মস্কো শহরে ৭ই অক্টোবর ২০১৩ সালে শীত অলিম্পিকের আগুণ নিয়ে দৌড় শুরু হয়ে ২০১৪ সালের ৭ই ফেব্রুয়ারী সোচী শহরে এই প্রতিযোগিতার শুরুর দিনে শেষ হবে. এই বিষয়ে জানিয়েছেন আয়োজক পরিষদের সভাপতি দিমিত্রি চেরনীশেঙ্কো.

     অলিম্পিক আগুণ নিয়ে এই দৌড় ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ দিনের ও তা সারা দেশ জুড়েই হতে চলেছে, আর তাতে অংশ নিতে পারবেন রাশিয়ার জনগনের অধিকাংশই. চেরনীশেঙ্কো বলেছেন এই দৌড় হবে ১২৩ দিন. তার দৈর্ঘ্য চল্লিশ হাজার কিলোমিটারেরও বেশী, যা বিষুবরেখার দৈর্ঘ্যের সঙ্গে তুলনার যোগ্য.

    রুশ দেশের ৮৩টি রাজ্যের সব কটির রাজধানী দিয়েই আগুণ নিয়ে যাওয়া হবে. এই দৌড় হবে চার অধ্যায়ে. প্রথমটি শুরু হবে ২০১৩ সালের ৭ই অক্টোবর. যখন গ্রীস দেশের এথেন্স শহর থেকে পবিত্র আগুণ মস্কোতে আনা হবে ও তার পরে গাড়ীর দৌড়ে নিয়ে যাওয়া হবে সেন্ট পিটার্সবার্গ পর্যন্ত. ২৩ দিন সময় দেওয়া হয়েছে এই অধ্যায়ের, এই সময়ের মধ্যে কেন্দ্রীয় ও উত্তর পশ্চিম অঞ্চলের প্রধান পনেরোটি শহরে এই আগুণ নিয়ে যাওয়া হবে, তার পথে পড়বে অগুন্তি ছোট বড় জনপদ. দ্বিতীয় অধ্যায়ে আগুণ নিয়ে যাওয়া হবে বিমান চড়িয়ে সেন্ট পিটার্সবার্গ থেকে ভ্লাদিভস্তক, সেখান থেকে শুরু হবে রুশ দেশের উত্তর ও সুদুর পূর্ব দিকে তিরিশ দিনের যাত্রা. এই অধ্যায় ১৪ টি শহর দিয়ে যাবে, তার মধ্যে থাকবে রাশিয়ার সবচেয়ে দূর গম্য জায়গা. ভ্লাদিভস্তক ফিরে এলে, আগুণ যাবে তার তৃতীয় অধ্যায়ের ও সবচেয়ে দীর্ঘ দিনের যাত্রায় – ট্রেনে চেপে কালমিকি রাজ্যের রাজধানী এলিস্তা পর্যন্ত. ৫৮ দিন ব্যাপী এই যাত্রা, যা আয়োজকেরা স্থির করেছেন, তাতে আগুণ দেখতে পাবেন ৪৫টি প্রধান শহরের লোকেরা. আর শেষ পর্যায়ে, চতুর্থ অধ্যায়ে, অলিম্পিকের মশাল এলিস্তা থেকে গাড়ী করে দেশের দক্ষিণ দিক দিয়ে গিয়ে ৭ই ফেব্রুয়ারী ২০১৪ সালে পৌঁছবে অলিম্পিক প্রতিযোগিতা শুরু ঠিক আগে সোচী শহরে. আয়োজকেরা হিসেব করে দেখেছেন যে, এই মশাল দেশের প্রায় দুই হাজার জনপদ দিয়ে যাবে.

    ২০১৩ – ২০১৪ সালে দেশের প্রতিটি অঞ্চলেই এক – দেড় দিন ধরে সুযোগ হবে নিজেদের অলিম্পিকের কেন্দ্র হিসাবে অনুভব করার, এই কথা উল্লেখ করে রুশ প্রজাতন্ত্রের উপ প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি কজাক বলেছেন:

    "দুই বছরেরও কম সময়ের মধ্যে রাশিয়াতে শুরু হতে চলেছে অলিম্পিক আগুনের রিলে দৌড়. এটা এক বিরল সুযোগ রুশ প্রজাতন্ত্রের সমস্ত অঞ্চলের জন্যই, শুধু খেলাধূলার প্রতিই বিশেষ মনোযোগ দেওয়ার জন্য নয়, শুধু নিজেদের সাংস্কৃতিক বহুত্বের রূপ প্রকাশের জন্যই নয়, প্রতিটি এলাকার সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরার জন্যই নয়, বরং নিজেদের এলাকায় বিনিয়োগের, পর্যটনের সম্ভাবনাকেও বিকশিত করার. অলিম্পিক প্রতিযোগিতার দর্শকের সংখ্যা তিনশো কোটি লোকেরও বেশী. আর এই পরিস্থিতিকে ব্যবহার না করা প্রত্যেক অঞ্চলের জন্যই অসমীচীন".

0    রিলে দৌড়ের আয়োজকদের কথামতো, অলিম্পিকের আগুণ এবারে যাবে – বিশ্বের সবচেয়ে গভীর হ্রদ বৈকালে, ইউরোপের সবচেয়ে উঁচু পাহাড়ের শীর্ষে – এলব্রুস চূড়ায়, উত্তর মেরুতে. ইতিহাসে প্রথমবার পরিকল্পনা করা হচ্ছে অলিম্পিকের আগুণ কে মহাকাশে পাঠানোর. এখন প্রযুক্তিগত সম্ভাবনা এই বিষয়ে যাচিয়ে দেখা হচ্ছে.