আফগানিস্তানের সাংসদরা পাকিস্তানের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করার দাবী করেছেন রাষ্ট্রপতি হামিজ কারজাইয়ের কাছে. কারন – পাকিস্তান থেকে আফগানিস্তানের ভূখন্ডে ব্যাপকহারে গোলাগুলি বর্ষণ. তবে স্বয়ং কারজাই প্রকাশ্যে একে সাংবাদিকদের কল্পনাপ্রসূত বলে অভিহিত করেছেন. কিন্তু মজার ব্যাপার হল, পাকিস্তানের শীর্ষ সামরিক নেতৃবৃন্দ গোলাগুলি চালানোর কথা অস্বীকার করছে না, তবে বলছে, যে নিরপরাধ কোনো লোককে তারা হত্যা করেনি.

     বিশেষজ্ঞদের মতে, গোলাগুলি চালানোর প্রসঙ্গে কারজাইয়ের সংযত প্রতিক্রিয়া পাকিস্তানের সাথে সম্পর্কের চরম অবনতি থেকে গা-ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা. সাম্প্রতিক কালে দুই দেশের সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটেছে. আফগান প্রশাসন রাষ্ট্রপতি কারজাইয়ের ওপর ব্যর্থ হত্যাকান্ডের অভিযোগ করেছে পাক গুপ্তচর বিভাগের বিরূদ্ধে. প্রাক্তণ রাষ্ট্রপতি রাব্বানির হত্যাকান্ডের সাথেও পাকিস্তানিরা জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে. ইসলামাবাদ অবশ্যই ঐ অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে. একইসঙ্গে পাশাপাশি ওয়াশিংটনের সাথেও ইসলামাবাদের সম্পর্কের ক্রমশঃ অবনতি ঘটছে.

    আমরা দেখতে পাচ্ছি, যে ঐ এলাকায় দ্বন্দের অভাব নেই. বিশ্ব অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী ভ্লাদিমির সোতনিকভ বলছেন –

     পাক-আফগান পারস্পরিক সম্পর্ককে দোলনা বলে অভিহিত করা যেতে পারে. এখন এই সম্পর্ক তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে. শুধু রাব্বানির হত্যাকান্ডই এর কারন নয়. কাবুল মনে করে, যে পাকিস্তানের গুপ্তচর বিভাগ তালিবানদের সবচেয়ে উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলিকে মদত দেয়, বিশেষতঃ হাক্কানি গোষ্ঠীকে, যাদের ঘাঁটি পাকিস্তানে. ইসলামাবাদ ও কাবুলের মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষ হোক – সেটা ওয়াশিংটন চায় না. পাকিস্তানের সাথে আমেরিকার সম্পর্কও এখন ভালো নয়. না জানিয়ে বেন লাদিনকে খতম করার পরে সম্পর্কের চরম অবনতি ঘটেছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তানের সাথে সীমান্তবর্তী পাকিস্তানি এলাকায় চালকবিহীন ড্রোন বিমান থেকে বোমাবর্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে. পাকিস্তানিরা একে আমেরিকার ঔদ্ধত্য বলে মনে করে.

      আফগানিস্তানে পাশ্চাত্য সশস্ত্র সামরিক বাহিনীর তথ্য-সচিব ইয়াকবসন কয়েকদিন আগে হাক্কানি গোষ্ঠীর বিরূদ্ধে সফল সংগ্রামের রিপোর্ট দিয়েছেন. তিনি ঐ গোষ্ঠীর অপরাধমুলক কার্যকলাপ ও মাদকদ্রব্য পাচারে জড়িত থাকার কথা বলেছেন. অন্যদিকে মার্কিনী বিদেশ সচিব হিলারি ক্লিনটন ঘোষণা করেছেন, যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হাক্কানি গোষ্ঠীর সাথে শান্তিপূর্ণ আলাপ-আলোচনার সম্ভাবনাকে বাতিল করে দিচ্ছে না. এমনকি আমেরিকার জন্যেও এটা কি বাড়াবাড়ি রকম দুমুখো নীতি হয়ে যাচ্ছে না? ভ্লাদিমির সোতনিকভ এই প্রশ্নের উত্তরে বলছেন –

     মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র হয়তো সরকারিভাবে নয়, কিন্তু তালিবদের রাজনৈতিক শক্তি হিসাবে স্বীকার করে নিয়েছে. তারা নরমপন্থী তালিবদের সাথে আলাপ-আলোচনা শুরু করেছে. এবার চরমপন্থী হাক্কানি গোষ্ঠীর প্রসঙ্গ. বোঝা যাচ্ছে না, যে মার্কিনী ফৌজ আফগানিস্তান ত্যাগ করলে সে দেশের কি হাল হবে. হয়তো বা ক্ষমতায় আসবে নতুন লোকেরা, যাদের মধ্যে অর্দ্ধেক হবে তালিব. ওয়াশিংটন, এমনকি ইসলামাবাদের পক্ষেও সেটা খারাপ নয়. আমেরিকার জন্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল – ঐ এলাকায় নিজস্ব প্রভাব বজায় রাখা, কারন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রতিদ্বন্দী চীন ক্রমশঃই বেশি করে মাথা তুলে দাঁড়াচ্ছে.