মঙ্গলবারে ভারতের প্রশাসন এক ভাগ্য নিয়ন্ত্রক সিদ্ধান্ত নিয়েছে: দেশে আগামী দশ বছরের মধ্যে শিল্প ক্ষেত্রে দশ কোটি কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা করার. বেকারত্ব নিয়ে সমস্যার সমাধান ছাড়া প্রশাসনের এটা প্রচেষ্টা হল দেশে শিল্প উত্পাদনের পরিমান সার্বিক জাতীয় আয়ে বর্তমানের ষোল শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৫ শতাংশ করা. আর এই লক্ষ্য পূরণের জন্য সৃষ্টি করা হতে চলেছে সাতটি জাতীয় বিনিয়োগ ও উত্পাদন এলাকা.

    চিনে এটা করা হয়েছে, জার্মানীতেও করা হয়েছে, এবারে ভারতবর্ষ এটা তৈরী করতে চলেছে – এই কথা ভারতের টাইমস অফ ইন্ডিয়া সংবাদপত্রকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বলেছেন দেশের বাণিজ্য, বয়ন ও শিল্প মন্ত্রী শ্রী আনন্দ শর্মা. আসলে এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় অনেক আগেই হয়েছে, এই কথা বলেছেন রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি, তিনি বলতে চান:

    "ভারতবর্ষের অর্থনৈতিক উন্নয়নের হার বিগত বছর গুলিতে স্থিতিশীল ভাবে প্রতি বছরে শতকরা সাত শতাংশ হয়েছে জাতীয় সার্বিক উত্পাদনের হারে, যদিও বিগত কালে তা কিছু ঢিলে দিয়েছে. সার্বিক জাতীয় আয়ের ষোল শতাংশ, যা দেশের শিল্প ক্ষেত্র থেকে আজ করা হচ্ছে, তা ভারতের মতো এই ধরনের দ্রুত উন্নতিশীল দেশের জন্য খুবই কম – কারণ এই দেশ এশিয়ার তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ, যারা তাদের অধিকারেই আগামী কুড়ি বছরের মধ্যে বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হতে চায়. তুলনার জন্য – ভারতের বেশীর ভাগ প্রতিবেশী দেশেরই সার্বিক জাতীয় আয়ের শতকরা ২৫ থেকে ৪২ শতাংশ আসে শিল্প উত্পাদন থেকে, রাশিয়াতে তা শতকরা ২৬ শতাংশ, আর চিনে কিছু তথ্য অনুযায়ী শতকরা ৪২ শতাংশ অবধি".

    একই সঙ্গে ভারত সরকারের সিদ্ধান্ত বহু প্রশ্নের উপস্থাপনা করেছে বলে মনে করে বরিস ভলখোনস্কি যোগ করেছেন:

    "দশ বছরে দশ কোটি কর্ম সংস্থান – এটা কম না বেশী? বোঝাই যাচ্ছে যে, ভারত ও চিন বাদ দিয়ে যে কোন দেশের জন্যই এই সংখ্যা আশ্চর্য করে দিতে পারে. কিন্তু ভারতের বর্তমান জনসংখ্যা ১২০ কোটির বেশী মানুষের পরিপ্রেক্ষিতে ও যেখানে প্রত্যেক বছরে কর্ম উপযোগী লোকের সংখ্যা বাড়ছে দুই কোটি করে, সেটা প্রায় কিছুই নয়. তাই এই ধরনের বিশাল পরিকল্পনাও দেশের সমস্ত বেকার সমস্যার সমাধান করতে পারবে বলে তো মনে হয় না.

