গত অগাস্ট মাসে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া লিবিয়ার নেতা মুয়াম্মার গদ্দাফি বিদ্রোহী ফৌজের হাতে সির্ত শহরে নিহত হয়েছেন. অন্তর্বর্তীকালীন জাতীয় পরিষদের সভাপতি মাহমুদ জিব্রিল জানিয়েছেন, যে গাড়িতে করে গদ্দাফিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল, পথে সেই গাড়িটাকে তাক করে গুলিবর্ষণ করা হয়. তিনি আরও বলেছেন, যে ঠিক কার গুলিতে লিবিয়ার প্রাক্তণ নেতা মারা গেছেন, সেটা বোঝা যায়নি. ‘আন্তর্জাতিক রাজমুক্তি’ নামক মানবাধিকার রক্ষাকারী সংস্থা গদ্দাফির মৃত্যুর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবী করেছে. গদ্দাফির মৃতদেহ মিসুরাতা শহরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে. ঐ শহর ছিল বিদ্রোহীদের সংগ্রামের প্রতীক. আজ গোপনে মুসলিম প্রথা অনুযায়ী গদ্দাফিকে কবর দেওয়া হবে. গদ্দাফি লিবিয়ায় গত ফেব্রুয়ারি মাসে বিপ্লব শুরু হওয়ার সময় থেকে ঘোষণা করেছিলেন, যে তিনি দেশ ছেড়ে কোথাও যাবেন না এবং দেহের শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত লড়াই করবেন. গত মঙ্গলবার মার্কিনী বিদেশ সচিব হিলারি ক্লিনটন ত্রিপোলি সফর করেন. তিনি এই আশা প্রকাশ করেন, যে গদ্দাফিকে আটক করা হবে অথবা তাকে হত্যা করা হবে.

      গদ্দাফির মৃত্যুতে লিবিয়ার বিদ্রোহীরা ও বিশ্ব জনসমাজ স্বস্তির নিশ্বাস ফেলেছে, আইন-আদালতের চক্করে আর পড়তে হবে না. রাশিয়ার রাজনীতিজ্ঞ ফিওদর লুকিয়ানভের মতে, ইরাকের রাষ্ট্রপতি সাদ্দাম হুসেনকে কেন্দ্র করে মামলায় প্রমাণিত হয়েছে, যে প্রাক্তণ রাষ্ট্রপ্রধানদের আইনানুগভাবে দোষী সাব্যস্ত করা অত সহজ নয়. গদ্দাফির মৃত্যুর পরে লিবিয়ার নতুন প্রশাসনের জন্যে সবচেয়ে জটিল পরিস্থিতির সৃস্টি হল. গদ্দাফির অনুগতরা খুব সম্ভবত গৃহয়ুদ্ধ বাঁধাবে না, কিন্তু দেশের অখন্ডতা বজায় ছিল একনায়কতন্ত্রী শাসনের জোরে. অতঃপর দেশবিভাগের তীব্র সম্ভাবনা রয়েছে.