ইউরো এলাকার জন্য সঙ্কট প্রতিরোধের পরিকল্পনা গৃহীত হয়েছে. সন্ধ্যার শুরুতে মনে হয়েছিল যে, পরবর্তী ত্রাণ উদ্দেশ্যে করা শীর্ষবৈঠক আবারও নিষ্ফলা হতে চলেছে. কিন্তু সারা রাত ধরে বৈঠকের পরে এই এলাকার দেশ গুলির নেতারা ইউরো এলাকার জন্য নির্দিষ্ট পদক্ষেপের বিষয়ে সহমতে আসতে পেরেছেন. এখন মুখ্য প্রশ্ন হল তাঁদের এই পরিকল্পনাকে কার্যকরী করার জন্য মানসিকতা থাকবে কি না – এটাই উল্লেখ করেছেন বিশেষজ্ঞরা.

    শীর্ষবৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা কিছু প্রধান প্রশ্নে বোঝাপড়া করতে পেরেছেন ব্যাঙ্ক গুলির মূলধন বাড়ানো, ইউরোপের স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য তৈরী তহবিলের পরিমান বাড়ানো ও গ্রীস দেশের ঋণের কাঠামো সংশোধন. ব্যাঙ্ক গুলির সম্মিলিত মূলধন বৃদ্ধি করা হতে চলেছে দশ হাজার কোটি ইউরোর চেয়েও বেশী. ইউরোপীয় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা তহবিলের পরিমান বাড়ানোর সিদ্ধান্ত করা হয়েছে এক লক্ষ কোটি ইউরো পর্যন্ত (সামান্য আগেই এই ধরনের সংখ্যাকে মনে করা হয়েছিল খুবই বেশী রকমের আশাবাদী বলে). তহবিল এক ধরনের অর্থনৈতিক ধাক্কা সামলানোর ব্যবস্থা – যা তৈরী করা হয়েছে ইউরো অঞ্চলে সঙ্কট ছড়িয়ে পড়া থামানোর জন্য. এর অর্থ ব্যবহার করেই সঙ্কট অবস্থায় থাকা ইতালি ও স্পেনের ঋণপত্রের উপরে বিশ্বাস বাড়ানোর জন্য গ্যারান্টি দেওয়া হবে. তাছাড়া বিশেষ ধরনের কোম্পানী তৈরী করার জন্যও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যেখানে এই ইউরোপীয় অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা তহবিল নিজের অর্থ বিনিয়োগ করবে. রাশিয়ার হায়ার স্কুল অফ ইকনমিক্সের বিশ্ব অর্থনীতি ও রাজনীতি বিভাগের প্রফেসর ম্যাক্সিম ব্রাতেরস্কি এই বিষয়ে মন্তব্য করে বলেছেন:

    "কে এই লক্ষ কোটি ইউরো দেবে? কারণ সকলেই জানে যে, ইউরো অঞ্চলের প্রধান দাতা দেশ – এটা প্রাথমিক ভাবে জার্মান জাতি. তাই এই তহবিল সম্বন্ধে সিদ্ধান্ত বেশী করে ছিল জার্মান রাজনীতিবিদদের হাতেই. জার্মান অর্থনীতিই নিজের পিছনে এই ভারের বোঝা বয়ে নিয়ে যাবে. আর জার্মানীর কর দাতার কাছে একেবারেই বোধগম্য নয়, কেন তাকেই, ঘর্মাক্ত শরীরে, সেই গ্রীক দের জন্যই দাম দিতে হবে. তাই তহবিল নিয়ে প্রযুক্তি গত সিদ্ধান্ত হয়েছে. কিন্তু রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত খুবই কঠিন হয়েছে নেওয়া".

    বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে, "গ্রীসের প্রশ্ন" বলা যেতে পারে একেবারেই টেনে হিঁচড়ে করা হয়েছে. বৈঠকের আগেই দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস সংবাদপত্রে এথেন্সের ঋণ দাতা ব্যাঙ্কের উত্স উল্লেখ করে ঘোষণা করেছিল যে, ঋণের শতকরা ৫৫ শতাংশ মাপ করে দিলেই দেউলিয়া হওয়া ও অপরিবর্তন যোগ্য পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে. ২৬শে অক্টোবর সন্ধ্যায় আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ ইনস্টিটিউট ব্যক্তিগত ঋণ দাতাদের তরফ থেকে ঘোষণা করেছিল যে, "ঋণ মকুব করা নিয়ে কোন সহমতে পৌঁছনো সম্ভব হয় নি". এর ৮ ঘন্টা পরেই জানা গেল যে, গ্রীক দের তাও প্রায় এক হাজার কোটি ইউরোর বেশী অর্থ মকুব করে দেওয়া হয়েছে. এখানে উল্লেখ যোগ্য হয়েছে ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি নিকোল্যা সারকোজির ঘোষণা: "ঋণ দাতাদের এই শীর্ষবৈঠকে আলোচনার জন্য ডেকে আনা হয় নি, বরং তাঁদের ডাকা হয়েছে ইতিমধ্যেই নেওয়া সিদ্ধান্ত জানাতে". এই ভাবেই ইউরোপের নেতারা তাঁদের প্রযোজনীয় মনের জোর ও কঠোর মনোভাব প্রকাশ করেছেন. কিন্তু এই ব্যবস্থা গুলি হবে সমস্যাকে ঢেকে রাখার জন্যই, যদি না ঋণের সমস্যাকে ব্যবস্থাগত ভাবে সমাধান করা হয়, এই কথা উল্লেখ করে প্রফেসর ম্যাক্সিম ব্রাতেরস্কি বলেছেন:

    "এই সবই ক্ষণিকের সিদ্ধান্ত, যদি না ইউরোপীয় সঙ্ঘের মধ্যেই বিনিয়োগ সংক্রান্ত নিয়মাবলী নেওয়ার ব্যবস্থা না করা হয়. অর্থাত্ ইউরোপের সম্মিলিত অর্থ মন্ত্রণালয় তৈরী না করা হয়, যারা নিয়ন্ত্রণ করবে, অংশতঃ সেটাও যে, দেশ গুলি কতটা ঋণ করবার অধিকার রাখে. বাস্তবে এই সবই সঙ্কটের একটা চাপা দেওয়ার ব্যবস্থা. এটা বিরাট গর্ত বন্ধ করার প্রয়াস, যা নির্দিষ্ট ভাবে গ্রীস সম্বন্ধেই কিছু সময়ের জন্যই পরিস্থিতিকে সামাল দেয়. কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী সিদ্ধান্ত আপাততঃ দেখা হচ্ছে না".

    সকলের কাছে এই সমস্ত অর্ধ ব্যবস্থা বোধগম্য হলেও, সেই গুলি নেওয়া হয়েছে আশাবাদী হয়েই. জার্মানীর চ্যান্সেলার অ্যাঞ্জেলা মেরকেল এই শীর্ষবৈঠকে ফলাফল নিয়ে বলতে গিয়ে উল্লেখ করেছেন যে, "আমরা অপেক্ষার ফল দিতে পেরেছি". রুশ রাষ্ট্রপতির সহকারী আর্কাদি দ্ভরকোভিচ ঘোষণা করেছেন যে, "সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা খুব অল্পের জন্য হলেও প্রয়োজনীয়, আর, মনে করি শেয়ার বাজার সেই সিদ্ধান্তগুলির সম্বন্ধে যথেষ্ট রকমই প্রতিক্রিয়া দেখাবে". এশিয়ার বাজার গুলি প্রথম এই ভবিষ্যদ্বাণী সমর্থন করেছে. বৃহস্পতিবারে খোলার পরেই সেখানে সূচক গড়ে এক শতাংশ বেড়েছে.