আজ ১৬ অক্টোবর। বিশ্ব খাদ্য দিবস। এ বছর এ দিবসটির প্রতিপাদ্য বিষয় হচ্ছে 'সঙ্কট নিরসনে সহনশীল খাদ্যমূল্য নির্ধারণ'।জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা ১৯৪৫ সাল থেকে ১৬ অক্টোবরকে বিশ্ব খাদ্য দিবস হিসাবে পালন করে আসছে।   

 

বিশ্বে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা কমিয়ে আনা এখনও সম্ভব হচ্ছে না। উপরন্তু,জাতিসংঘ আগামীতে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। দ্রব্যমূল্যের দাম অনবরত বাড়তে থাকায় যেসব দেশকে খাদ্যশস্য আমদানীর ওপরই নির্ভর করে থাকতে হয়,ওই সব দেশের গরীব লোকজনদের মাঝে ক্ষুধার্তদের সংখ্যা আরও বেড়ে যাবে। তাছাড়া চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে আরও একবার বিশ্বে খাদ্যশস্যের দাম বেড়ে যাওয়াই মূলত আরব দেশগুলোতে বিক্ষোভ-আন্দোলন শুরু হওয়ার অন্যতম কারণ বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। বিশ্বে খাদ্যনিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে কাজ করে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) এবং  বিশ্ব খাদ্য প্রকল্প (ডাব্লিউএফপি)। রাশিয়া ২০০৬ সালে এফএও’র সদস্যপদ লাভ করে। এ বিষয়ে বিস্তারিত বলেছেন বিশ্ব খাদ্য প্রক্লপ ও খাদ্য ও কৃষি সংস্থায় নিযুক্ত রাশিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি এবং ইতালিতে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেক্সেই মেশকভ। তিনি জানাচ্ছেন, ‘খাদ্য ও কৃষি সংস্থা এই  সমস্যা সমাধানে কাজ করছে। এর সাথে সম্পৃক্ত হচ্ছে গ্রামীন ও কৃষিপণ্য এবং এর সাথে বনভূমি ও পানি জড়িত। এই সব প্রশ্নের সাথে আবার বিশ্বে দ্রব্যমূল্যের দাম বৃদ্ধি পাওয়ার সমস্যা জড়িত। তাছাড়া দীর্ঘমেয়াদি এই প্রশ্নাবলী ছাড়াও আজকের দিনে বিশ্বে রয়েছে অন্যান্য সমস্যা। আর এগুলো নিয়ে কাজ  করছে বিশ্ব খাদ্য প্রকল্প। বিশেষত,এই প্রকল্পের মাধ্যমেই বিশ্বের ওই সব দেশগুলোকে মানবিক সাহায্য দেয়া হয় যেখানে লোকজন ক্ষুধার কারণে অন্তত মারা না যায়’।

রাশিয়া জাতিসংঘের নীতিমালা অনুযায়ি নিয়মিতভাবে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে মানবিক সাহায্য পাঠিয়ে থাকে। অর্থনৈতিক মন্দা সত্বেও রাশিয়া গতবছর বিশ্ব খাদ্য প্রকল্পের সাহায্য তহবিলে ৩২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান দিয়েছে। এই অর্থ সাহায্য যা এশিয়া ও আফ্রিকার কয়েক মিলিয়ন গরীব মানুষের খাদ্য নিরাপত্তার কাজে ব্যয় করা হয়। তাছাড়া রাশিয়ার দেয়া ১ মিলিয়ন ডলার দিয়ে কেনিয়ার জনগনের জন্য ১ হাজার টন আটা ক্রয় করা হয়। পূর্ব আফ্রিকায়  ক্ষরা এবং দুর্ভিক্ষের স্বীকার হওয়া ওই অঞ্চলের ১ কোটি জনগনের জন্য ১ মাসের খাবারের নিশ্চয়তা দেয়া হয়।

ক্ষুধা ও দারিদ্রতার বিরুদ্ধে সংগ্রাম যা জাতিসংঘের‘সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষমাত্রা’ প্রকল্পের অন্তর্গত। সংস্থাটির প্রতিটি রাষ্ট্রই তা অনুমোদন দিয়েছে। আগামী ২০১৫ সাল নাগাদ বিশ্বে ক্ষাধার্ত মানুষের সংখ্যা ৬০০ মিলিয়ন পর্যন্ত কমিয়ে আনার  যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারন করা হয়েছে সেই প্রকল্পের কাজ অনেকটাই জটিল হবে। চলতি বছরে বিশ্ব খাদ্য প্রকল্পের আওতায় বিশ্বের ৭০টি দেশের ১০০ মিলিয়ন জনগনের খাদ্য সমস্যা সমাধান করা হয়।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার জানায়,গরীব দেশগুলোতে খাদ্য সংকট নিরসনে ওই দেশগুলোতে কৃষিপণ্য উত্পাদনের জন্য দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের প্রয়োজন। বিশ্বে খাদ্যমূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার বিষয়টি আগামী নভেম্বরে কানে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া জি-২০ ভুক্ত দেশগুলোর শীর্ষ নেতাদের বৈঠকে আলোচনা করা হবে।