এই অক্টোবর মাসেই পৃথিবীতে ৭০০ কোটিতম বাসিন্দার জন্ম হবে. কিন্তু এই নজিরবিহীন ঘটনা কিছু তথ্যের কারনে বিষাদময় হয়ে উঠছে. হুহু করে বাড়তে থাকা বিশ্বের জনসংখ্যার জন্য খাদ্যদ্রব্যের প্রবল ঘাটতি, এবং তা ক্রমশঃ বাড়তেই থাকবে. জাতিসংঘের খাদ্যদ্রব্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এখনই বিশ্বের প্রতি সাতজনের একজন পেটভরে খেতে পায় না.

        জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি খাদ্যের ঘাটতি ভারতে, চীনে, পাকিস্তানে, বাংলাদেশে. ঐ সব দেশে জনসংখ্যা দ্রুতহারে বাড়ছে. কিন্তু ‘গ্যালপ’ নামক গবেষণাকেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী ইদানীং আমেরিকাতেও খাদ্যাভাব দেখা দিচ্ছে. আপাত সমৃদ্ধ দেশ থেকে পাওয়া এই তথ্য রীতিমতো ভীতিজনক.

        পূর্বাভাস মতো, সামনের কয়েক বছরে পরিস্থিতির আরো অবনতি হবে.  খাদ্যদ্রব্যের উঁচু মূল্য ও ঘাটতির কারনে আরব দুনিয়ায় বিশৃঙ্খলা, এমনকি বিপ্লব পর্যন্ত শুরু হয়েছে. চার-পাঁচ বছর পরে কি হবে – সেটা কেউ বলতে পারছে না. তবে রাশিয়ার লোকসভার সাংসদ ভিক্তর সিমিওনভের মতে ক্ষিদের বাড়াবাড়িকে রোখা সম্ভব

       আমাদের সবারই আজ বুঝতে হবে, যে ৭০০ কোটি – এটা প্রথম সতর্কবার্তা. বছরে বছরে জনসংখ্যার হার আর খাদ্যের উত্পাদনের মধ্যে ফারাক ক্রমশই বাড়ছে. তাই সবারই ভাবতে হবে, যে কি করে খাদ্যের উত্পাদন বাড়ানো যায়, বিশেষতঃ যে সব দেশে সেই রকম সম্ভাবনা আছে. রাশিয়া তাদের মধ্যে -  প্রথম স্থানে.

        বাস্তবিকই, রাশিয়ায় খাদ্যদ্রব্যের উত্পাদন বাড়ানোর ব্যাপক সম্ভাবনা. বিশেষজ্ঞেরা হিসাব করে দেখেছেন, রাশিয়ার কৃষিশিল্প দেড়শো কোটি মানুষকে খাদ্য সরবরাহ করতে পারে. এবং তা দীর্ঘকাল মেয়াদী. তার গুরুত্ব পয়সা বা টনে মাপা যায় না. রাশিয়া ইদানীং জাতিসংঘের তত্বাবধানে বুভুক্ষু দেশগুলিকে খাদ্য সাহায্য দেয়. হাজার বছরের উন্নয়নের কর্তব্য নামক ঐ প্রকল্পের লক্ষ্য ২০১৫ সাল নাগাদ ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা বর্তমানের ৯০ কোটি ২৫ লাখ থেকে কমিয়ে ৬০ কোটিতে নামানো. তবে এই বিশ্বব্যাপী সমস্যার আশু সমাধান সম্ভব নয়.

        খাদ্যদ্রব্যের নিরাপত্তা – এটা হচ্ছে অধিবাসীদের জন্যে বস্তুগতভাবে এবং অপেক্ষাকৃত অল্প দামে খাদ্য সরবরাহ করা, বলছেন ‘সোভেকন’ কোম্পানির এক্সিকিউটিভ জেনারেল আন্দ্রেই সিজোভ.

        বুভুক্ষু থাকা – পৃথিবীতে কত পরিমান খাদ্য উত্পাদন করা হয়, তার ওপর নির্ভর করে না, প্রশ্ন হল ঐ সব দেশে মাথাপিছু গড় আয়ের পরিমান কত.

 বিশ্লেষকদের দৃঢ় বিশ্বাস, যে গরীব দেশগলিকে প্রত্যক্ষ সাহায্য দিলেই সমস্যার সমাধান হবে না. মূল ব্যাপার হচ্ছে, কৃষিশিল্পে দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগের প্রয়োজন. নভেম্বরের শুরুতে কান শহরে জি-২০ দেশগুলির শীর্ষ-সম্মেলনে এই প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা হবে.