কাজান ২০১৩ সালের ইউনিভার্সিয়াডের জন্য কার্যত তৈরী. এখানে মূল কথা হল – কোন একটাও খুচরো ব্যাপার ছেড়ে না দেওয়া – এই রকমের পরামর্শ দিয়েছেন বিগত সাংহাই শহরে প্রতিযোগিতার আয়োজকেরা কাজানের রুশ সহকর্মীদের.

কাজানের শহরের পরিকাঠামো খুবই সক্রিয়ভাবে বাড়ানো হচ্ছে নতুন করে তৈরী করা হয়েছে বিমানবন্দর ও রেলওয়ে স্টেশন, হোটেল বানানো হয়েছে অনেক, স্টেডিয়াম ও অনেক, ট্যুরিস্টদের জন্য নানা ধরনের বেড়াতে যাওয়ার জায়গা ও খেলাধূলার পরিকল্পনা. সমস্ত বড় কেন্দ্র গুলি এখনই তৈরী হয়ে গিয়েছে. বাকি রয়েছে শুধু চিনে সহকর্মীদের পরামর্শ শোনার – সমস্ত মনোযোগ খুঁটি নাটি বিষয়ে দেওয়ার – রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে কাজান – ২০১৩ কার্যকরী পরিষদের ভাইস জেনেরাল ডিরেক্টর আজাত কাদীরভ তাই বলেছেন:

"কাজান আগে এবং এখনও অনেক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে. কিন্তু একসাথে এত বহু সংখ্যক খেলাধূলার প্রতিযোগিতা, যখন ১২ দিনের মধ্যে একই সঙ্গে ২৭টি বিষয়ে হবে, তা আগে কাজানে কখনও হয় নি. এই প্রতিযোগিতা আয়োজনের প্রস্তুতি সমস্ত দিকেই একসাথে করা হচ্ছে. ঐতিহ্য মেনেই এই ক্ষেত্রে এক্ষেত্রে কোন খুচরো ব্যাপার নেই – প্রতিটি অংশই গুরুত্বপূর্ণ. আমাদের চিন প্রজাতন্ত্রের সহকর্মীরা মূল্যায়ণ করে দেখে নিয়েছেন যে, এই শহর বর্তমানে খুবই সক্রিয়ভাবে তৈরী করা হচ্ছে, উন্নত করা হচ্ছে".

২০১৩ সালের ইউনিভার্সিয়াডের বাজেট ৩২০ মিলিয়ন ডলার. তার মধ্যে তিরিশ শতাংশ অর্থই দিয়েছেন ব্যক্তিগত মালিকানার বিনিয়োগকারীরা. এই অর্থ দিয়ে তৈরী করা হয়েছে প্রায় ৪০টি খেলাধূলার জায়গা ও আধুনিক করা হয়েছে, আগে যেগুলি ছিল সেগুলিকে. কিন্তু এই ঘটনার সাফল্য শুধু আর্থিক বিনিয়োগ দিয়েই বিচার করলে চলবে না, এখানে আরও গুরুত্বপূর্ণ হল, যা ইউনিভার্সিয়াডের পরে রয়ে যাবে, এই কথা উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক ছাত্র ক্রীড়া ফেডারেশনের ভাইস- প্রেসিডেন্ট ও রাশিয়ার ছাত্র ক্রীড়া সংগঠনের প্রধান ওলেগ মাতীত্সিন বলেছেন:

"কাজানে বিশাল বিনিয়োগ করা হয়েছে, প্রাথমিক ভাবে খেলাধূলার জায়গা ও পরিকাঠামো নির্মাণে, হোটেল বানানোতে, মেট্রো তৈরী করতে ও আরও বহু বিষয়েই. কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিনিয়োগ করা হয়েছে মানবিক সম্পদ বৃদ্ধির জন্যই. কারণ এই প্রকল্পের মধ্য দিয়ে বর্তমানে যাচ্ছেন বহু সহস্র মানুষ, যাঁরা অংশ নিচ্ছেন নানা ধরনের পরীক্ষা মূলক প্রতিযোগিতায়. শিক্ষামূলক পরিকল্পনা ও বিশ্বের প্রায় দেড় শোরও বেশী দেশ থেকে আসা প্রতিযোগী দের সঙ্গে আলাপ আলোচনার সুযোগ পেতে চলেছেন বহু লোক আর সাংস্কৃতিক বিনিময়ের ফলে যুব সম্প্রদায়ের তৈরী হবে এর ফলে ভবিষ্যতের সম্বন্ধে নতুন দৃষ্টিভঙ্গী. বিশাল বিনিয়োগ করা হয়েছে. কোন সন্দেহ নেই যে, তা ফলপ্রসূ হবেই. খেলাধূলার জায়গা ও পরিবহন পরিকাঠামো আরও বহু বছর রয়ে যাবে ও এই রাজ্যের সমস্ত লোকেরাই তা আরও অনেক বছর ধরেই ব্যবহার করতে পারবেন".

0রাশিয়াতে শুধু মস্কো শহরেরই বিশ্ব ছাত্র ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজনের অভিজ্ঞতা রয়েছে. ১৯৭৩ সালে এখানে বিশ্বের নানা দেশ থেকে এসেছিলেন ৪০০০ খেলোয়াড়. কিন্তু কাজান ঠিক করেছে রাজধানীর রেকর্ড ভাঙবে. আশা করে হয়েছে, এখানে আসবেন ১৩০০০ খেলোয়াড় অংশগ্রহণকারী. তাছাড়া, প্রতিযোগিতার সময়ে, ২০১৩ সালের ৬ থেকে ১৭ই জুলাই, এখানে রেকর্ড সংখ্যক পদক দেওয়া হতে চলেছে – ৩০০ বিষয়ে পদক.