রকেট বিরোধী প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে রাশিয়ার সাথে সহযোগিতা – আমেরিকার রাজনৈতিক  তালিকায় অগ্রগণ্য লক্ষ্য. বিদেশ দপ্তরের এক প্রতিনিধি গতকাল এ কথা ঘোষণা করেছেন. ভার্জিনিয়া নুল্যান্ডের মতে সার্বিক বিপদের আশংকার বিরুদ্ধে রাশিয়া ও আমেরিকার ঐক্যবদ্ধ উদ্যোগ গ্রহণ না করার কোনো কারন নেই.

        ওয়াশিংটন মস্কোকে গ্যারান্টির থেকেও বেশি – সহযোগিতার প্রস্তাব দিচ্ছে. ইউরোপীয় রকেট বিরোধী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা যেরাশিয়ার বিরূদ্ধে যাবে না, সে ব্যাপারে রাশিয়া গ্যারান্টি চাওয়ায়, তার প্রত্যুত্তরে নুল্যান্ড ঐ উক্তি করেছেন. তার মতে উক্ত ব্যবস্থা একান্তভাবেই প্রতিরক্ষার উদ্দেশ্যে.

        স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, যে ২০০৯ সালে বারাক ওবামার প্রশাসন পোল্যান্ড ও চেখে রকেটের বর্ম্য নির্মাণের প্রাথমিক পরিকল্পনা বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয়. ওয়াশিংটন শুধুমাত্র সমরজাহাজে রকেট বিরোধী ব্যবস্থা স্থাপণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকতে চেয়েছিল. পরের বছর লিসবনে শীর্ষসাক্ষাত্কারের সময় রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দমিত্রি মেদভেদেভ ন্যাটোকে যৌথ রকেট বিরোধী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ার প্রস্তাব দেন. ন্যাটো সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে, শুধু ভদ্রতার খাতিরে এ প্রসঙ্গে আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়. ন্যাটো আশ্বাস দেওয়ার চেষ্টা করে, যে ঐ বর্ম্য ইরান আর উত্তর কোরিয়া থেকে বিপদের আশঙ্কা নাশ করার উদ্দেশ্যে. আর যকন আলাপ-আলোচনা চলছে, সেইফাঁকে ওয়াশিংটন তুরস্ক ও রোমানিয়ার সাথে ঐ দুই দেশের ভূথন্ডে রকেট বিরোধী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অংশবিশেষ বসানোর চুক্তি স্বাক্ষর করেছে. আরও একটা ঘাঁটি জর্জিয়ায় বসানোর সম্ভাবনা আছে.

        তাহলে মার্কিনী বিদেশ দপ্তরের সর্বশেষ উক্তির অর্থ কি এই, যে তাদের অভিপ্রায় বদলেছে? কয়েকজন বিশেষজ্ঞের মতে এবারে নতুন কিছুই বলা হয়নি. ওয়াশিংটন বাস্তবিকই সহযোগিতা চায়, তবে আলোচনার প্রক্রিয়া ঢিমেতালে চলছে বলে মনে করেন আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ পিওতর তোপীচকানভ. (Голос Топычкова)

       আলোচনার মেয়াদ এত দীর্ঘকালীন হওয়ার কারন, যে ঐ সহযোগিতার মূলনীতি নিরুপম করা অত্যন্ত কঠিন. কোন কোন ক্ষেত্রে এবং কিভাবে মস্কো ও ওয়াশিংটন সহযোগিতা করতে পারে? আরও প্রশ্ন এই, যে ইরান কি সত্যিই আশংকার কারন? আমাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দক্ষিণমুখী নাকি পূর্বমুখী হবে? অন্য প্রশ্ন হল রাশিয়া ঐ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় কি অবদান রাখতে পারে? সেক্টরভিত্তিক রকেট বিরোধী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যেখানে আমরা ইউরোপের সুরক্ষা আর ইউরোপ আমাদের সুরক্ষা করতে পারতো – তা পাশ্চাত্য দুনিয়ার পছন্দ হয়নি.

         অন্য একটা মতও আছে. আমেরিকা খুব সম্ভবতঃ চালাকি করছে. ঐসব উক্তি করে একইসময়ে নিজস্ব রকেট বিরোধী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা স্থাপণ করার মতলব আছে. রেডিও রাশিয়াকে প্রদত্ত এক সাক্ষাতকারে এ কথা বলছেন রাজনৈতিক গবেষণা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ ভ্লাদিমির ইভসিয়েভ. (Голос Евсеева)

              মার্কিনীরা ভাণ করছে, যে তারা রাশিয়ার সাথে সহযোগিতা চায়. বিদেশ দপ্তর আলোচনার জন্য আগ্রহ দেখাচ্ছে. অন্যদিকে ডোভিলের আগে যে দলিল উভয়পক্ষের অনুমোদন পেয়েছিল, তা এখনো স্বাক্ষর করা হয়নি. আর সেই কারনেই আমেরিকা গুরুতর আলাপ-আলোচনায় যোগ দেবে – সে বিষয়ে সন্দেহ আছে. আমার মনে হয়, যে রাশিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারস্পরিক আস্থার মান এতখানি উঁচু নয়, যে রকেট বিরোধী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে তারা যৌথভাবে কাজ করতে পারে.

        ওয়াশিংটন ভণিতা করছে নাকি সত্যিই সহযোগিতার জন্য প্রস্তুত – খুব শীঘ্রই বোঝা যাবে. মার্কিনী অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ ও আন্তর্জাতিক মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী এলেন টাউশার মস্কোয় এসেছেন. তিনি রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রকের উপমন্ত্রী সের্গেই রীবকভের সাথে রকেট বিরোধী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা করবেন.