অর্থনৈতিক ভাবে "বড় কুড়িটি" দেশের শীর্ষবৈঠকে রাশিয়া শুধুই ইউরোপীয় এলাকার সঙ্কট নিয়ে আলোচনা করতে চায় না. এই বিষয়ে "রেডিও রাশিয়াকে" দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে ঘোষণা করেছেন রুশ রাষ্ট্রপতির সহকারী আর্কাদি দ্ভরকোভিচ.

    কোন সন্দেহই নেই যে, ইউরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক সঙ্কট ও তার সমাধানের প্রচেষ্টা "বড় কুড়িটি" দেশের বৈঠকের মুখ্য আলোচ্য বিষয় হতে চলেছে. কিন্তু রাশিয়া চেয়েছে অন্যান্য এক গুচ্ছ প্রশ্নের বিষয়ে উদ্যোগী হয়ে বক্তব্য পেশ করতে. তিনি বলেছেন:

    "রাশিয়া এখানে সেই অবস্থান থেকেই বক্তব্য রাখবে, যেটি বিগত তিন বছর ধরেই করে আসছে."বড় কুড়িটি" দেশের সমস্ত দেশ গুলিই এক যোগাযোগ বজায় রেখে রাজনীতি পরিচালন করতে বাধ্য, যা বিশ্বের অর্থনীতিতে একটি স্থিতিশীলতা আনতে সক্ষম. আগে থেকে অনুমেয় ও বুদ্ধি প্রসূত কাজ কর্মই করা উচিত্ হবে, অতিরিক্ত রকমের সংরক্ষণ শীলতা ত্যাগ করতে হবে, যাতে ব্যবসায়িক সক্রিয়তা বজায় রাখা চলে. রাশিয়ার একই সঙ্গে আরও কিছু উদ্যোগ ও প্রস্তাব রয়েছে, তার মধ্যে একটি জড়িত সমুদ্র তল থেকে খনিজ তেল নিষ্কাশন ও তা পরিবহনের সময়ে কোন বিপর্যয় ঘটলে কি করা উচিত্ হবে তাই নিয়ে. তাছাড়া রুশ রাষ্ট্রপতি তাঁর ধারণা নিয়ে বক্তব্য রেখেছেন, কি করে বুদ্ধি প্রসূত সম্পদের সংরক্ষণের উপরে আইনের ভিত্তি তৈরী করা সম্ভব হয়, প্রাথমিক ভাবে ইন্টারনেটে".

    ইউরো এলাকা সম্পর্কে যা বলা যেতে পারে, তা নিয়ে আর্কাদি দ্ভরকোভিচ বিশ্বাস করেন যে, শীর্ষ বৈঠকে গঠনমূলক সিদ্ধান্তই নেওয়া হবে, যা সমস্যার সমাধানে সাহায্য না করলেও, তা বুঝতে সাহায্য করবে. অর্থনৈতিক ভাবে "বড় কুড়ি দেশের" শীর্ষবৈঠক যথেষ্ট ফলপ্রসূ আলোচনার মঞ্চ বলেই মনে করেন আর্কাদি দ্ভরকোভিচ, তাই তিনি আরও বলেছেন:

    "আমার শীর্ষবৈঠক সম্বন্ধে ইতিবাচক মানসিকতা এই কারণে যে, এর প্রত্যেকটি তেই সম্ভব হয়েছে জট খোলার, সিদ্ধান্ত বের করার. অবশ্যই এর যে কোন সিদ্ধান্তই ছিল এক ধরনের বোঝাপড়া. সব জায়গায় আমরা সব করতে পারি নি, যা করতে চেয়েছি. কোথাও এমন অনুভূতি হয় নি যে, আমরা সম্ভাব্য সব করতে পেরেছি. কারণ এটা সত্য যে, আলাদা কিছু দেশের স্বার্থও রয়েছে, যারা আরও ফলপ্রসূ ব্যবস্থা নিতে দেয় না. কিন্তু এটা স্বাভাবিক. ২০টি দেশ, এত সহজ নয় সবার সঙ্গে একমত হওয়া, আর প্রত্যেকেরই নিজেদের আভ্যন্তরীণ রাজনীতির ধারণা রয়েছে. আমরা পরিকল্পিত ভাবে ও নিয়মিত সমস্ত প্রধান দেশের উপরেই চাপ দিয়ে থাকি বাড়তি সিদ্ধান্ত গ্রহণের উদ্দেশ্য নিয়ে".

    কিন্তু আর্কাদি দ্ভরকোভিচ কিছু উদ্যোগ নিয়ে মনে করিয়ে দিয়েছেন, যা এর আগে হওয়া "বড় কুড়ির" শীর্ষবৈঠক গুলিতে নেওয়া হয়েছে, যার বাস্তবায়ন করতে বিগত সময়ে বাধা দেওয়া হয়েছে. তিনি এই ধরনের কাজ থেকে বিরত হতে আহ্বান করেছেন, এই ঘোষণা করে যে, এই সিদ্ধান্ত গুলি সঠিক নেওয়া হয়েছিল, যা অগ্রাহ্য করা ঠিক হবে না, তিনি বলেছেন:

    "এর আগে একটি "বড় কুড়ির" শীর্ষবৈঠকে সহমতে আসা গিয়েছিল যে, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের মূলধন বৃদ্ধি করে বিভিন্ন দেশের বিশেষত উন্নতিশীল দেশ গুলির কোটা নতুন করে বণ্টন করে বাড়ানো হবে. আজ নতুন করে সঙ্কটের আশঙ্কা করে বেশ কিছু ইউরোপীয় সরকারি কর্মচারী বলছেন যে, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করার সময় পেছিয়ে দিতে, বর্তমানের সমস্যা নিয়ে বুঝতে, আর শুধু সেটার সমাধানের পরেই কোটা বণ্টনের ব্যবস্থা করা যাবে. এটা করতে দেওয়া যায় না. আগে নেওয়া সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ করেই, বর্তমানের সমস্যার সমাধান করতে হবে. কানাডার শীর্ষ বৈঠকে সহমতে পৌঁছনো গিয়েছিল যে, বাজেট ঘাটতি ও ঋণের পরিমান আগামী চার বছরের মধ্যে নির্দিষ্ট মাত্রা পর্যন্ত কমানো উচিত হবে. আমরা এখনও ভরসা করতে পারছি না যে, সমস্ত দেশই এই পরিকল্পনাকে বাস্তবায়িত করতে পারবে. আর প্রত্যেক সাক্ষাত্কারে ও প্রত্যেক সম্ভাব্য সুযোগেই আমাদের সহকর্মীদের মনে করিয়ে দিই, চাপ দিয়ে থাকি যে, তাঁরা যেন এই বিষয়ে নিজেদের পরিকল্পনা গুলি প্রকাশ করেন".

এখানে যোগ করবো যে, "বড় কুড়ির" শীর্ষ বৈঠক কান শহরে ৩রা ও ৪ঠা নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে চলেছে. এই বৈঠকের সভাপতিত্ব করবেন ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি নিকোল্যা সারকোজি.