সের্গেই লাভরভ: পশ্চিমের তরফ থেকে ইরানের বিরুদ্ধে একতরফা নিষেধাজ্ঞা আলোচনার প্রক্রিয়ার ক্ষতি করছে

রাশিয়া সমস্ত কিছুই করছে যাতে ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনা সংক্রান্ত আলোচনাকে কানা গলি থেকে উদ্ধার করা যায়. এই বিষয়ে রেডিও রাশিয়া ও আরও দুটি রুশ রেডিও স্টেশনকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে ঘোষণা করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভ.

পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান উল্লেখ করেছেন যে, ইরান নিজেদের পক্ষ থেকে রাজনৈতিক ইচ্ছা প্রকাশ করে আরও বেশী করে আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা করতে পারতো.

মস্কো ইতিমধ্যেই বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে যাতে মধ্যস্থতাকারী চার পক্ষ (ইউরোপীয় সঙ্ঘ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চিন ও রাশিয়া) এবং ইরানের মধ্যে আলোচনায় স্থিতাবস্থা দূর হয়. কিন্তু এই প্রক্রিয়াতে একতরফা নিষেধাজ্ঞা অসুবিধা করছে, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় সঙ্ঘ, অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, জাপান ও আরও কিছু দেশ গ্রহণ করেছে. এটা তেহরানের এই ধারণা তৈরীতে সাহায্য করছে যে, পশ্চিম ইরানের সঙ্গে আলোচনায় সমঝোতা চায় না, তাদের অর্থনৈতিক ভাবে শ্বাসরোধ করতে চাইছে. ফলে পক্ষ দের কোন সমঝোতায় আসার ইচ্ছা না থাকায় নতুন করে বিরোধ শুরু হচ্ছে.


সের্গেই লাভরভ রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের সম্পর্কের ক্ষেত্রে "ঠাণ্ডা যুদ্ধের" অবশিষ্টাংশ ছেঁটে ফেলেই তৈরী করতে বাধ্য

মস্কো ও ওয়াশিংটন নিজেদের বর্তমান সম্পর্ক উন্নতির জন্য পুরনো আদর্শের প্রলেপ পরিস্কার করে ফেলতে বাধ্য. এই মত প্রকাশ করেছেন রেডিও রাশিয়া ও অন্য দুটি রুশ রেডিও স্টেশনকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান সের্গেই লাভরভ. দুঃখের বিষয় হল, চিন্তার ক্ষেত্রে জাড্য, যা ঠাণ্ডা যুদ্ধের সময় থেকে আমাদের দুই দেশের মধ্যে রয়েছে, তা এখনও শক্তিশালী. তা স্বত্ত্বেও, রাশিয়া আজ সমস্ত শক্তি প্রয়োগ করেছে যাতে নিজেদের পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রে এই সমস্ত কিছুকেই খুঁচিয়ে বার করে ফেলে দেওয়া যায়. দুটি বড় রাষ্ট্রের শুধু কপালে কপাল ঠেকিয়ে ধাক্কাধাক্কি করলেই হবে না, উচিত্ হবে একে অপরকে জানিয়ে পথ খোঁজার, যা সকলের জন্যই লাভজনক, এই বিষয়েই বিশ্বাস রাখেন সের্গেই লাভরভ.

মস্কো ও ওয়াশিংটনের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্নের উত্তরে রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান বলেছেন যে, রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ বর্তমানে নিকট প্রাচ্যে, উত্তর আফ্রিকায়, আফগানিস্তানে, ইরাকে ও এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় এবং লাতিন আমেরিকায় একই সাথে যুক্ত রয়েছে. আর আমাদের সকলের স্বার্থেই উচিত্ হবে একে অপরের বিরুদ্ধে না গিয়ে ভালর জন্য যৌথ ক্ষমতার ব্যবহার করা.


