প্রখ্যাত মার্কিনী সাংবাদিক এবং বর্তমানে স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জোয়েল ব্রিঙ্কলির মতে, মার্কিন-যুক্তরাষ্ট্র ও উজবেকিস্তানের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতি হল পাকিস্তানের সাথে ‘বিবাহ-বিচ্ছেদের’ মুখবন্ধ. ‘সান-ফ্রানসিস্কো ক্রনিকাল’ সংবাদপত্রে প্রকাশিত তার প্রবন্ধে তিনি মন্তব্য করেছেন, যে অনেকদিন আগেই পাকিস্তানের সাথে বিবাহ-বিচ্ছেদের প্রয়োজন ছিল. তিনি পাকিস্তানকে সন্ত্রাসবাদ সরবরাহকারী রাষ্ট্রের আখ্যা দিয়েছেন. এ বিষয়ে আমাদের পর্যবেক্ষক গেওর্গি ভানেত্সোভ বলছেন-

    গত শতাব্দীর ৯০-এর দশকের শুরু থেকে পাক-মার্কিনী সম্পর্ক সবচেয়ে করুন অবস্থায় গিয়ে পৌঁছেছে. পাকিস্তানের সম্মতি ছাড়াই সে দেশের ভূখন্ডে মার্কিনীরা ওসামা বেন-লাদিনকে খতম করার পরই পারস্পরিক সম্পর্কের দ্রুত অবনতি ঘটে. উভয়পক্ষ একে অপরকে সমস্ত রকম দোষে দুষছে. কিন্তু সত্যিই কি ওয়াশিংটন তাস বদল করে পাকিস্তানের বিকল্প স্বরুপ উজবেকিস্তানকে পেতে চায়? মার্কিনী নেতৃবৃন্দ বরাবর বলে এসেছে, যে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ ব্যতীত আফগানিস্তানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা অসম্ভব. তাছাড়া উজবেকিস্তানের মধ্যে দিয়ে সামরিক মালপত্র আফগানিস্তানে নিয়ে যাওয়া ততটা সুবিধার নয়, যতটা পাকিস্তানের মধ্যে দিয়ে এবং যদি ইসলামাবাদ সীমান্ত বন্ধ করে দেয়, উজবেকিস্তান খুব সম্ভবতঃ তার বিকল্প হতে পারবে না.

        রাশিয়ার পাকিস্তান-বিশারদ ভ্লাদিমির সোতনিকভের মতে, ‘সান-ফ্রানসিস্কো ক্রনিকল’ সংবাদপত্রে প্রকাশিত জোয়েল ব্রিঙ্কলির প্রবন্ধ হল ওয়াশিংটন থেকে ছাড়া ‘পরীক্ষামুলক গোলক’. তারা পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া দেখতে চায় ও ঐ দেশের ওপর চাপ সৃস্টি করতে চায়.

        পাক-মার্কিনী সম্পর্কের এমনই চরিত্র, যে খুব সম্ভবতঃ মার্কিনীরা পাকিস্তানকে অস্বীকার করবে না. আমেরিকার পাকিস্তানের ব্যাপারে নিজস্ব স্বার্থ আছে. মার্কিনীরা দক্ষিণ এশিয়ায়, মধ্যপ্রাচ্যে এবং গোটা বিশ্বেই চীনের প্রভাব বিস্তারের বিরুদ্ধে পাকিস্তানকে রাজনৈতিক অবলম্বন হিসাবে ব্যবহার করতে চায়.

      তবে উজবেকিস্তানের সাথে সম্পর্ক ঘনিষ্ঠতর করার জন্য ওয়াশিংটের প্রয়াস প্রত্যক্ষ করা যাচ্ছে. প্রথমে রাষ্ট্রপতি ওবামা উজবেকিস্তানের রাষ্ট্রপতি ইসলাম কেরিমভকে উত্সব মিটে যাওয়ার একমাস পরে সে দেশের ২০ তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষ্যে অভিনন্দন জানান. তার কয়েকদিন পরেই মার্কিনী সেনেট উজবেকিস্তানকে সামরিক সাহায্যদানের ক্ষেত্রে সমস্ত বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করে. সেপ্টেম্বরের শেষে হিলারি ক্লিনটন উজবেকিস্তান সফর করেন এবং তারপরে ঘোষণা করেন, যে আমেরিকা উজবেকিস্তানের সাথে সম্পর্ককে উঁচুমূল্য দেয়, এবং অবশ্যই চায়, সমস্ত ক্ষেত্রে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে. এর কি ব্যাখ্যা হতে পারে? রুশী প্রাচ্যবিদ ভ্লাদিমির সোতনিকভের মতে, উজবেকিস্তানকে ব্যবহার করে আমেরিকা মধ্য এশিয়ায় প্রবেশ করে নিজের অবস্থা সেখানে জোরদার করতে চায়.

      বস্তুতঃ মার্কিনীরা বহুদিন ধরেই মধ্য এশিয়ায় ঢোকবার পরিকল্পনা করছে. তাদের বিশেষ আগ্রহ উজবেকিস্তানকে নিয়ে. অতীতে মার্কিন-যুক্তরাষ্ট্রের ঐ দেশের সাথে যথেষ্ট উষ্ণ সম্পর্ক ছিল. কিন্তু উজবেকিস্তানে সশস্ত্র অভ্যুথ্থানের প্রচেষ্টার পরে কেরিমভ মার্কিনীদের দেশ ছাড়তে বলেন এবং রাশিয়ার সাথে ঘনিষ্ঠ হন. সাংবাদিক ব্রিঙ্কলির প্রবন্ধ এই সাক্ষ্য দেয়, যে মার্কিনীরা পুরনো মতলব ছাড়েনি এবং উজবেকিস্তানকে ব্যবহার করে তারা মধ্য এশিয়ায় রাশিয়ার সক্রিয়তা হ্রাস করতে চায়.