মার্কিনী রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক সাংবাদিক-সম্মেলনে ঘোষণা করেছেন, যে ইরানের বিরূদ্ধে যেকোনো ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বিবেচনা করা হচ্ছে. ওয়াশিংটন তেহেরানের বিরূদ্ধে সন্ত্রাসবাদী কর্মকান্ড সংগঠন করার অভিযোগ এনেছে এবং বিশ্ব জনসমাজের কাছ থেকে ইরানের বিরূদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার প্রশ্নে সমর্থন চাইছে.

    এই যেকোনো ব্যবস্থা যে কি, সেটা ওবামা প্রকাশ করেননি. তবে রুশ বিজ্ঞান এ্যাকাডেমির প্রাচ্যতত্ত্ব ইনস্টিটিউটের গবেষক ভ্লাদিমির ইসায়েভের মতে, কথা হচ্ছে শাস্তিমুলক ব্যবস্থা সম্পর্কে, এমনকি সশস্ত্র আক্রমনের সম্ভাবনাও বাতিল করা যায়না.

     বারাক ওবামার বক্তব্য রীতিমতো গুরুতর. সামরিক দিক থেকে এই মুহুর্তে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দেশ যদি যেকোনো ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ঘোষণা করে, তাহলে সবকিছুই সম্ভব, এমনকি সামরিক আক্রমণ.

     বিশেষতঃ ওয়াশিংটনের স্বভাব হয়ে গেছে বৈদেশিক রাজনীতির সমস্যার সমাধান করা অস্ত্রের মাধ্যমে. শুধুমাত্র গত কয়েক দশকে তারা সশস্ত্র আঘাত হেনেছে যুগোস্লাভিয়া, ইরাক, আফগানিস্তান, লিবিয়ার ওপর. ইরানের ব্যাপারে মার্কিনীরা বহুদিন ধরে অনুরুপ পরিকল্পনা নিয়ে রেখেছে, বলে মন্তব্য করেছেন নিকট-প্রাচ্য ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ ইভগেনি সাতানোভস্কি.

     জুনিয়র জর্জ বুশের জমানায় কয়েকটি চিত্রনাট্য তৈরি করা হয়েছিল. একটা চিত্রনাট্যে ইরাকের পারমানবিক শক্তি কেন্দ্রগুলি ও তার প্রতিরক্ষার জন্য বসানো বিমান বিরোধী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করার পরিকল্পনা ছিল. দ্বিতীয় চিত্রনাট্য অনুযায়ী ‘ইসলামী বিপ্লবের প্রহরী’দের দখলে থাকা সমস্ত সামরিক ঘাঁটি ধ্বংস করার পরিকল্পনা ছিল, আর তৃতীয় চিত্রনাট্য অনুযায়ী ইরান আর শিল্পোন্নত দেশ থাকতো না, প্রস্তর যুগে গিয়ে পৌঁছাতো, কারন সব বিদ্যুতকেন্দ্র, লৌহ ও ইস্পাত কারখানা, বিমানবন্দর, রাস্তাঘাট – সবকিছু ধ্বংস করার মতলব ছিল.

     উপরোক্ত চিত্রনাট্যের যেকোনো একটি অতঃপর মার্কিনীরা প্রয়োগ করতে পারে, ইরানের ভূখন্ডে পা না দিয়েই. কিন্তু জাতিসংঘের সম্মতি ছাড়া সেটা সম্ভব নয়. আর বিশ্ব জনসমাজের অনুমোদন পেতে গেলে, ইরানের অপরাধের প্রত্যক্ষ প্রমাণ দেখাতে হবে. তেহেরান নিজে সব দোষ অস্বীকার করছে. অন্যদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা করছে, যে ওয়াশিংটনে সৌদি আরবের রাজদূত আদেল আল-জুবেইরাকে হত্যার ষড়যন্ত্রে ইরানের শীর্ষস্থানীয় সামরিক নেতাদের জড়িত থাকার প্রত্যক্ষ প্রমাণ তাদের কাছে আছে.

     মার্কিনীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুই জন ইরানি মেক্সিকোয় খুনীদের ভাড়া করার চেষ্টা করেছিল, যাতে তারা ঐ রাজদূতকে হত্যা করে. ষড়যন্ত্র ফাঁস করা হয়েছে, একজন ইরানিকে আটক করা হয়েছে, দ্বিতীয় জন- আত্মগোপন করেছে. আদালতে এখনো মামলার শুনানী শুরু হয়নি, কিন্তু শুধুমাত্র সন্দেহই ওবামার জন্যে বিশ্ব জনসমাজকে ইরানের ভয়ঙ্কর অপকর্ম করা সম্পর্কে সুনিশ্চিত করতে বাধা দিচ্ছে না.

     তবে, অধিকাংশের কাছেই এই ঘটনায় উত্তরের থেকে প্রশ্ন বেশি – বলছেন মস্কোর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সের্গেই দ্রুঝিলোভস্কি.

    স্বাভাবিক যুক্তিতে এটা পুরোপুরি অবান্তর. রাজদূতদের ওপর ইরানের হামলা করার কোনো যুক্তি আমি দেখিনা. মনে হচ্ছে, যে আমেরিকা ইরানের বিরূদ্ধে বড়সড় ফন্দী এটেঁছে. হ্যাঁ, একজন ইরানিকে আটক করা হয়েছে, সেও আবার মার্কিনী নাগরিক. আপনারা ভাবতে পারেন আমেরিকার নাগরিক ইরানি – মানে তাকে অন্ততঃ দশবার তল্লাসী করা হয়েছে. আদালতের রায় প্রয়োজন, কারো সন্দেহের ভিত্তিতে, সে যদি আমেরিকার রাষ্ট্রপতিও হয়, সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়. আর আপাততঃ এই সব ঘোষণা- শুধু রাজনীতি মাত্র.

    জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের নিজের দলে টানার চেষ্টায় ওয়াশিংটন সব সদস্য দেশের প্রতিনিধিদের সাথে ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেছে. বিশ্বাস না করা মস্কো ও বেজিংয়ে বিশেষজ্ঞদের দল পাঠানো হযেছে, যাতে তারা রাশিয়া ও চীনকে যড়যন্ত্রের সত্যতা সম্পর্কে বোঝাতে পারে.

      এই প্রশ্নে মস্কোর অবস্থান অপরিবর্তিত. যে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে নিশ্ছিদ্র প্রমাণ দাখিল করতে হবে. আপাততঃ শুধু সন্দেহ, কোনো শাস্তি দেওয়ার ব্যাপারে কথা বলার সময় এখনো আসেনি.