ইউরো-এশীয় অর্থনৈতিক সংঘ নির্দিষ্ট আকার ধারন করেছে. সংঘের সদস্য দেশ রাশিয়া, বেলোরুশ ও কাজাকস্তানের প্রধানমন্ত্রীরা সংঘ গঠনের খসড়াচুক্তির প্রশ্নে ঐক্যমতে পৌঁছেছেন. সেন্ট-পিটার্সবার্গে প্রাক্তণ সোভিয়েত রাষ্ট্রগুলির প্রধানমন্ত্রীদের দুই দিন ব্যাপী সাক্ষাতকারের শেষে রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন – আমরা আশা রাখি, যে আগামী ডিসেম্বর মাসেই আমাদের রাষ্ট্রপতিরা উক্ত ঘোষণাপত্র স্বাক্ষর করবেন. আলোচনার মুখ্য বিষয় ছিল সোভিয়েতোত্তর ভূখন্ডে অর্থনৈতিক সমন্বয়ের বিকাশ.

      কাস্টমসের ঐক্যবদ্ধতা ও অভিন্ন অর্থনৈতিক মঞ্চ – এটাই হল ভবিষ্যতের পরিপ্রেক্ষিতে ইউরো-এশীয় অর্থনৈতিক সংঘ গঠনের জামিন. সম্প্রতি ‘ইজভেস্তিয়া’ সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রবন্ধে পুতিন বিষদে ইউরো-এশীয় সংঘের সদস্য দেশগুলির জাতীয় অর্থনীতির ওপর একটা তত্বাবধানকারী পরিষদ গঠনের পরিকল্পনার বর্ণনা দিয়েছেন, যে পরিষদ আধুনিক বিশ্বের একটা মেরুতে পরিণত হতে পারে এবং ইউরোপ ও দ্রুত উন্নয়নশীল এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের মধ্যে কার্যকরী যোগসূত্রের ভূমিকা নিতে পারে.

        প্রাকৃতিক সম্পদ, পুঁজি এবং মানুষের মেধা যদি একসাথে জড়ো করা যায়, তাহলে ইউরো-এশীয় সংঘ শিল্প ও প্রযুক্তির ক্ষেত্রে প্রতিদ্বন্দিতা করার যোগ্য হয়ে উঠতে পারে. রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আরও লিখেছেন, যে অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে কুশীলব যেমন ইউরোপীয় সংঘ, আমেরিকা, চীন বা আসিয়ানের মতো গুরুতর আঞ্চলিক শক্তিতে পরিণত হতে পারে ইউরো-এশীয় সংঘ এবং বিশ্বের সার্বিক উন্নয়ন সুনিশ্চিত করতে পারে.

      ইউরো-এশীয় সংঘের প্রকল্প সবার জন্য উন্মুক্ত. নতুন সদস্যদের অন্তর্ভুক্তিকে স্বাগত জানানো হবে. ভ্লাদিমির পুতিন তার প্রবন্ধে আরও লিখেছেন, যে বৃহত্তর ইউরোপের মতোই ইউরো-এশীয় সংঘ গঠন করা হবে সম্মিলিত স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও বাজারের অর্থনীতির ভিত্তিতে.

       সেন্ট-পিটার্সবার্গে ভূতপূর্ব সোভিয়েত দেশগুলির প্রধানমন্ত্রূদের অধিবেষণে বক্তৃতা দিয়ে পুতিন বলেনঃ

   প্রথমে আমরা ঐক্যবদ্ধ কাস্টমসের পত্তন করেছি. এখন কথা চলছে, যে আগামী ১লা জানুয়ারি থেকে অভিন্ন অর্থনৈতিক ভূখন্ড সৃস্টি করা হবে. এই ক্ষেত্রে আমাদের বহু নতুন আইন প্রনয়ণ করতে হবে, প্রত্যেক দেশেরই নিজস্ব জাতীয় আইনধারার পরিবর্ধন করতে হবে. এতদিন আমরা যে রকম উদ্দীপ্ত হয়ে কাজ করেছি, সে রকমই যদি আমরা সক্রিয় থাকি, তাহলে ২০১৫ সালের শেষ নাগাদ ইউরো-এশীয় সংঘ গঠনের কাজ আমরা শেষ করতে পারবো, যেখানে সঙ্গতির প্রশ্ন, যেমন ভিসার ব্যবস্থাও অন্তর্ভুক্ত হবে.

       সেন্ট-পিটার্সবার্গে অধিবেশনে সমস্ত রাষ্ট্রই সঙ্গতিসাধনের ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেছে. এর ব্যাখ্যা খুব সহজ – খালি চোখেই সব পক্ষের জন্য এটা কতখানি লাভজনক, তা প্রত্যক্ষ করা যায়. যেমন কাস্টমস ইউনিয়ন গঠন করার ১ বছরের মধ্যে রাশিয়া, বেলোরুশ ও কাজাকস্তানের মধ্যে পণ্য-আবর্তন এক-তৃতীয়াংশ বেড়েছে ও ১০৮০০ কোটি ডলারে গিয়ে পৌঁছেছে.

      খুব শীঘ্রই কির্গিজিয়া কাস্টমস ইউনিয়নে যোগ দেবে. তারপরে তাজিকিস্তান. যেহেতু ঐ দেশের ত্রয়ীদেসের সাথে অভিন্ন সীমান্ত নেই, তাই তাকে অপেক্ষা করতে হবে, যতদিন না কির্গিজিয়া সংঘে যোগ দেয়. তাছাড়া মঙ্গোলিয়াও একাধিকবার সংঘের সদস্য হওয়ার ইচ্ছাপ্রকাশ করেছে. উক্ত কাস্টমস ইউনিয়নের সাথে সিরিয়া অবাধ বাণিজ্যভূমি গড়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে. নিউজিল্যান্ড ও ভিয়েতনামও কাস্টমস ইউনিয়নের সাথে অবাধ বাণিজ্যভূমি গড়ার পরিকল্পনা করছে. দুয়ার সবার জন্যই উন্মুক্ত.