স্ক্যাণ্ডাল করে বিখ্যাত হওয়া সাইট উইকিলিক্স টাকা পয়সা নিয়ে সমস্যায় পড়াতে গোপন তথ্য ফাঁস করে জনসমক্ষে আনার কাজ বন্ধ করতে বাধ্য হচ্ছে. এই বিষয়ে ঘোষণা করেছেন এই প্রকল্পের স্রষ্টা জুলিয়ান আসাঞ্জ.

    উইকিলিক্স এর হাতে ধরা পড়ে যাওয়ার মতো তথ্য রয়েছে আরও অনেক. আড়াই লক্ষ দলিলের মধ্যে, যা আজ এই সাইটের হাতে রয়েছে, তার থেকে প্রকাশিত হয়েছে শুধু ১৯ হাজার. কিন্তু এই প্রকল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো অর্থ একেবারেই নেই. উইকিলিক্স সাইটের স্রষ্টার বিশ্বাস, সমস্ত কিছুর মূলে ব্যাঙ্ক অফ আমেরিকা, ভিসা, মাস্টার কার্ড, পে প্যাল, ওয়েস্টার্ন ইউনিয়নের মতো অর্থ লেনদেনের ব্যবস্থা. গত বছরের ডিসেম্বর মাসেই, যখন প্রথম আমেরিকার পররাষ্ট্র দপ্তরের লোকেদের লেখা দলিল, চিঠি ফাঁস করা হয়েছিল, তখন থেকেই আমেরিকার ব্যাঙ্ক ব্যবস্থা এই সাইটকে বয়কট করেছে. তারা এই সাইটের জন্য অর্থ পাঠানোর ব্যবস্থাই বন্ধ করে দিয়েছে.

    ফলে উইকিলিক্স তাদের দানের শতকরা ৯৫ শতাংশই আর পাচ্ছে না. গত কয়েক মাস এই প্রকল্প টিকে ছিল তাদের জমা নগদ অর্থের বিনিময়ে. কিন্তু তাও এখন শেষ. সেন্সর করার জন্য অর্থ পাওয়া বন্ধ করা এক কার্যকরী পদ্ধতি হয়েছে, এই কথা মনে করে বিশ্বায়ন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর বরিস কাগারলিত্সকি বলেছেন:

    "এখন উইকিলিক্স সাইটের সঙ্গে যা ঘটেছে – অর্থ আটক, যা বাস্তবেই কাজ বন্ধ করতে বাধ্য করেছে, তা প্রমাণ করে দেয় যে, বাস্তবে সেই স্বাধীনতা নেই, যা বাজার অর্থনীতি নাকি গ্যারান্টি দেয়. বড় বিনিয়োগ ও ব্যাঙ্ক ব্যবস্থা শুধুমাত্র অর্থের চলাচলই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, বরং প্রায়ই আমাদের তথ্য পাওয়ার ব্যাপারেও হস্তক্ষেপ করতে পারে".

    এই প্রসঙ্গে আমেরিকার অর্থ পাঠানোর ব্যবস্থার এমনকি কোন আদালতের রায়ের দরকার পড়ে নি. তারা উইকিলিক্স সাইটের অ্যাকাউন্ট বন্ধ না করে, স্রেফ তা নিয়ে কাজ করতে অস্বীকার করেছে. যেহেতু উপরোক্ত ব্যবস্থা গুলির মাধ্যমেই মূল অনুদান গুলি এসে থাকে, তাই এদের মধ্যে কূট মতলবই যথেষ্ট হয়েছে বিশ্বের রাজনৈতিক মানচিত্রে প্রভাব ফেলার জন্য. এই কথাই উল্লেখ করে জাতীয় স্ট্র্যাটেজি ইনস্টিটিউটের সভাপতি মিখাইল রেমিজোভ বলেছেন:

    "উইকিলিক্স উদয় হওয়ার পর থেকে উইকি গণতন্ত্রের লক্ষণ গুলি ধরা পড়েছে, অর্থাত্ পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে, সামাজিক দল গুলি যাদের ইন্টারনেটের মাধ্যমে যোগাযোগ রয়েছে, তারা খুবই বৃহত্ রাজনীতি ও ব্যবসার প্রভাবশালী লোকেদের জন্য খুবই গুরুতর সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে. স্বাভাবিক ভাবেই এই সমস্ত লোকেদের, যাদের এতে স্বার্থ জড়িত ও তা চায় না, তাদের এই হুমকির জন্য জবাব রয়েছে নিজেদের মতো করে. অর্থ আজকের সমাজে এক শক্তি, যা যে কোন দেশের সামাজিক রাষ্ট্রের শক্তির সঙ্গেই তুলনীয়, এমনকি কখনও তার থেকেও বেশী শক্তিশালী. আর এটাই বর্তমানের সমাজের জন্য এক অন্যতম সমস্যা: সবচেয়ে বড় ক্ষমতা হয়ে দাঁড়িয়েছে সবচেয়ে কম দায়িত্বজ্ঞান সম্পন্ন, কারণ তাকে কেউই নির্বাচন করে না, আর তাই নির্বাচকদের সামনে তার জবাবদিহি করারও প্রয়োজন নেই. এটা বড় বিনিয়োগকারীদের ক্ষমতা".

    প্রসঙ্গতঃ উইকিলিক্স স্রষ্টারা ঘোষণা করেছেন যে, তাঁরা সংগ্রাম চালিয়ে যাবেন. আইসল্যান্ড, ডেনমার্ক, গ্রেট ব্রিটেন, ব্রাসেলস, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়াতে বিনিয়োগ বন্ধ করার বিরুদ্ধে বিচার চেয়েছে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে. ইউরোপের একচেটিয়া কারবার বন্ধ করার সংস্থায় অনুরোধ এসেছে ভিসা ও মাস্টার কার্ড ব্যবস্থার তরফ থেকে নিয়ম ভঙ্গ করা নিয়ে অভিযোগ. কিন্তু উইকিলিক্স বলেছে বিচার প্রক্রিয়ার জন্য অনেক অর্থের প্রয়োজন. তাই সাইট অর্থ সংগ্রহের জন্য এক ক্যাম্পেন শুরু করেছে. আপাততঃ যারা আসাঞ্জের প্রকল্পকে সমর্থন করেন, তাদের একটাই পথ খোলা রয়েছে, এই সাইটে উল্লেখ করা অ্যাকাউন্টে অর্থ পাঠানো. এই পথ খুব একটা সুবিধার নয়, আর এই ভাবে মনে তো হয় না যে, বড় মাপের অর্থ সংগ্রহ করা যাবে. কিন্তু উইকিলিক্স ঘোষণা করেছে, খুব শীঘ্রই তারা তাদের সমর্থকদের জন্য আরও সহজ কোনও পথের সন্ধান জানাবে.