রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরগেই ল্যাভরোভ এই প্রথমবারের মত রাশিয়ার ৩টি রেডিও স্টেশন ভয়েস অব রাশিয়া,রেডিও রাশিয়া ও ইকো মস্কোকে সরাসরি লাইভ ইন্টারভিও দিয়েছেন।প্রায় ২ ঘন্টার ওই আলাপচারিতায় ল্যাভরোভ উত্তর আফ্রিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি,রকেটবিরোধী ক্ষেপনাস্ত্র ব্যবস্থা এবং রুশ-মার্কিন সম্পর্কসহ আরও বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোকপাত করেছেন।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের রেজ্যুলেশন কোন পর্যায়ে গিয়ে শেষ হবে তা গত মার্চ মাসে ধারনা করা বেশ কঠিনই ছিল।যখন লিবিয়ায় নো-ফ্লাই জোন ঘোষণা করা হয়।লিবিয়ায় যুদ্ধ শুরু করা এবং মুহাম্মর গাদ্দাফিকে ধরাশয়ী কারার জন্যই ন্যাটো দেশসমূহ ওই রেজ্যুলেশন ব্যাবহার করেছিল।গাদ্দাফি জীবিত অবস্থায় নিজেকে ধরা দেয় নি।লিবিয়া বা ওই অঞ্চলের অন্যান্য দেশের জন্য এখন কি অপেক্ষা করছে সেই সম্পর্কে কিছুই বলা সম্ভব না।লিবিয়ার চিত্রপট মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশেই হয়ত ব্যবহার করা হতে পারে উল্লেখ করে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরগেই ল্যাভরোভ বলেন, ‘এমন ধরনের কার্যক্রম অনেককেই প্ররোচিত করবে।খুব সহজেই তা সম্ভব।আমরা ইতিমধ্যে তা দেখেছি এবং হয়ত ভবিষ্যতে দেখব।মিশরকে দেখুন,যেখানে পরিস্থিতি মনে হচ্ছে স্বাভাবিক হয়ে এসেছে।যদি নীতির যুক্তিতে আসেনঃআপনি খারাপ লোক,তাই আপনার সাথে কোন আলোচনা নেই।যেকোন মূল্যে আপনাকে চলে যেতে হবে।যদি আমরা আন্তর্জাতিক সমাজের দৃষ্টিভঙ্গির কথা বলি তাহলে দেখতে পাবেন যে, অবশ্যই একটি সহিংসতা এবং অস্থিরতার সরাসরি  উস্কানি।আমরা চাচ্ছি যে,যেখানেই রাজনৈতিক সংকট চলছে ওই সব দেশের নেতারা আলোচনার মাধ্যমে একটি সমাধানে যেন পৌঁছায়।

জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে সিরিয়ার ভাগ্য নিয়েও আলোচনা হয়েছে।সেরগেই ল্যাভরোভ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য দেশগুলোর মধ্য ব্যাপক মতবিরোধ রয়েছে বলে উল্লেখ করেন।সিরিয়া সংক্রান্ত নিরাপত্তা পরিষদের গৃহিত রেজ্যুলেশনকে রাশিয়া ও চীন ভেটো দিয়েছে।

যদিও ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত সহযোগি দেশগুলোর সাথে রাশিয়া শুধুমাত্র মধ্যপ্রাচ্য নিয়েই আলোচনা করে নি বরং ইউরোপে রকেটবিরোধী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়েও রাশিয়ার সাথে বনিবনা হচ্ছে না।রাশিয়ার মতামত ছাড়াই ওই রকেটবিরোধী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরী করা হচ্ছে।

যদি যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের পরিকল্পনামাফিক ইউরোপে তাদের রকেট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরী করে তাহলে ২০১৮-২০২০ সালের মধ্যে  রাশিয়ার জন্য তা বড় ধরনের হুঁমকি হয়ে দাঁড়াবে এবং রাশিয়া তখন নিজের প্রতিরক্ষা ব্যাবস্থায় এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপই  গ্রহন করতে পারবে না।এ বিষয়ে ল্যাবরোভ বলেন, ‘এটা অনেক ভালো হত যদি বিরোধের সুযোগ থেকে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা সমস্যায় কৌশলগত অংশীদারিত্বের এমনকি জোট গঠনের মাধ্যমে স্থানান্তরিত করা যেত।যদি রাশিয়া,যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য দেশ যারা রাশিয়া-ন্যাটো পরিষদের সদস্য তারা সবাই মিলে অনুরুপ একটি রকেট প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরীর বিষয়ে ঐক্যমতে পৌঁছায় তাহলে কারও জন্যই কোন হুঁমকি থাকে না।তাহলে আমরা পুরোপুরি এই স্নায়ু যুদ্ধের সমাপ্তি টানতে পারব’।

স্নায়ু যুদ্ধ এখনও চলছে এবং সেরগেই ল্যাভরোভ একে "বিভাজক রেখা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।ন্যাটো দর্শনের ভিত্তিতে কাজ করে এবং সর্বদাই কারো না কারো বিরোধীতা করবে।সত্যিই খুবই কঠিন।

যদিও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ২ ঘন্টার সাক্ষাত্কার দিয়েছেন; তদুপরি সময়ের অভাবে কিছু প্রশ্নের উত্তর মেলেনি।৩টি রেডিও স্টেশনই পুনরায় সেরগেই ল্যাভরোভকে সাক্ষাত্কার দেবার প্রস্তাব জানায়।ল্যাভরোভ এই প্রস্তাবে তার আগাম সম্মতি জানিয়েছেন।