পাকিস্তান তার ভূভাগে সামরিক অনুপ্রবেশের অগ্রহণীয়তা সম্পর্কে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে দিয়েছে. পাকিস্তানী সশস্ত্র বাহিনীর অধিনায়ক আশফাক কিয়ানি ওয়াশিংটনকে আহ্বান জানিয়েছেন উত্তর ওয়াজিরিস্তানের অঞ্চলে একতরফা ক্রিয়াকলাপ শুরু করার আগে “দশ বার চিন্তা করার”. এ প্রসঙ্গে আমাদের সমীক্ষক গেওর্গি ভানেতসোভ লিখছেন :

   কিয়ানির বিবৃতি হাক্কানি দলের বিরুদ্ধে আফগানিস্তানে ন্যাটো জোটের বাহিনীর সামরিক অভিযান শুরু হওয়া সম্পর্কে প্রত্যক্ষ প্রতিক্রিয়া হয়ে ওঠে. সামরিক ক্রিয়াকলাপ শুরু হয়েছে পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী তিনটি আফগান প্রদেশে – হোস্ত, পাক্তিয়া এবং পাক্তিকায়. ইস্লামাবাদ গুরুতরভাবে উদ্বিগ্ন যে, যেকোনো মুহূর্তে তা পাকিস্তানের ভূভাগে স্থানান্তরিত হতে পারে. ওয়াশিংটন একাধিকবার এমন ব্যবস্থা গ্রহণ সম্পর্কে পাকিস্তানকে ভয় দেখিয়েছিল. কারণ আফগানিস্তানের তালিবদের সবচেয়ে শক্তিশালী একটি দল - হাক্কানি দলের মূল ঘাঁটি সেখানেই অবস্থিত. উত্তর ওয়াজিরিস্তানে লুকিয়ে থাকে এ দলের প্রধান ফিল্ড কম্যান্ডাররা – জলালউদ্দীন এবং সরাজউদ্দীন হাক্কানি. সেখানেই রয়েছে তাদের সামরিক ঘাঁটি এবং অস্ত্র ভান্ডার, তালিমের শিবির. এখান থেকেই হাক্কানির জঙ্গীরা আফগানিস্তানের গভীরে হানা দেয় এবং আফগানিস্তানে পরবর্তী সন্ত্রাস অথবা সশস্ত্র আক্রমণের পরে সেখানেই ফিরে আসে, এবং এভাবে মার্কিনী ও ন্যাটো বাহিনীর হাতে প্রকৃতপক্ষে ধরা পড়ে না.

   ওয়াশিংটন দীর্ঘকাল ধরে ইস্লামাবাদের কাছে একনিষ্ঠভাবে দাবি করছিল, তারা যেন হাক্কানি দলের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালায়. কিন্তু পাকিস্তানের এ ব্যাপারে ছিল নিজস্ব পরিকল্পনা. হাক্কানির দল পাকিস্তানকে সাহায্য করতে পারে আফগানিস্তান থেকে আমেরিকানদের চলে যাওয়ার পরে সেখানে পাকিস্তানের প্রভাব বিস্তারে, মনে করছিল পাকিস্তানী আই.এস.আই. এই বড় খেলা আফগানিস্তানে হাক্কানি দলের বিরুদ্ধে মার্কিনীদের সামরিক ক্রিয়াকলাপের সূচনা ঘটিয়েছে. তবে ইস্লামাবাদে  পাকিস্তানের ভূভাগের উপর মার্কিনীদের আঘাত হানার সম্ভাবনা বাদ দেওয়া হচ্ছে না. রাশিয়ার বিজ্ঞানী – আমেরিকা-বিশেষজ্ঞ পাভেল জলোতারিয়োভও অনুরূপ মত পোষণ করেন :

   সত্যিই, সম্ভাবনা আছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের ভূভাগের উপর আঘাত হানতে পারে. উপরন্তু আমেরিকানদের জন্য এটা স্বভাবগত. তারা রাষ্ট্রীয় সীমানার প্রতি বিশেষ নজর দেয় না, তাদের জন্য এটা গৌন ব্যাপার, এবং এ সীমানার প্রতি তারা বিশেষ স্পর্শশীলও নয়. এমন দৃষ্টান্ত আফগানিস্তানে সামরিক অভিযানের শুরু থেকেই দেখা গেছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তালিব জঙ্গীদলগুলির উপর আঘাত হেনেছে, এবং কখনও কখনও প্রতিবেশী রাষ্ট্রের ভূভাগও এ আঘাত থেকে বাদ পড়ে নি. অতএব, দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে যে, মার্কিনীদের জন্য এটা স্বভাবগত. আর পাকিস্তানের জন্য সতর্ক করে দেওয়া খুবই ন্যায়সঙ্গত ব্যাপার.

   অবশ্য পাকিস্তান ওয়াশিংটনকে শুধু সতর্কই করে দেয় নি. এ দেশের সামরিক অধিনায়কমন্ডলী নির্দেশ দিয়েছে নিজের নিয়মিত সৈন্যবাহিনীকে আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে মোতায়েন করার, এবং এর দ্বারা সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জে উত্তর দেওয়ার দৃঢ়সঙ্কল্প প্রত্যক্ষভাবে প্রদর্শন করার. ওয়াশিংটনে কিছু “গরম মাথায়” তার প্রভাব পড়েছে. বৃহস্পতিবার মার্কিনী পররাষ্ট্র সচিব হিলারী ক্লিন্টন  সি.আই.এ-র ডিরেক্টর ডেভিড পেট্রেউস এবং রাজনৈতিক প্রশ্নে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী মিশেল ফ্লরনোই-কে নিয়ে পাকিস্তানে পৌঁছোচ্ছেন. তাঁরা পাকিস্তানী নেতৃবৃ্দের সাথে আলাপ-আলোচনার টেবিলে সঙ্কটজনক পরিস্থিতি মীমাংসার চেষ্টা করবেন. আশা করা হচ্ছে যে, পাকিস্তানে তথাকথিত “হাক্কানি নেটওয়ার্কের” সমস্যা মীমাংসার পথের অনুসন্ধানও মনোযোগের কেন্দ্রস্থলে থাকবে. সমস্যাটি, নিঃসন্দেহে সমস্যাপূর্ণ, তাই আলাপ-আলোচনার টেবিলে তা মীমাংসা করাই ভাল, সামরিক বল প্রয়োগের দ্বারা নয়.