চলতি বছরের শেষে রাশিয়া ও চীনের মধ্যে পণ্য-আবর্তন ৭০০০ কোটি ডলারে গিয়ে পৌঁছাবে. বেজিং সফরকালে রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন এই তথ্য দিয়েছেন. – আমরা সম্পূর্ণ নতুন স্তরের পণ্য-আবর্তনের দিকে এগোচ্ছি. স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, যে ২০০৮ সালে আর্থিক সংকট শুরু হওয়ার আগে সর্বাধিক পণ্য-আবর্তনের পরিমাণ ছিল ৫৬০০ কোটি ডলার. সংকটের আগে সেটাই ছিল সর্বাধিক পণ্য-আবর্তন. চীনের প্রধানমন্ত্রী ভ্যান জিয়াবাওয়ের সাথে বৈঠকের শেষে ভ্লাদিমির পুতিন আরও বলেছেন, যে চলতি বছরে আমরা অন্ততঃ ৭০০০ কোটিতে পৌঁছাবো, হয়তো বা ৮০০০ কোটির কাছাকাছি যাব. পুতিন এই দৃঢ়বিশ্বাস প্রকাশ করেছেন, যে ২০১৫ সাল নাগাদ দুই দেশ পণ্য-আবর্তনের পরিমাণ ১০০০০ কোটি ডলার পর্যন্ত বৃদ্ধি করতে সমর্থ হতে পারে, আর ২০২০ সাল নাগাদ ঐ সংখ্যা দ্বিগুন হতে পারে.

        চীন সম্প্রতি জার্মানীকে দ্বিতীয় স্থানে সরিয়ে রাশিয়ার বৃহত্তম বাণিজ্যিক শরিকে পরিণত হয়েছে. ভ্লাদিমির পুতিন উল্লেখ করেছেন, যে উপরন্তু সহযোগিতা চলছে বহু ক্ষেত্রেই. চীনের চেয়ারম্যান হু জিনটাওয়ের সাথে বৈঠকের সময় পুতিন বলেছেন, যে দুই দেশের সরকার যে সব প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়েছে, সে ব্যাপারে রাশিয়া চীনের চেয়ারম্যানের কাছ থেকে মদত পাওয়ার আশা রাখে.

        গত সন্ধ্যায় ভ্লাদিমির পুতিন চীনের সংবাদ প্রচারমাধ্যমগুলির সাথে এক সাক্ষাতকারে মিলিত হন. সাংবাদিকদের সবচেয়ে বেশি আগ্রহ ছিল দুই দেশের মধ্যে প্রাকৃতিক গ্যাস ও খনিজতেল নিয়ে চুক্তির ব্যাপারে. পুতিন বলেছেন – আমি মনে করি না, যে প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রশ্ন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ. সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল হাই-টেক প্রযুক্তি. শুধুমাত্র ঐতিহ্যগত লৌহ ও ইস্পাত শিল্প নয়, বিমান নির্মাণ শিল্পেও সহযোগিতা বৃদ্ধি করা দরকার.

     চীনের সাংবাদিকেরা রাশিয়ার আভ্যন্তরীন রাজনৈতিক জীবনের বিষয়েও আগ্রহ প্রকাশ করেন. বিশেষতঃ, কেন ভ্লাদিমির পুতিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন. (Голос Путина)

              বর্তমানে পদাসীন রাষ্ট্রপতি দমিত্রি মেদভেদেভের সাথে আমরা সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছি. কারন তা পরিচালন ব্যবস্থাকে দুর্বল তো করবেই না, বরং আরও মজবুত করবে. আমরা নির্বাচকদের সমর্থন পাওয়ার আশা রাখি, কারন সারা বিশ্বব্যাপী আর্থিক সংকটকালে কঠিন পরিস্থিতিতে আমরা ন্যূনতম ক্ষয়ক্ষতি ভোগ করেছি. সামাজিক ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে দেশের জন্য কি করণীয়, তা আমরা ভালো করেই জানি.

       সাংবাদিক-সম্মেলন চলাকালীন রাশিয়ার বিশ্ব-বাণিজ্য সংস্থায় যোগদানের প্রসঙ্গও ওঠে. পুতিনের ভাষায়, আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে মুখ্য সব সমস্যার মীমাংসা হয়ে গেছে. এখন ব্যাপারটা রাজনৈতিক স্তরে. রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন – আমার ব্যক্তিগত মত হল, রাশিয়ার বিশ্ব-বাণিজ্য সংস্থায় যোগদান মঙ্গলজনক, কিন্তু আবারও বলবো, রাশিয়ার কিছু কিছু শিল্পক্ষেত্রকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সুরক্ষা দেওয়ার প্রশ্নে আলাদা করে ঐক্যমতে পৌঁছাতে হবে. ভ্লাদিমির পুতিন সেইসঙ্গেই বিশ্ব-বাণিজ্য সংস্থায় রাশিয়ার যোগদানের প্রশ্নে চীন সহযোগিতা করার জন্য, তাদের ধন্যবাদ জানান.