পাকিস্তান “তহরিক-ই-তালিবান” আন্দোলনের সাথে আলাপ-আলোচনা শুরু করবে জঙ্গীরা অস্ত্র সমর্পণের পরেই. এ সম্বন্ধে বলেছেন দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রহমান মালিক. গত সপ্তাহে সরকারী ইস্লামাবাদ এবং তালিবরা এমন সংলাপের সম্ভাবনা এবং আপোষ অর্জনের পক্ষে মত প্রকাশ করেছে. আমাদের সমীক্ষক গেওর্গি ভানেত্সোভ এ প্রসঙ্গে লিখছেন :

   আলাপ-আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু করার প্রস্তুতি ছিল তালিবদের প্রথম প্রতিক্রিয়া, পাকিস্তানে স্থিতিশীলতা পুনর্স্থাপনের শান্তিপূর্ণ ও সাংবিধানিক পথ সম্পর্কে দেশের সমস্ত রাজনৈতিক ও ধর্মীয় সংস্থার সেপ্টেম্বরের সম্মেলনে গৃহীত সিদ্ধান্তে. সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল প্রধানমন্ত্রী ইউসুফ রজা গিলানীর সভাপতিত্বে. তবে, বহু বিশেষজ্ঞ গুরুতর সন্দেহ প্রকাশ করছেন যে, তালিবরা নিজেদের অভিপ্রায়ে আন্তরিক এবং তারা অস্ত্র সমর্পণ করবে.

   যেমন, কয়েক বছর আগে, পাকিস্তান চেষ্টা করেছিল তালিবদের সাথে শান্তি সম্পর্কে সমঝোতায় আসার, সোয়াত নদীর উপত্যকায় শরিয়াতের আইন প্রবর্তনে তাদের সম্মতি হিয়ে. কিন্তু এ থেকে ভাল কিছু পাওয়া যায় নি. শান্তির সমঝোতা বাতিল করতে হয়েছিল, কারণ তালিবরা পাকিস্তানের অন্যান্য অঞ্চলেও শরিয়াতের আইন জোর করে চাপাতে চেষ্টা করেছিল. তাদের থামানোর জন্য পাকিস্তানের সামরিক অধিনায়কমন্ডলী দেশের উত্তর-পশ্চিমে ব্যাপক পরিসরের সামরিক অভিযান শুরু করতে বাধ্য হয়েছিল.

   বর্তমানে তালিবরা পাকিস্তানের সরকারের সাথে খোলাখুলি যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে পৃথক পৃথক সশস্ত্র আক্রমণ এবং সন্ত্রাস চালিয়ে. সরকারী তথ্য অনুযায়ী, বিগত বছরগুলিতে তালিব জঙ্গীদের আক্রমণের শকার হয়েছে প্রায় ৫ হাজার পাকিস্তানী সৈনিক এবং নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মী.

    এই “তহরিক-ই তালিবান”, নিঃসন্দেহে নিজেদের লক্ষ্য সাধনের চেষ্টা করছে. পাকিস্তানী কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ-আলোচনার টেবিলে বসে এবং কোনো শান্তিপূর্ণ সমঝোতা অর্জন না করে, তালিবরা এভাবে উত্তর ওয়াজিরিস্তানে মার্কিনী বাহিনীর অনুপ্রবেশ এড়াতে চায়.

   পাকিস্তান-অধ্যয়নকারী বিজ্ঞানী ভ্লাদিমির সোতনিকোভ মনে করেন যে, মার্কিন-পাক সম্পর্কে তালিবদের সাথে সম্ভাব্য অগ্নি-সংবরণ এক তুরুপের তাস হয়ে উঠছে. তিনি বলেন :

   সরকারী ইস্লামাবাদ মার্কিনীদের সাথে দর কষাকষিতে এক ধরণের অতিরিক্ত “খোলা-হাতের” সুযোগ পাবে. এ থেকে কি লাভ হবে বলা কঠিন. তালিবরা ট্যাক্টিক্যাল স্বার্থের খাতিরে কিছুটা আপোষ করতে পারে. তবে, দীর্ঘকালীন সমঝোতা অর্জিত হবে বলে মনে হয় না. তালিবদের সাথে আলাপ-আলোচনার পুরো ইতিহাস দেখায় যে, “তহরিক-ই-তালিবান” শান্তি চুক্তি সম্পাদন করে শিগগিরই নিজেই তা লঙ্ঘন করেছে. সরকারী ইস্লামাবাদের জন্য তালিবদের সাথে সমঝোতা মার্কিনীদের এ অভিযোগ এড়ানোর এক ধরণের চেষ্টা যে, ইস্লামাবাদ নিষ্ক্রিয় রয়েছে এবং আফগান-পাক সীমান্ত অঞ্চলে তালিবদের সমস্যা মীমাংসা করছে না.

   একই সঙ্গে, তালিবদের সাথে আলাপ-আলোচনার টেবিলে বসা সম্পর্কে পাকিস্তানী কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত দেরী হয়ে যাওয়া পদক্ষেপ হয়ে উঠতে পারে. আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলের তিনটি প্রদেশে – হোস্ত, পাক্তিয়া ও পাক্তিকা প্রদেশে আফগানিস্তানের জাতীয় বাহিনী এবং ন্যাটো বাহিনীর মিলিত ব্যাপক পরিসরের “ছুরির ধার” নামে সামরিক অভিযান শুরু হয়েছে সন্ত্রাসবাদী তালিবপন্থী জালালউদ্দীন হাক্কানির সশস্ত্র দলের বিরুদ্ধে. যে কোনো সময়ে তা স্থানান্তরিত হতে পারে পাকিস্তানের ভূভাগে উত্তর ওয়াজিরিস্তানে.