    তাছাড়া, মনোযোগ আকর্ষণ করে যে, এই ধরনের বিশাল প্রসারিত পরিকল্পনার কথা ঘোষণা করা হয়েছে বর্তমানের সরকারের পক্ষে কঠিন এক সময়ে. দুর্নীতির বিরুদ্ধে সংগ্রাম খুবই বড় ধাক্কা দিয়েছে জনতার দিক থেকে বর্তমানের শাসক দল ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের সমর্থনকে, আর ২০১২ সালের শুরুতেই হতে চলেছে দেশের খুবই গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচন. তাই অনেক পর্যবেক্ষকই প্রশ্ন তুলেছেন: এটা কি আসলে প্রাক্ নির্বাচনী প্রচার নয়, যা শাসক দলের প্রতি নেতিবাচক মনোভাবের ঝোঁককে দূর করার জন্য করা হয়েছে"?

    দুর্নীতি দেশের প্রশাসনের সমস্ত পরিকল্পনাতেই খুব প্রভাব ফেলতে পারে. বিগত মাস গুলিতে দেশের কোন না কোন জায়গায় বড় মাপের শিল্প তৈরী করতে যাওয়া প্রায় সময়েই ধাক্কা খেয়েছে স্থানীয় কর্তা ব্যক্তিদের প্রতিরোধে, যারা বড় কোন নীতি থেকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন নি, শুধু পরিস্কার "ঘুষ" চেয়েছেন, তাদের জমিতে শিল্প গড়তে দেওয়ার শুরুর জন্য. কিন্তু নিজেদের দাবী তারা আবৃত করেছেন জনতার মিছিল, বিদ্রোহ দিয়ে, "গরীব কিষানের বাস্তু থেকে বড় ব্যবসার স্বার্থের কারণে উচ্ছেদ করা হচ্ছে বলে". আপাততঃ শ্রী আনন্দ শর্মা যেমন বলে দিয়েছেন যে, "এই ধরনের শিল্প নগরী তৈরী হবে খালি পড়ে থাকা বন্ধ্যা জমিতে, যেখানে চাষ বাস করা সম্ভব নয়, পরিবেশ সংক্রান্ত সমস্যা আছে এমন এলাকার থেকে দূরে আর প্রধান রসদ উত্পাদনের অঞ্চল থেকে যুক্তি সঙ্গত দূরত্বের মধ্যেই". কিন্তু এরই সঙ্গে আরও একটি প্রশ্ন জড়িয়ে আছে: কি করে ভারত সরকার এই বিশেষ জায়গায় কাজের লোকদের টেনে আনবেন? ভারতের জনসংখ্যার বিপুল বৃদ্ধি বিগত বছর গুলিতে এক বিরাট পরিবর্তন এনেছে ঘনত্বে: দেশের লোকেরা অনেক বেশী করে আজ গ্রাম ছেড়ে রোজগারের আশায় বড় শহরের দিকে চলেছেন ও সেখানেই বাসা বাঁধছেন. যদি এই ধরনের জায়গা গুলি দেশের অর্থনৈতিক ভাবে পেছিয়ে থাকা জায়গাতে হয়, তবে সেখানে শহর ছেড়ে বেকার লোকেরা যাবেন কি? আর যদি ইতিমধ্যেই বেড়ে ওঠা বড় শহরের কাছে এই জায়গা গুলি হয়, তবে এটা কি আরও বেশী করে জনসংখ্যার ঘনত্বে পরিবর্তন আনবে না ও দেশের মধ্যেই উন্নতির বিষয়ে নানা রকমের অসাম্য তৈরী করবে না?

    শেষের প্রশ্নটি, যেটি পরিবেশের সমস্যার সঙ্গে জড়িত, যার কথা শ্রী আনন্দ শর্মা আশ্বাস দিয়ে শান্ত করতে চেষ্টা করেছেন যে, এই ধরনের জায়গা গুলি হবে পরিবেশ সমস্যা থেকে দূরে এলাকায়, তাও সন্দেহ নেই যে, শিল্প ক্ষেত্র বাড়লে পরিবেশ গত সমস্যার জন্য পরবর্তী কালে বৃদ্ধির কারণই হয়ে দাঁড়াবে.

    বিশাল পরিকল্পনার ঘোষণা করা – অর্ধেক বিষয়. আর তা কি করে করা হবে, আপাততঃ বলা খুব কঠিন.