মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সি.আই.এ-র প্রাক্তন প্রধান, আর বর্তমানে প্রতিরক্ষামন্ত্রী লেওন পানেট্টা স্বীকার করেছেন যে, পাকিস্তানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রকৃত যুদ্ধ চালাচ্ছে তালিব জঙ্গীদের বিরুদ্ধে, এবং তাতে বৈমানিকহীন ড্রোন বিমানও ব্যবহার করছে. এ সম্বন্ধে তিনি জানান ওয়াশিংটনে উড্রো উইলসন কেন্দ্রে বক্তৃতা দিয়ে. আমাদের সমীক্ষক গেওর্গি ভানেতসোভ এ প্রসঙ্গে লিখছেন :

   পাকিস্তানীদের জন্য লেওন পানেট্টার এ স্বীকৃতিতে নতুন কিছুই নেই. ২০০৪ সাল থেকে মার্কিনী ড্রোন বিমান থেকে রকেটের আঘাত হানা হচ্ছে পাকিস্তানের বসতি-কেন্দ্রগুলির উপর. আমেরিকানরা মনে করে যে, তালিব জঙ্গীদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে ড্রোন বিমান থেকে রকেটের আঘাত সবচেয়ে ফলপ্রদ একটি উপায়. আফগান-পাক সীমানার দুর্গম পাহাড়ী এলাকায় তাদের কাছ অবধি পৌঁছোনো অন্য ভাবে সম্ভব নয়. তবে এমন আঘাতের ফলে শুধু জঙ্গীরাই নয়, এ অঞ্চলের শান্তিপূর্ণ অধিবাসীরাও মারা যাচ্ছে. এ সব আক্রমণের ফলে পাকিস্তানে শান্তিপূর্ণ অধিবাসীদের মাঝে নিহতদের সংখ্যা দু হাজারের উপরে পৌঁছেছে. তার মধ্যে ১৬০ জনের উপর শিশু. ব্যাপক মার্কিনবিরোধী মিছিল এবং এ রকম আক্রমণ বন্ধ করার জন্য পাকিস্তানী কর্তৃপক্ষের দাবি পাকিস্তানী সামাজিক জীবনের চারিত্র্য-বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছে. তবুও এ রকম আক্রমণ আজও চলছে. বুধবার দুটি রকেট বর্ষিত হয়েছে উত্তর ওয়াজিরিস্তানের মীরানশাহ শহরের এলাকায়.

   রাশিয়ার রাজনীতি বিশারদ ইয়েভগেনি সাতানোভস্কি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এমন ক্রিয়াকলাপে বিক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন :

   পাকিস্তানীদের জন্য সমস্যা হল তাদের দেশের রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন.পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনী, গোয়েন্দা বিভাগ, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ চূড়ান্ত আপত্তি জানাচ্ছে পাকিস্তানের ভূভাগে তাদের সম্মতি না নিয়ে যে কোনো অভিযান চালানোতে, এবং তাদের এ অধিকার অবশ্যই আছে.

   তবে ওয়াশিংটনে ন্যায়সঙ্গতভাবেই প্রশ্ন তোলা হচ্ছে, পাকিস্তানের ভূভাগে কেন স্বচ্ছন্দে ঘোরাফেরা করছে তালিব জঙ্গীরা, কেন সেখানে সন্ত্রাসবাদীদের জন্য সামরিক ঘাঁটি ও অনুশীলন কেন্দ্র গঠিত হচ্ছে. জানা আছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের মাঝে সম্পর্ক অতি তীব্র হয়ে ওঠে পাকিস্তানের অ্যাব্বোটোবাদ শহরে “আল-কাইদার” প্রধান উসামা বিন লাদেনকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে মার্কিনী বিশেষ বাহিনীর অনুপ্রবেশ.

   বাকযুদ্ধ এখন উত্তীর্ণ হচ্ছে প্রায়োগিক ক্ষেত্রে. ওয়াশিংটন এ বছরে পাকিস্তানকে সামরিক সাহায্য ৮০ কোটি ডলার কমিয়েছে এবং সতর্ক করে দিয়েছে যে, ভবিষ্যতে মার্কিনী সাহায্য নির্ভর করবে তালিবদের বিরুদ্ধে সংগ্রামে পাকিস্তানের অবদানের উপর. অন্যদিকে, পাকিস্তান দেশে মার্কিনী সৈনিকদের সংখ্যা হ্রাসের দাবি করেছে,  মার্কিনীদের জন্য নিজের শামসি সামরিক ঘাঁটি বন্ধ করেছে, যেখান থেকে ড্রোন বিমানগুলি উড়ত. আর, তবুও, সবকিছু বিচার করে মনে হয়, দু দেশ নিজেদের সম্পর্ক চূড়ান্তভাবে ছিন্ন করতে চায় না. উভয় দেশই ভালভাবে বোঝে যে, তারা পরস্পরকে বাদ দিয়ে থাকতে পারবে না. পাকিস্তানের সামরিক ও গোয়েন্দা মহল জানে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে পাওয়া সাহায্য হারালে তারা খুবই মুস্কিলে পড়বে. আর পাকিস্তানকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রয়োজন নিজের আফগান নীতির জন্য. এ উপলব্ধি- দু দেশের সম্পর্কের বর্তমান অবস্থার সারমর্ম. সম্প্রতি এ সম্বন্ধে আবার বলেছেন মার্কিনী পররাষ্ট্র সচিব হিলারী ক্লিন্টন. তিনি বলেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের সাথে সহযোগিতা চালিয়ে যাবে আফগানিস্তানে যুদ্ধপরবর্তী মীমাংসার ব্যাপারে, এমনকি, এ সত্ত্বেও যে, বর্তমানে ওয়াশিংটন ও ইস্লামাবাদের মাঝে সম্পর্ক মোটেই আদর্শ নয়.