দিল্লিতে তুর্কমেনিস্তান-আফগানিস্তান-পাকিস্তান- ভারত (টাপি) গ্যাস পাইপলাইন প্রকল্পের বাস্তবায়ন সংক্রান্ত তুর্কমেন-ভারত সাক্ষাত্ অনুষ্ঠিত হয়েছে. তার অংশগ্রহণকারীরা গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণের আর্থিক এবং প্রযুক্তিগত দিকগুলি আলোচনা করেছেন.

   গত বছরের ডিসেম্বরে আশখাবাদে তুর্কমেনিয়ার রাষ্ট্রপতি বের্দিমুহামেদোভের উদ্যোগে এই টাপি প্রকল্পে অংশগ্রহণকারী রাষ্ট্রগুলির শীর্ষসাক্ষাত্ অনুষ্ঠিত হয়েছিল. তার ফলাফলের ভিত্তিতে গ্যাস পাইপলাইন সম্পর্কে কাঠামোভিত্তিক চুক্তি এবং টাপি প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্পর্কে আন্তঃসরকারী চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল. তখনই সহমতে আসা হয়েছিল যে, বাকি সব দলিল পরে প্রস্তুত করা হবে এবং স্বাক্ষর করা হবে. দিল্লিতে আলাপ-আলোচনা চালানো হয়েছিল এ সব সমঝোতার কাঠামোতেই.

   টাপি গ্যাস পাইপলাইন – বড় এবং সাহসিকতাপূর্ণ প্রকল্প, তবে তার নির্মাণ এবং উপরন্তু তার ব্যবহার সমস্যাবহুল. এ পাইপলাইনের দৈর্ঘ্য ১৭০০ কিলোমিটারের উপর, আর তা নির্মাণের খরচ ৮০০ কোটি ডলার. তুর্কমেনিস্তানের ভূভাগে দৌলেতাবাদ খনি থেকে গ্যাস যাবে আফগানিস্তানের হেরাট, হেলমেন্দ ও কান্দাহার হয়ে, তারপর পাকিস্তানে বেলুচিস্তানের কোয়েটা এবং পাঞ্জাবের মুলতান হয়ে. এ অঞ্চলগুলি অশান্ত, আফগানিস্তানে ক্রমাগত যুদ্ধ চলার জন্য এবং এখানে বহুসংখ্যক জঙ্গী দলের অবস্থানের জন্য. এ পাইপলাইনের শেষ বিন্দু - পাক-ভারত সীমানার কাছে ফজিলকা শহর. আর এ দু দেশের মাঝে সম্পর্কও সহজ নয়.

   পাইপলাইনের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি খুবই বেশি, মনে করেন রাশিয়ার জাতীয় বিদ্যুত্শক্তি নিরাপত্তা তহবিলের ডিরেক্টর জেনারেল কনস্তানতিন সিমোনোভ. তিনি বলেন :

   আফগানিস্তান ও পাকিস্তানের মধ্যে দিয়ে গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণের ধারণাটি আমার অযৌক্তিক বলে মনে হচ্ছে. এমনকি একটি দেশের পরিস্থিতিও তা বোঝার জন্য যথেষ্ট. আর যদি আফগানিস্তান আর পাকিস্তান উভয় দেশকেই এতে যুক্ত করেন তাহলে, সত্যিই আশ্চর্য মনে হবে, এ পাইপলাইন যদি আদৌ তৈরি হয় এবং তা অন্ততপক্ষে দু সপ্তাহ সুরক্ষিত থাকে.

   সংশয়বাদীদের যুক্তি সত্ত্বেও প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে. কারণ হল এই যে, এ পাইপলাইন, যা ২০১৩ অথবা ২০১৪ সালে চালু করার কথা, এ প্রকল্পের সমস্ত অংশগ্রহণকারীর জন্য বিপুল অর্থনৈতিক গুরুত্ব ধারণ করে. তা ভারতকে সাহায্য করবে জাতীয় অর্থনীতির দ্রুত বিকাশ জনিত  জ্বালানীর সমস্যার মীমাংসায়. পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানও নিজেদের জ্বালানী সমস্যা মেটাবে. আর তুর্কমেনিস্তান সম্বন্ধে বলব যে এখন সে গ্যাস রপ্তানি করছে তিন দিকে : চীন, রাশিয়া ও ইরানে. টাপি পাইপলাইন নির্মাণের সাথে দেখা দেবে আরও একটি দিক – দক্ষিণ এশীয় দিক.

   সেইজন্যই চারটি দেশই এই ট্রান্স-আফগান গ্যাস পাইপলাইনের নির্মাণে তাড়াতাড়ি করার চেষ্টা করছে. অনুমান করা হচ্ছে যে, এ পাইপলাইন পাতার কাজে নামকরা বিদেশী কোম্পানিগুলিকে আহ্বান করা হবে. এসব কোম্পানির মধ্যে রাশিয়ার “গাজপ্রোম” কোম্পানির নামও করা হচ্ছে.  এ প্রকল্পে অংশগ্রহণের জন্য টাপি-র দেশগুলির প্রস্তাব মস্কো বিবেচনা করতে প্রস্তুত. এ ধরণের তেল ও গ্যাস পাইপলাইনের নির্মাণে “গাজপ্রোম” কোম্পানির বিপুল আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা আছে.