করা হয়েছে ১২ বছর, তা ব্যবহার করা হবে টি ও রেডিও প্রচারের জন্য, আর তাছাড়া টেলি যোগাযোগ ও ব্রড ব্যান্ড ইন্টারনেট যোগাযোগ দেওয়ার জন্য. "টেলিকম – ২০১১" প্রদর্শনীতেই ব্রিটেনের লোকেরা রুশ কোম্পানীর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি স্বাক্ষর করেছে. "আমরা বিশ্বাস করি যে, এটাই শেষ হবে না" – ঘোষণা করেছেন রাশিয়ার উপগ্রহ নির্মাণ কোম্পানীর প্রতিনিধি, - আর বছর ঘোরার আগেই আরও দুটি উপগ্রহের বরাত পাওয়ার জন্য চুক্তি অপেক্ষা করে রয়েছে.