রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ জলদস্যূদের সঙ্গে লড়াইয়ের জন্য রাশিয়ার উদ্যোগে প্রস্তুত করা সিদ্ধান্ত একমত হয়ে গ্রহণ করেছে. এই দলিলে বিশেষ আদালত তৈরী করার কথা রয়েছে, যেখানে জলদস্যূদের অপরাধের বিচার হবে. রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ একই সঙ্গে রাষ্ট্রসঙ্ঘের মহাসচিবের কাছে অনুরোধ করেছে আগামী ৯০ দিনের মধ্যে এই ধরনের আদালত তৈরী করা নিয়ে কার্যকরী প্রস্তাব উপস্থাপন করার. বিষয়টি নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত, এটা বেশ বড় একদল দেশের যৌথ পরিশ্রমের ফসল. রাশিয়া ছাড়া এই প্রস্তাবের প্রস্তুতকারক দের মধ্যে রয়েছে ভারতবর্ষ, জার্মানী, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, আরও অনেক দেশ. এই সিদ্ধান্ত ভিত্তি হয়েছে আইন সঙ্গত ভাবে আন্তর্জাতিক জলদস্যূ ও জলদস্যূদের কাজ কারবারের বিচার করার. যদিও জলদস্যূ সমস্যা এই বিশ্বের মতই পুরাতন, তবুও বিগত কিছু কাল আগেও আইন করে এই সম্বন্ধে বিচার সম্বন্ধে কোন নিয়ম বা বিধি ছিল না. তারই মধ্যে জলদস্যূর হুমকি বেড়েই চলেছিল ও শেষ অবধি সারা বিশ্বের সমস্যায় পরিনত হয়েছে. কুয়ালালামপুরে অবস্থিত আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক ব্যুরোর খবর অনুযায়ী ২০১১ সালের শুরু থেকে বিশ্বের সমুদ্রে জলদস্যূদের তরফ থেকে ৩৫২টি জাহাজ আক্রমণ নথিবদ্ধ করা হয়েছে, যা এক রেকর্ড সংখ্যক আক্রমণ. এই বছরের প্রথম নয় মাসে এই সূচক গত বছরের একই সময়ের তুলনায় বেড়েছে শতকরা বাইশ শতাংশ. এর অর্ধেকের বেশী আক্রমণ হয়েছে সোমালির উপকূলে. ফলে ৮জন নাবিকের মৃত্যু হয়েছে ও ৪১ জন আহত হয়েছেন. বন্দী হয়েছেন ৬২৫ জন, আন্তর্জাতিক জলদস্যূ কাণ্ডে ক্ষতি হয়েছে বছরে সাতশো থেকে এক হাজার কোটি ডলার. এক খোলা চিঠিতে বিশ্বের চারটি নেতৃস্থানীয় জাহাজ চলাচল সংগঠন – আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল চেম্বার, বিমকো, ইন্টারকার্গো ও ইন্টারট্যাঙ্কো, যেখানে বিশ্বের বাণিজ্য পোতের শতকরা ৯০ শতাংশ যুক্ত রয়েছেন, তাঁরা বিশ্ব সমাজের কাছে বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে অত্যন্ত উদ্বিগ্ন হয়ে আবেদন জানিয়ে বলেছেন যদি কিছুই পরিবর্তন না করা হয়, তবে জাহাজ চলাচল সংগঠন বাধ্য হবে এর থেকে বেরোনোর পথ খুঁজতে, তার মধ্য সম্ভাবনা রয়েছে সামুদ্রিক জাহাজ চলাচল পথের পরিবর্তন. এর ফল হবে আন্তর্জাতিক ভাবেই মাল পরিবহনের দাম অনেক বেড়ে যাবে, যা বিশ্বের অর্থনীতিতেই এক নাটকীয় প্রভাব ফেলবে.

রাশিয়া, ভারত, চিন, ন্যাটো জোটের দেশ গুলি বেশ কয়েক বছর ধরেই ভারত ও অন্যান্য মহাসাগরে নিজেদের যুদ্ধ জাহাজ পাঠাচ্ছে, যেখানে জলদস্যূরা লুঠ করছে. তারা বাণিজ্য পোতকে পাহারা দিয়ে পার করাচ্ছে ও সম্ভাব্য আক্রমণের এলাকায় নিয়মিত টহল দিচ্ছে. কিন্তু শুধু সামরিক ব্যবস্থা দিয়ে জলদস্যূ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়, এই কথা মনে করে রাশিয়ার বিশেষজ্ঞ প্রফেসর ইগর জুবকভ বলেছেন:

"আমরা বুঝতে বাধ্য যে, বর্তমানের পরিস্থিতি আফ্রিকাতে স্বয়ংক্রিয় ভাবেই জলদস্যূ তৈরী করছে. বাণিজ্য জাহাজ দখল করতে পারলে জলদস্যূরা এত পরিমানে লাভ করতে পারে যে, তারপরে বেশ অনেকদিন ভাল মতই জীবন কাটাতে পারে. জলদস্যূরা ইতিমধ্যেই বিশাল সব অপরাধের মন্ডল তৈরী করতে পেরেছে. তাদের এলাকা বিশাল, রয়েছে আধুনিক প্রযুক্তি, তাদের সামরিক শক্তি যোগাড়ের কোন সমস্যা নেই, এমনকি নতুন জলদস্যূ হওয়ার মতো লোক পাওয়া যাচ্ছে অনেক. সম্ভবতঃ বিশ্ব সমাজের উচিত্ হবে বিশেষ সম্মেলন করে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও আইন সঙ্গত ব্যবস্থা নেওয়ার, যা সোমালিতে শক্ত প্রশাসন স্থাপন করতে সাহায্য করতে পারে ও জলদস্যূ সমস্যার সমাধান করতে পারে".

নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত এই লক্ষ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ. এই দলিলে বিশেষ করে উল্লেখ করা হয়েছে ভারত মহাসাগরের সোমালি এলাকাতেই জলদস্যূতা সংক্রান্ত অভিযোগের বিচারের আদালত প্রাথমিক ভাবে স্থাপন করার কথা. এই ধরনের আদালতের ক্ষমতা থাকবে শুধু সেই সমস্ত লোকেদেরই বিচার করে শাস্তি নির্ধারণ করার জন্যই নয়, যারা সমুদ্রে জলদস্যূ হয়ে গিয়েছে, এমনকি সংই সমস্ত লোকেদেরও, যারা তীর থেকে এই ধরনের লোকেদের চালনা করছে ও ভেবে চিন্তে জলদস্যূ আক্রমণের পরিকল্পনা করছে. জলদস্যূ আক্রমণ আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদের মতোই. আর এখানে সন্ত্রাসবাদের মতোই সারা বিশ্ব সমাজের যোগাযোগ কে ব্যবস্থা নিতেই হবে.