কয়েক মাস ধরে আন্না হাজারে দূর্নীতির বিরুদ্ধে যে অভিযান চালিয়েছেন, তার সক্রিয় পর্যায় এখন কিছুটা ম্লান হয়ে পড়েছে. তবে, অতি ভিন্ন ভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি – এবং সর্বপ্রথমে বিরোধীপক্ষ – তার ব্যবহার শুরু করেছে নিজেদের উদ্দেশ্যে, যাদের আন্না হাজারের অভিযানের লক্ষ্যের সাথে মিল কমই আছে.

   মঙ্গলবার ভারতের প্রধান বিরোধী পার্টি – ভারতীয় জনতা পার্টির নেতা লাল কৃষ্ণ আডওয়ানি দেশের কয়েকটি প্রদেশে বহু বিজ্ঞাপিত “ধর্মীয় যাত্রা” শুরু করেছেন. আর নিজের এই সফরের জন্য ৮৪ বছর বয়সী রাজনীতিজ্ঞ গাল-ভরা এক নামও বেছে নিয়েছেন – “জন চেতনা যাত্রা”.

   সেই সঙ্গে বিরোধীপক্ষের নেতা ব্যাপারটাকে এমনভাবে দাঁড় করাচ্ছেন যে বিভিন্ন প্রদেশে তাঁর এ যাত্রা, আন্না হাজারের দ্বারা শুরু করা কাজেরই ক্রমানুবর্তন. আন্না হাজারে এ বছরের বসন্তে, বলা যায়, একাই শুরু করেন এই দূর্নীতিবিরোধী অভিযান, তবে কয়েক মাসের মধ্যে তাঁর আন্দোলনে যোগ দেয় সারা দেশের লক্ষ লক্ষ মানুষ. অবশ্যই কাজটা ভাল : দূর্নীতি – এ হল অভিশাপ, যা শুধু ভারতকেই প্রভাবিত করে নি,  দেশের অর্থনৈতিক বিকাশেও ভীষণভাবে বাধা দিচ্ছে. আর তাছাড়া, দেশের দ্রুত বিকাশের প্রক্রিয়ায় যে সম্পদ উত্পাদিত হচ্ছে, তা দেশের গোটা জনসাধারণ পাচ্ছে না, তার ফল ভোগ করছে দূর্নীতিগ্রস্ত আমলা ও ব্যবসায়ীদের সঙ্কীর্ণ একটি স্তর.

   আর ভারতীয় জনতা পার্টি এবং নতুন ভারতের অগ্রদূত - আন্না হাজারের আন্দোলনের সঙ্ঘের সমর্থন হিসেবেই সম্প্রতি দেখা দিয়েছে এ খবর যে, ভারতীয় জনতা পার্টি আন্না হাজারে-কে রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করানোর পরিকল্পনা করছে.

   অবশ্য, এ হল শুধু গুজবই. তবে একটা বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই – তা হল এই যে, মঙ্গলজনক উদ্দেশ্য ঘোষণা করা অভিযান রাজনৈতিক শক্তিগুলি প্রায়ই ব্যবহার করে নিজেদের লাভের জন্য, মনে করেন রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক অধ্যয়ন ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি. তিনি বলেন :

   এ কথা গোপন নয় যে, বিগত কয়েক বছরে ভারতে আলোড়ন জাগানো বহুসংখ্যক দূর্নীতিমূলক কেলেঙ্কারী শুধু সরকার, ক্ষমতাসীন পার্টি ও তার সহযোগী পার্টিগুলিতেই সীমিত ছিল না. দূর্নীতি ভারতীয় “এস্ট্যাবলিশমেন্টের” এত গভীরে প্রবেশ করেছে যে, কোনো পার্টিই এ দোষ থেকে সম্পূর্ণভাবে মুক্ত বলে অনুভব করতে পারে না. ভারতীয় জনতা পার্টিও ব্যতিক্রম নয়. তাই একটা বড় প্রশ্ন ওঠে, লাল কৃষ্ণ আডওয়ানির নৈতিক অধিকার আছে কি আন্না হাজারের পক্ষসমর্থক ও অনুগামীদের মতো পোষাকে সজ্জিত হওয়ার.

   এ বিষয় স্পষ্ট যে, ভারতে আজ গড়ে উঠছে একেবারে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা, - মনে করেন বরিস ভলখোনস্কি. তিনি বলেন :

   আন্না হাজারের অভিযোগের উত্তরে সরকার এবং ক্ষমতাসীন পার্টি যে মৌনতা অবলম্বন করছে অথবা গভীর প্রতিরক্ষাত্মক ব্যবস্থা গ্রহণ করছে তার ফলে কর্তৃপক্ষের জনপ্রিয়তা ভীষণভাবে কমে গেছে. আর বিরোধীপক্ষ তা ব্যবহার করতে দেরি করে নি.

   আর এখন ঘন ঘনই শোনা যাচ্ছে যে, পার্লামেন্টারী নির্বাচনের জন্য ২০১৪ সালের অপেক্ষা করার দরকার নেই, তার অনেক আগেই তা পরিচালনা করা দরকার. এটা স্বাভাবিকই – কারণ কংগ্রেসকে শাসন ক্ষমতা থেকে সরানোর জন্য এটা অতি অনুকূল সময়, আর নির্বাচকদের মনোভাব তাড়াতাড়ি বদলায়.

   সাধারণভাবে বলা যায়, ঘটেছে সাধারণ এক ঘটনা :  দূর্নীতিবিরোধী অভিযানের গোড়ার লক্ষ্য যত ভালই হোক না কেন, সর্বদাই দেথা দেয় এমন সব শক্তি, যারা নিজেদের সস্তা জনপ্রিয়তার উদ্দেশ্য তা ব্যবহার করতে প্রস্তুত, যাকে বলা হয় “পলিটিক্স অ্যাজ ইউসুয়াল”.