রাশিয়া মুহম্মর গাদ্দাফির মৃত্যুর পরে লিবিয়াতে উদ্ভূত সমস্যা সমাধানের জন্য রাষ্ট্রসংঘকে যুক্ত করতে চেয়েছে. রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে লিবিয়ার আকাশকে উড়ান মুক্ত করার সিদ্ধান্ত রদ করার জন্য রাশিয়া খসড়া প্রস্তাব পেশ করেছে. একই সময়ে মস্কো থেকে ওয়াশিংটন, প্যারিস, লন্ডন ও বেইজিংকে লিবিয়াতে মুহম্মর গাদ্দাফি প্রশাসনের সময়ে কেনা প্রতিস্থাপন যোগ্য আকাশ যুদ্ধের রকেট ব্যবস্থার উপরে নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নিজেদের উদ্যোগকে সমর্থন করতে আহ্বান করেছে.

রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্তে লিবিয়ার উপরের আকাশ পথ মুহম্মর গাদ্দাফির বিমান বহরের জন্য ১৭ই মার্চ থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, যাতে বিরোধীদের উপরে আঘাত হানার ফলে আম জনতার ক্ষতি না হয়. তাই মস্কোতে মনে করা হয়েছে যে, এই আকাশ পথ সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দায়িত্বও রাষ্ট্রসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের উপরে বর্তায়. একই সঙ্গে পশ্চিমের জোটের শক্তি এই সিদ্ধান্তকে লঙ্ঘণ করেছে, যা বাস্তবে হয়ে দাঁড়িয়েছিল লিবিয়ার আভ্যন্তরীণ বিষয়ে বাইরের শক্তির সামরিক অনুপ্রবেশ, এই কথা উল্লেখ করে লিবিয়াতে রাশিয়ার প্রাক্তন রাজদূত ও রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর বিশেষজ্ঞ আলেক্সেই পদশেরব বলেছেন:

"রাশিয়ার উদ্যোগের লক্ষ্য হল ন্যাটো জোটের এই সামরিক অনুপ্রবেশ বন্ধ করা, তাই এই প্রস্তাব আনা হয়েছে. গাদ্দাফির মৃত্যুর পরে বারাক ওবামা ঘোষণা করেছিলেন যে, ন্যাটো জোট তাদের কাজ খুব ভাল করে করতে পেরেছে. আট মাসের মধ্যে তারা এক সামরিক বাহিনীকে ধ্বংস করতে পেরেছে ও এক দেশের নেতাকে হত্যা করতে পেরেছে. গাদ্দাফিকে হত্যার দুই দিন আগে হিলারি ক্লিন্টন যে নির্দেশ দিয়েছেন ত্রিপোলিকে তাও পালন করা হয়েছে. তিনি বলেছিলেন, সময় হয়েছে গাদ্দাফিকে বন্দী করে হত্যা করার, যাতে সে আর নিজের দেশের জনতাকে ভীত করতে না পারে. সুতরাং সরকারি ভাবে সমস্ত কিছুই শেষ হয়েছে. এই পরিস্থিতিতে ন্যাটো জোটের সামরিক অপারেশন চালিয়ে যাওয়ার কোন অর্থ হয় না. কারণ এখন আর উপরে দেখানোর মতো কেন লক্ষ্য নেই, যা রাষ্ট্রসংঘের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নেওয়া হয়েছিল, যদিও সেই সিদ্ধান্তকে ইচ্ছামতো পশ্চিমের জোট অর্থ করেছে".

সব মিলিয়ে রাশিয়ার উদ্যোগ এই বিষয়ে নেওয়া হয়েছে, যাতে নতুন পরিস্থিতিতে লিবিয়াতে ন্যাটো জোটের সামরিক অপারেশনের জন্য সরকারি ভিত্তি অপসারিত হয়. তার উপরে আরও এই জন্য যে, ন্যাটো জোটের মুখ্য সচিব আন্দ্রেস ফগ রাসমুসেন শুধু ৩১শে অক্টোবরের মধ্যে এই অপারেশন শেষ করার আশ্বাসই দেন নি, তিনি আরও উল্লেখ করেছেন যে, এর আগে এই সপ্তাহের মধ্যে ন্যাটো জোটের শক্তি তৈরী থাকবে স্থানীয় জনতার রক্ষার জন্য সামরিক অনুপ্রবেশ করার জন্য.

রবিবারে লিবিয়ার নতুন সরকার দেশকে বিগত চার দশক ধরে মুহম্মর গাদ্দাফির প্রশাসনের পরে স্বাধীন করার লড়াই শেষ হয়েছে বলে ঘোষণা করেছে. তারা বিদেশী সহকর্মীদের সঙ্গে আগে হওয়া সমস্ত আন্তর্জাতিক চুক্তি ও সমঝোতা মেনে চলবে বলে ঘোষণা করেছে.

নিজেদের প্রতি বিশ্বাসের পরিমান বৃদ্ধি করতে অন্তর্বর্তী কালীণ জাতীয় সরকার আশ্বাস দিয়েছে এক মাসের মধ্যে নতুন সরকার তৈরী করার, আর আট মাসের মধ্যে প্রয়োজনীয় আইন সঙ্গত ভিত্তি তৈরী করার যাতে প্রশাসনের কাঠামো তৈরী করা যায়.

এই সময়ের মধ্যেই আজই, দেখা যাচ্ছে যে, এই ধরনের শক্তির পথে খুবই গুরুতর বাধা রয়েছে. এর একটির দিকে উল্লেখ করেছেন ত্রিপোলির বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনীতিবিদ, আখমেদ আল- আতরাশ আখমেদ. তিনি উল্লেখ করেছেন যে, নতুন সামরিক বাহিনী চায় লিবিয়ার আগের প্রশাসনের সামরিক বাহিনীর চেয়ে সরকারে বেশী প্রভাব বিস্তার করতে. কারণ ধর্ম নিরপেক্ষ ক্ষমতাসীন ও সরকারের মধ্যে থাকা সামরিক বাহিনীর প্রভাবশালী দের মধ্যে স্বার্থের সংঘাত লিবিয়ার হরির লুঠের প্রতি ঐস্লামিকদের ক্রমবর্ধমান আগ্রহের পরিপ্রেক্ষিতে কি রকমের হতে চলেছে তা এখন অনুমানের অসাধ্য.