সের্গেই লাভরভ পশ্চিমের অবস্থান এই অঞ্চলে হিংসার ঢেউ ওঠার জন্য প্ররোচনা দিচ্ছে

সিরিয়া সংক্রান্ত পশ্চিমের সিদ্ধান্তের খসড়া লিবিয়ার ঘটনার পুনরাবৃত্তি করতে পারে, বলে ঘোষণা করেছেন "রেডিও রাশিয়া" ও অন্য দুটি রুশ রেডিও স্টেশনের কাছে এক একান্ত সাক্ষাত্কারে রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভ. রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, এই দলিল নিয়ে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের আলোচনা খুবই বড় ধরনের মতান্তরের সূচনা করেছে. এই দলিলের প্রধান খুঁত হল, সের্গেই লাভরভের মতে একতরফা ভাবে পরিস্থিতির বিচার সমস্ত দোষই চাপানো হয়েছে রাষ্ট্রপতি বাশার আসাদের নেতৃত্বাধীন সরকারের উপরে. রাশিয়া প্রথম থেকেই শান্তিপূর্ণ মিছিলের উপরে শক্তি প্রয়োগের নিন্দা করেছে. কিন্তু একই সঙ্গে নিন্দা করেছে চরমপন্থী দেরও, যারা শান্তিপূর্ণ মিছিলে অংশ নিয়ে প্ররোচনা দিয়েছে সরকারি ফৌজ ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে. চরমপন্থীরা ইরাক ও লেবানন থেকে বেআইনি ভাবে আনা অস্ত্র দিয়ে লড়ছে – আর এই তথ্য কেউই অস্বীকার করছে না, বলে বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন লাভরভ. পশ্চিমের পক্ষ থেকে লিবিয়ার ঘটনাকে প্রতিবেশী দেশ গুলির জন্য আদর্শ বলে প্রচারের যে চেষ্টা করা হচ্ছে, তা শুধু আরও বেশী করে হিংসার জন্যই প্ররোচনা দিচ্ছে. রাশিয়ার অবস্থান – সমস্ত বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা, বলে শেষ করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান.


সের্গেই লাভরভ রাশিয়া লিবিয়ার নতুন সরকারের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরী করবে প্রাক্তন প্রশাসনের সঙ্গে করা চুক্তির উপরে নির্ভর করে

 

রাশিয়া লিবিয়ার অন্তর্বর্তী কালীণ জাতীয় সভাকে স্বীকার করে নিয়েছে, দেশের আইন সঙ্গত প্রশাসন বলে – ঘোষণা করেছেন সের্গেই লাভরভ, রেডিও রাশিয়া ও অন্য দুটি রুশ রেডিও চ্যানেলকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাত্কারে. রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধানের কথামতো, মস্কো লিবিয়ার নতুন প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছে, তা যেমন এই আফ্রিকার দেশের রুশ দূতাবাসের মাধ্যমে, তেমনই রাশিয়ার বিশেষ আফ্রিকা সংক্রান্ত প্রতিনিধি মিখাইল মার্গেলভের মাধ্যমেও. আমরা চাই আমাদের সম্পর্ক যেন সেই সমস্ত চুক্তি ও সমঝোতা রক্ষা করেই করা হয়, যা হয়েছিল আমাদের দেশ ও লিবিয়ার প্রাক্তন প্রশাসনের মধ্যে – বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন সের্গেই লাভরভ. আর, মন্ত্রীর কথা অনুযায়ী অন্তর্বর্তী কালীণ জাতীয় সভার প্রতিনিধিরা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, তাঁরাও এই নীতির যুক্তি নিয়ে চলবেন. তার উপরে নতুন প্রশাসন যে, তাঁদের আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালন করবেন এই বিষয়ে নিয়ম, রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে নেওয়া লিবিয়া সংক্রান্ত সিদ্ধান্তেও বলা রয়েছে. সুতরাং সম্পর্ক তৈরী হবে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সমানাধিকার ও লাভের কথা ভেবেই, এই বলে প্রসঙ্গ শেষ করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান.


মুহম্মর গাদ্দাফির মৃত্যু প্রশ্নের উদ্রেক করে, কর্নেলের হত্যার তদন্ত করা প্রয়োজন

সের্গেই লাভরভ মন্তব্য করেছেন যে, গাদ্দাফিকে বন্দী করার সময়ে আন্তর্জাতিক কনভেনশন অমান্য করা হয়েছে, আর ন্যাটো জোটের বিমান বাহিনী, যারা কর্নেলের গাড়ীর কনভয়ের উপরে বোমা বর্ষণ করেছে, তারা রাষ্ট্রসঙ্ঘের সিদ্ধান্ত লঙ্ঘণ করেছে

"ন্যাটো জোটের শক্তিকে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছিল লিবিয়ার আকাশ উড়ান শূণ্য করার জন্য, অর্থাত্ যাতে লিবিয়ার বিমান বাহিনীর বিমান আকাশে উড়তে না পারে. উড়ান শূণ্য এলাকায় জমির উপরে কোন লক্ষ্য নির্দিষ্ট করে বোমা ফেলার জন্য নয়, আর তার মধ্যে গাদ্দাফির কনভয় ও পড়ে. সুতরাং আমাদের আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে ন্যাটো জোটের কাজকর্মের মূল্যায়ণ করা দরকার."

