আফগানিস্তান পাকিস্তানকেই সমর্থন করবে, যদি মার্কিন সেনাবাহিনী এই দেশের ভিতরে অনুপ্রবেশ করে. এই বিষয়ে পাকিস্তানের টেলিভিশন চ্যানেল "জিও- টিভিকে" এক সাক্ষাত্কারে ঘোষণা করেছেন. "যদি কখনও পাকিস্তান ও আমেরিকার মধ্যে যুদ্ধ বাঁধে, তাহলে আফগানিস্তান থাকবে পাকিস্তানের পক্ষে", – বলেছেন কারজাই. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

হঠাত্ করেই এত স্পষ্ট করে ঘোষণা দেওয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে খুবই অপ্রিয় চমক হয়ে দাঁড়িয়েছে. ওয়াশিংটন সবসময়েই কারজাইকে নিজের লোক বলে হিসেব করেছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবেই কারজাই আফগানিস্তানের রাষ্ট্রপতি হতে পরেছেন. প্রসঙ্গতঃ কারজাই পাকিস্তানীদেরও অবাক করে দিয়েছেন, বিশেষত এখন, যখন আফগানিস্তান – পাকিস্তান সম্পর্কও খুব একটা ভাল অবস্থায় নেই. কাবুলের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের গুপ্তচর বাহিনীকেই প্রাক্তন আফগান রাষ্ট্রপতি বুরখানুদ্দিন রব্বানীর মৃত্যুর জন্য দায়ী করা হয়েছে, যিনি চেষ্টা করেছিলেন তালিবদের সঙ্গে আলোচনা করার. পাকিস্তানের এলাকায় ঘাঁটি গেড়ে বসা হাক্কানি দলের যোদ্ধাদের তরফ থেকেও এখন আফগানিস্তানের সামরিক ও নাগরিক লক্ষ্য গুলির উপরে আঘাত করা হচ্ছে.

এই ধরনের বিবৃতি দিতে কারজাইকে কি বাধ্য করেছে? সম্ভবতঃ, কারজাই খুবই আশঙ্কা করেছেন যে, এই এলাকায় যুদ্ধের বিস্তার বাড়তে পারে বলে, তা পাকিস্তানের এলাকাতেও চলে যেতে পারে. এর ফলে আফগানিস্তান থেকে আমেরিকার সেনা প্রত্যাহারে দেরী হতে পারে, যা দেশে আরও নেতিবাচক প্রভাব সৃষ্টি করবে. এর ফলে শুরু হতে পারে প্রজাতিগত বিরোধ, যা আফগানিস্তানকে বাস্তবেই প্রজাতি নির্দিষ্ট ভাবে নানা এলাকায় ভেঙে ফেলতে পারে. এমনকি এটাও বাদ দেওয়া যায় না যে, হামিদ কারজাই আফগানিস্তানের চরমপন্থীদের থেকেও চাপ টের পেয়েছেন, সেই তালিবদের পক্ষ থেকেই, যারা খুবই তীক্ষ্ণ ভাবে আমেরিকার বিরোধী নীতি নিয়েছে.

যে ভাবেই হোক, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধে পাকিস্তানকে সমর্থনের বিষয়ে কারজাইয়ের ঘোষণা ওয়াশিংটনের জন্য স্পষ্ট দেখতে পাওয়া যাওয়ার মতো আগাম সাবধান বাণী হয়েছে. এমনকি যদি এই বিষয়ের দিকে লক্ষ্য করাও হয় যে, আজ হামিদ কারজাইয়ের তথ্য প্রচার সচিব আঝমাল ফৈজী চেষ্টা করেছেন এই বক্তব্যের সুরকে নরম করার জন্য. কিন্তু যা একবার বলা হয়ে গিয়েছে – তা হয়ে গিয়েছে. আর পাকিস্তানের সঙ্গে যুদ্ধ করা সম্ভব নয় বলেই মনে করেছেন রাশিয়ার রাজনীতিবিদ ইভগেনি সাতানোভস্কি. তিনি বলেছেন:

"এই দেশ খুব কম বড় যুদ্ধ করে নি, তার মধ্যে ভারতের সঙ্গে যুদ্ধও রয়েছে. এই অঞ্চলে এই দেশের সামরিক বাহিনী একটি সেরা বাহিনী. পাকিস্তানের অস্ত্র ভাণ্ডারে রয়েছে ১১০টি পারমানবিক বোমা. আমেরিকার পাকিস্তানে হাত পা বাঁধা. তাই যদি ওয়াশিংটন স্থির করে উত্তর ওয়াজিরস্থানে সামরিক অপারেশন করার, তাহলে সেটা কিভাবে শেষ হবে, তা এখন অনুমান করাই কঠিন".

কিছু আগে, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর দপ্তর প্রধান আশফাক কায়ানি অন্য একটি বিবৃতি দিয়েছেন. তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান করেছেন পাকিস্তানের জমিতে লড়াই শুরু করার আগে দশবার ভাল করে ভাবতে. হামিদ কারজাইয়ের ঘোষণা আমেরিকার লোকেদের পাকিস্তানের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধে আফগানিস্তানের পিছন থেকে সমর্থন পাওয়ার পথও বন্ধ করে দিয়েছে. আর এই দুটি ঘোষণাই – কারজাই ও কায়ানি যা করেছেন – তা একই বিষয় সম্বন্ধে বলে আমেরিকার রাজনীতি এই অঞ্চলে এক কানা গলিতে আটকেছে. আমেরিকাকে আরও একবার বুঝতে দেওয়া হয়েছে যে, তারা এখানে নিজেদের লোক নয় – আর তা যেমন আফগানিস্তানে, তেমনই পাকিস্তানেও...