পৃথিবীর ৮০টিরও বেশি দেশের কর্তৃপক্ষ প্রতিবাদ আন্দোলনের খতিয়ান টানছে, যা এই ছুটির দিনগুলিতে বড় বড় শহরে ছড়িয়ে পড়েছিল. গোড়ায় নিছক আমেরিকান উদ্যোগ “ওয়াল স্ট্রীট দখল” বিশ্বব্যাপী চরিত্র ধারণ করে. কর্তৃপক্ষের আর্থিক নীতি এবং ব্যাঙ্ক মালিকদের প্রাধান্য দানের জন্য বিক্ষোভ এখন সমস্ত মহাদেশেই ধ্বনিত হচ্ছে. বিশেষজ্ঞরা ইতিমধ্যে সমাজতান্ত্রিক ধারণার পুনরুজ্জীবন সম্বন্ধে বলতে শুরু করেছেন.

   বিগত ছুটির দিনগুলিতে এশিয়া, ইউরোপ, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার তথ্য এজেন্সিগুলির খবর এ বছরের গোড়ায় উত্তর আফ্রিকার বিপ্লব ঘটা রাষ্ট্রগুলির খবরের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছিল. নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায় দেখা দেওয়া মিছিলের ঢেউ সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে এবং হাজার হাজার লোককে ঐক্যবদ্ধ করে. তারা সকলে একই রকম স্লোগান নিয়ে মিছিলে যোগ দেয় : অর্থনৈতিক সঙ্কটের জন্য পুঁজিপতি আর রাজনীতিজ্ঞদের জবাবদিহি করা উচিত্. সবচেয়ে জনপ্রিয় প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল “৯৯%”. এর অর্থ হল মাত্র এক শতাংশ মানুষ, সমাজের বাকি সকলের স্বার্থ উপেক্ষা করে, বেশির ভাগ সম্পদের অধিকারী. প্রতিবাদ আন্দোলনের অংশগ্রহণকারীরা ব্যাঙ্ক মালিকদের “আর্থিক সন্ত্রাসবাদী” বলে অভিহিত করে. জার্মানিতে মিছিলের অংশগ্রহণকারীরা বলে :

   আমরা, সাধারণ লোকেরাই, হাড়ে হাড়ে অনুভব করছি আর্থিক শাখা যা করছে. এভাবে আর চলতে পারে না.

   আমরা – সমাজের ৯৯ শতাংশ. আর আমরা এখানে এসেছি নিজেদের স্বাধীনতা রক্ষার জন্য. আমরা নিজেদের প্রতি ধনীদের দাসের মতো ব্যবহার করতে দিতে পারি না. আমরা এটা আর চাই না.

   অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও এশিয়ার দেশগুলিতে প্রতিবাদ আন্দোলন চলে শান্তিপূর্ণভাবে. তবে, ইউরোপে ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিশৃঙ্খলা ঘটা পর্যন্ত ব্যাপারটা গড়ায়. লন্ডনে মিছিল সমাবেশের মুখ্য জায়গা ছিল স্টক-এক্সচেঞ্জ ভবনের সামনের স্কোয়ার. তবে পুলিশ সেখানে জনতার ভিড় সরিয়ে দিতে সক্ষম হয়, তবে তারপরে মিছিলকারীরা সমবেত হয় সেন্ট পল ক্যাথিড্রালের সামনে. সেখানে হঠাত্ এসে পৌঁছোন কেলেঙ্কারী জাগানো “উইকিলিক্স” সাইটের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান আস্সাঞ্জ, যিনি ব্যাঙ্ক মালিকদের তীব্র সমালোচনা করেন. আন্দোলনে বের হয় বিভিন্ন সামাজিত স্থিতি, বয়স ও শিক্ষা সম্বলিত লোকেরা, বলেন স্পাইরো ভ্যান লিমওয়েন, যিনি “লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জ দখল করো”  অভিযানের উদ্যোক্তা :

   এটি বিশ্বব্যাপী সমস্যা. আর এই প্রথম আমরা দেখতে পাচ্ছি সত্যিকার বিশ্বব্যাপী আন্দোলন, যা বিভিন্ন দেশের লোকেদের ঐক্যবদ্ধ করেছে. তারা সকলেই জোর দিচ্ছে একটি ধারণার উপর : আর্থিক ব্যবস্থা পরিবর্তন করা দরকার এবং তা সরকারকে পরিবর্তন করবে. আমরা অনুভব করছি যে, বর্তমানের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পূর্ণ মাত্রায় আমাদের স্বার্থ প্রতিফলিত করছে না. সমস্ত “মালাই” সরিয়ে নিচ্ছে ব্যাঙ্ক মালিকদের সামান্য একটা দল, বাকি ৯৯ শতাংশ অধিবাসীকে সরিয়ে রেখে.

   ইতালিতে প্রতিবাদ আন্দোলন পরিণত হয় ভাঙচুর ও লন্ডভন্ডে. রোমে পোড়ানো হয় মোটরগাড়ি আর ভাঙ্গা হয় শো-কেস. প্রতিবাদ মিছিল হয়েছে কানাডা, মেক্সিকো, আর্জেন্টিনা ও চিলিতে. আর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রচার মাধ্যমের মনোযোগ নিবদ্ধ ছিল নিউ-ইয়র্কের কেন্দ্রস্থলে টাইম স্কোয়ারে আন্দোলনের প্রতি. স্কোয়ারে বের হয় হাজার হাজার লোক. পুলিশকে বল প্রয়োগ করতে হয়েছে, কয়েক শো জন প্রতিবাদকারীকে আটক করা হয়েছে. এখন আধুনিক পুঁজিবাদের নির্ভরস্থল – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্ক চলছে, এ সব ঘটনা আমাদের কোথায় নিয়ে যাবে. ওয়াশিংটন টাইমস পত্রিকার সাংবাদিক এবং সমাজতত্ত্ববিদ মেরিবেথ হিক্সের স্থিরবিশ্বাস – সমাজতন্ত্রের পুনরুথ্থান হচ্ছে :

   আমি নতুন প্রজন্মের তরুণদের অধ্যয়নে অনেক সময় ব্যয় করেছি. আর আমার স্থিরবিশ্বাস যে, এখন আমরা দেখতে পাচ্ছি আমেরিকান সমাজবাদীদের প্রথম প্রজন্মকে. তরুণদের মাঝে, জীবনের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গীতে বামপন্থী মনোভাবের প্রাধান্য রয়েছে. তারা এ ধারণা গ্রহণ করছে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে, আমাদের প্রচার মাধ্যম এবং ইন্টারনেট থেকে, পপ-কালচার থেকে. লক্ষ্য রাখবেন, সেই সঙ্গে প্রধান, যার প্রতি তারা নির্দেশ করছে তা হল – সমাজের অন্যায়. লোকে দূর্নীতি ও লোভে আসক্ত হচ্ছে.

   সারা পৃথিবীতে সভা ও মিছিলে অংশগ্রহণ করেছে লক্ষ লক্ষ মানুষ. বিশেষজ্ঞরা এ সম্ভাবনা বাদ দেন না যে, সঙ্কট গভীর হওয়ার সাথে সাথে প্রতিবাদের মনোভাব বাড়তে থাকবে. আর বল প্রয়োগের পদ্ধতিতে কর্তৃপক্ষ শুধু নতুন সঙ্ঘর্ষই প্ররোচিত করবে, আর তা যে নিয়ন্ত্রণাধীন করতে পারবে এমন কোনো কথা নেই.