সের্গেই লাভরভ একই সঙ্গে পশ্চিমের দেশ গুলিকে লিবিয়ার সামরিক অনুপ্রবেশের অভিজ্ঞতা ভবিষ্যতে অন্যদেশের উপরে করার বিষয়ে সাবধান করে দিয়েছেন. "আমরা চাই না যে, ভবিষ্যতে এই ধরনের বিরোধের ক্ষেত্রে বিদেশী প্রভাব বিস্তার সামরিক অনুপ্রবেশে পরিণত হোক, যা আন্তর্জাতিক আইনের খুবই বড় ধরনের লঙ্ঘণ, তার মধ্যে নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্তও পড়ে. তাই আমি খুবই নিশ্চিত যে, সমস্ত ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে খুঁটিয়ে বোঝা দরকার ও তা দরকার আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিকোণ থেকেই."

 


যে ভাবে মুহম্মর গাদ্দাফিকে হত্যা করা হয়েছে, তা বেশ কয়েকটি প্রশ্নের উদ্রেক করে, এই বিষয়ে ঘোষণা করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রী "রেডিও রাশিয়া" ও অন্যান্য দুটি রুশ রেডিও স্টেশনের সঙ্গে একান্ত সাক্ষাত্কারে.

রাশিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান প্রথম লিবিয়ার নেতার মৃত্যু নিয়ে মুখ খুলেছেন.

"আমি বিশ্বের বহু নেতার তরফ থেকেই সন্তোষ এমনকি আনন্দ প্রকাশ করে এই প্রসঙ্গে ঘোষণা ইতিমধ্যেই শুনতে পেয়েছি, যে স্বৈরাচারী মৃত. আমি এই সমস্ত ঘোষণার কোন মূল্যায়ণ করতে চাই না. আমরা বাধ্য হবো শুধু বাস্তব ঘটনা ও আন্তর্জাতিক আইনের উপর নির্ভর করতে. আর আন্তর্জাতিক আইনে বলা হয়েছে যে, সশস্ত্র যুদ্ধের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংক্রান্ত নিয়ম পালন করা দরকার. এই নিয়ম গুলি জেনেভা সম্মেলনে গত শতকের চল্লিশের দশকেই নেওয়া হয়েছিল, তারপরে তার সঙ্গে নানা ধরনের নির্দেশ যোগ করা হয়েছে. এই সমস্ত কনভেনশনে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে যে, যেই কোন সশস্ত্র যুদ্ধে অংশ নেওয়া লোক ধরা পড়ে যায়, তখন তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকে, তার মধ্যে তাকে সাহায্য করার কথাও রয়েছে. যে সমস্ত ছবি আমরা দেখতে পেয়েছি টেলিভিশনে, তা বলছে যে, গাদ্দাফি বন্দী হয়েছিল, আহত অবস্থায়. আর পরে বন্দী অবস্থায় তার প্রাণ হরণ করা হয়েছে. শুধুশুধুই আজ রাষ্ট্রসঙ্ঘের মানবাধিকার সংরক্ষণ পরিষদের প্রধান ঘোষণা করেন নি যে, তাঁর মৃত্যুর সমস্ত পরিস্থিতির তদন্ত করা দরকার."

সের্গেই লাভরভ মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, গাদ্দাফির আইন সঙ্গত হওয়ার অধিকার হারিয়ে ফেলা নিয়ে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি একাধিকবার ঘোষণা করেছেন. রাশিয়ার এই অবস্থান ফ্রান্সের দোভিল শহরে অর্থনৈতিক ভাবে প্রভাবশালী "আটটি বড় দেশের" শীর্ষ সম্মেলনেও নথিবদ্ধ করা হয়েছিল.