বিশ্ব সমাজ আডেন উপসাগরে সোমালির জলদস্যূদের সঙ্গে সংগ্রামের জন্য সবচেয়ে ভাল সিদ্ধান্ত নিয়েছে. এবার থেকে সমস্ত বাণিজ্য পোত, যারা আফ্রিকার শৃঙ্গ এলাকা দিয়ে যায়, তাদের রাশিয়া, ইউরোপীয় সঙ্ঘ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চিন ও ভারতের যুদ্ধ জাহাজ গুলি পার করে দেবে.

    আডেন উপসাগরে জলদস্যূদের সঙ্গে লড়াই এই প্রথম বছর করা হচ্ছে না. যদিও বিগত দুই বছরে সামুদ্রিক ডাকাতদের সক্রিয়তা কিছুটা কমেছে, তবুও তাদের বাণিজ্যে মালবাহী জাহাজ ও পর্যটকদের বোটের উপরে সশস্ত্র হামলার খবর বিশ্বের সংবাদ মাধ্যমের জালে প্রায়ই দেখা যায়. আক্রমণের সংখ্যা কমার কারণ একটাই – বিশ্ব সমাজ যুদ্ধ জাহাজ ব্যবহার করে সমুদ্রের লুঠেরাদের প্রতিহত করা শুরু করেছে বলে. রাশিয়ার সামরিক জাহাজগুলি আফ্রিকার শৃঙ্গ অঞ্চলে ও আডেন উপসাগর অঞ্চলে ২০০৮ সাল থেকেই সমুদ্রের নিরাপত্তা বজায় রাখার জন্য কাজ করছে. এখন বিভিন্ন দেশের যুদ্ধ জাহাজের সঙ্গে এই কাজের জন্য এসেছে রাশিয়ার প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবাহিনীর জাহাজ, এই কথা জানিয়ে প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবাহিনীর তথ্য ও জনসংযোগ সম্পাদক রোমান মার্তভ বলেছেন:

    "এই অপারেশন করা হচ্ছে পরিকল্পনা মতোই, এক দিন আগে একটা কনভয় তৈরী করা হয়েছে ৯ টা জাহাজ দিয়ে. তাদের পাহারা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে দুটি জাহাজ. এটা বিশাল জাহাজ বিধ্বংসী যুদ্ধ জাহাজ "অ্যাডমিরাল পানতেলেয়েভ" ও সামুদ্রিক ত্রাণ ও উদ্ধারের গাধাবোট "ফোতি ক্রীলভ". এগুলি প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের জাহাজ, যারা ভ্লাদিভস্তক থেকে এসেছে. এখন এই কারাভান চলছে বাব-এল-মান্দেব উপসাগরের দিকে নিরাপদ করিডর দিয়ে".

    এটা ষষ্ঠ রুশ প্রশান্ত মহাসাগরীয় যুদ্ধ জাহাজের দল, যারা জলদস্যূ দমনের আন্তর্জাতিক মিশনের হয়ে কাজ করছে ও আডেন উপসাগর অঞ্চলে জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তার কাজ নিয়েছে. তাছাড়া "অ্যাডমিরাল পানতেলেয়েভ" জাহাজের নাবিকেরা আগেও জলদস্যূ দমনে কাজ করেছে. দুই বছর আগে এই জাহাজ প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের নেতৃত্ব দিয়েছিল, যারা ভারত মহাসাগরের আফ্রিকার শৃঙ্গ এলাকায় পাহারার কাজ করেছিল. আর এই বছরের মে মাসে নাবিকেরা সিঙ্গাপুর ও ইন্দোনেশিয়ার সামরিক নৌবাহিনীর সঙ্গেও জলদস্যূ দমনের বিষয়ে মহড়া দিয়েছে. "আন্তর্জাতিক অপারেশনে প্রশান্ত মহাসাগরীয় নৌবহরের অংশ নেওয়ার সময়ে আডেন উপসাগরে কারাভান করে নিরাপদে পার করে দেওয়া হয়েছে ১২০টি বিভিন্ন দেশের বাণিজ্যিক জাহাজ". – বলেছেন রোমান মার্তভ.

    আডেন উপসাগর দিয়ে বাণিজ্য পোতের প্রশ্নের যদি মনে করা হয় যে, সমাধান করা হয়েছে, তবে পর্যটক দের বোটের ব্যাপারটা কিন্তু হিংসা করার মতো ভাল হয় নি. তাদের সামরিক জাহাজ মনে হয় না যে, পাহারা দেবে. তাই তাদের একটাই পথ খোলা রয়েছে – বেড়াবার জন্য আফ্রিকার শৃঙ্গের থেকে দূরে জায়গা দেখতে.