ভারতের গুপ্তচর সংস্থা পরীক্ষা করে দেখছে কুদানকুলাম পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র নিয়ে প্রতিবাদের পিছনে বিদেশী শক্তির মদত আছে কি না. এই বিষয়ে খবর দিয়েছে ভারতের "টাইমস অফ ইন্ডিয়া" সংবাদপত্র. ভারতের পারমানবিক শক্তি দপ্তর দেশের গুপ্তচর সংস্থার কাছে অনুরোধ করেছে কুদানকুলাম পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র নিয়ে প্রতিবাদের পিছনে বিদেশী অর্থ বিনিয়োগের সম্বন্ধে খবরের কোন বাস্তবতা আছে কি না তা খুঁটিয়ে দেখতে. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    উপস্থিত সন্দেহ অর্থহীণ নয়. অনেকের কাছেই অবাক লেগেছে খুবই নিঃখূত আয়োজন করে এই প্রতিবাদ কর্ম হওয়া. যেন কোন এক অদৃশ্য নেতার নির্দেশে তা শুরু হয়ে যায়, আবার থেমেও যায়. এই আন্দোলনের চরিত্র একেবারেই ভারতীয় নয়. যদিও তা ভারতকে পারমানবিক বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করার মতো গরম স্লোগান দিয়েই করা হচ্ছে. তাদের লক্ষ্য – ভারতকে পারমানবিক শক্তি হীণ করে দেওয়া, যা আজকের দিনে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিংহের কথামতো দেশের জন্যই কোন বিকল্প হীণ.

    এই দিন গুলিতে কুদানকুলাম আবার অশান্ত. রবিবারে প্রতিবাদ করা লোকেরা মনমোহন সিংহের বক্তব্যে তাদের অসন্তোষ জানিয়েছে, যিনি বলেছেন যে সরকার কুদানকুলাম পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র প্রত্যাখ্যান করতে চায় না. তিনি এই বিষয়ে বলেছেন এই প্রতিবাদ আন্দোলনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক সাক্ষাত্কারে. একই সময়ে প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন যে, সরকার ব্যবস্থা নেবে যাতে পারমানবিক শক্তির বিকাশ স্থানীয় মানুষের স্বার্থ বজায় রেখেই করা হয়. তিনি একই সঙ্গে জানিয়েছেন যে, খুব শীঘ্রই এক বিশেষজ্ঞ পরিষদ তৈরী করা হবে, যাঁরা কুদানকুলাম পারমানবিক বিদ্যুত প্রকল্প নিয়ে দেশের মানুষের উদ্বেগ দূর করতে পারবেন. কিন্তু এই বিষয়ে প্রতিবাদের লোকেরা চুপ করেই আছে.

    এই সব বলে দিচ্ছে যে, কুদানকুলাম বিদ্যুত কেন্দ্রের চারপাশে কিছুটা একটা উত্তেজনা তৈরী করার চেষ্টা করা হচ্ছে, এই মন্তব্য করে ভারত বিশেষজ্ঞ ও বিজ্ঞানী গেন্নাদি চুরফিন বলেছেন:

    "শেষ খবর যা ভারত থেকে এসেছে যে পারমানবিক রিয়্যাক্টরের ভরসা যোগ্যতা নিরুপণের জন্য আরও দাবী বাড়ানো হচ্ছে, যা রাশিয়ার সাথে এক সঙ্গে তৈরী করা হচ্ছে, তা এক ধরনের প্রতিক্রিয়া সেই সমস্ত ঘটনার, যা জাপানের ফুকুসিমা পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রে হয়েছে. এই ধরনের খবর একই সঙ্গে ভারতের পারমানবিক শক্তি সংক্রান্ত বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধির সঙ্গেই আসতে শুরু করেছে. এটা আগে থেকেই জানা ছিল. এই ধরনের কাজ, আমার দৃষ্টিকোণ থেকে, দ্বিতীয় বিষয়ে, অর্থাত্ ভারতে নতুন পারমানবিক রিয়্যাক্টর বিক্রী করা নিয়ে নতুন চুক্তি পাওয়ার জন্য যে লড়াই শুরু হয়েছে, তার জন্যই করা হচ্ছে. তাই রাশিয়ার পক্ষ থেকে এই বিষয়ে তৈরী থাকার দরকার রয়েছে, হিসেব করে যে, রাশিয়ার রিয়্যাক্টরের ভরসা যোগ্যতা একাধিকবার পরীক্ষিত হয়েছে. এই ধরনের পারমানবিক রিয়্যাক্টর কুদানকুলামে তৈরী হওয়া শুধু ইতিবাচক মূল্যায়ণ পেয়েছে".

    জানা আছে যে, ভারতের পারমানবিক শক্তির বাজারের অর্থ মূল্য বিপুল ১৫ হাজার কোটি ডলার. তার জন্য লড়াই করতে বাস্তবে বিশ্বের সমস্ত দেশই গিয়েছে, যাদের কাছে পারমানবিক প্রযুক্তি রয়েছে. কিন্তু তাদের সংখ্যা খুব বেশী নয়. রাশিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স এমনিতেই ভারতের পারমানবিক শক্তির বাজারে রয়েছে. তারা ভারত সরকারের সঙ্গে চুক্তি করেছে শান্তিপূর্ণ পারমানবিক শক্তি নিয়ে, যাতে বলা হয়েছে অংশতঃ, ভারতের মাটিতে পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র তৈরী করার কথা ও তার জন্য যন্ত্রপাতি সরবরাহ করার কথা. এই সব চুক্তি স্বাক্ষর করার পর থেকে যথেষ্ট সময় গিয়েছে, কিন্তু শুধু রাশিয়া আপাততঃ তৈরী করেছে প্রথম পারমানবিক রিয়্যাক্টর, যা কুদানকুলামে চালু হওয়ার জন্য তৈরী. সেটি সেপ্টেম্বর মাসেই চালু হয়ে যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু এই প্রতিবাদের জন্য সময় পেছিয়ে নভেম্বর করা হয়েছে. বাস্তবে এই কেন্দ্রের দ্বিতীয় রিয়্যাক্টর তৈরী হয়ে গিয়েছে চালু করার জন্য. সেটা চালু করার কথা হচ্ছে আগামী বছরের প্রথমার্ধেই. আমেরিকা ও ফ্রান্সের ভারতের সঙ্গে পারমানবিক শক্তি সংক্রান্ত চুক্তি আপাততঃ কাগজেই রয়ে গিয়েছে.

    সুতরাং, কারা কুদানকুলাম পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র চালু হওয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ আন্দোলনে মদত দিচ্ছে – এই প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার ভার রইল ভারতের গুপ্তচর সংস্থার জন্যই.