মার্কিন রাষ্ট্রসচিব শ্রীমতী হিলারি ক্লিন্টন কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেছেন, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতবর্ষের সম্পর্ক ও কিছুটা প্রসারিত ভাবে এশিয়াতে সম্পর্ক ব্যবস্থা সম্বন্ধে. "হিন্দুস্তান টাইমস" সংবাদপত্র লিখেছে যে মার্কিন রাষ্ট্রসচিব আরও একবার ভারতবর্ষকে তাদের পারমানবিক শক্তি সংক্রান্ত আইন ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক বাড়তি ভর্তুকি চুক্তির সঙ্গে মিলিয়ে নিতে. এখানে কথা হচ্ছে যে, গত বছরে ভারতের পার্লামেন্টে পারমানবিক ক্ষতি সংক্রান্ত আইনের পরিবর্তিত ধারায় কিছু অনুচ্ছেদ রয়েছে, যা আমেরিকার বিশেষজ্ঞদের মতে এই আন্তর্জাতিক চুক্তির বিরোধী. অংশতঃ, ভারতের আইনে মনে করা হয়েছে যে, পারমানবিক বিপর্যয় বা অন্য কোন দূর্ঘটনার ক্ষেত্রে দায়িত্ব শুধু পারমানবিক কেন্দ্রের পরিচালক কোম্পানীর উপরেই পড়বে না, বরং যারা যন্ত্র সরবরাহ করেছে তাদের উপরেও পড়বে, আর পরিচালকেরা সরবরাহ কারীদের উপরে দাবী করতে পারবেন. চুক্তিতে বলা হয়েছে যে, ক্ষতির সম্পূর্ণ ও সমস্ত দায়িত্ব পরিচালকদের উপরেই পড়বে.

"আমরা সম্পূর্ণ ভাবে ও একেবারেই তৈরী রয়েছি ভারতের সঙ্গে সহযোগিতার উন্নতির বিষয়ে ও স্পষ্ট ভাবে নির্দিষ্ট করে দিয়েছি, ভারতের কি ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, যাতে আমরা আগে এগিয়ে যেতে পারি" – পি টি আই সংস্থার প্রশ্নের উত্তরে, উল্লেখ করেছেন শ্রীমতী ক্লিন্টন.

অর্থাত্ এখানে কথা হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্দিষ্ট শর্তের বিষয়ে. ওয়াশিংটন কি ব্যাপারে সন্তুষ্ট নয়? সমস্যার মূল হল যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে জর্জ বুশ জুনিয়র রাষ্ট্রপতি থাকা কালীণ সময়েই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতবর্ষের সঙ্গে একসারি পারমানবিক ক্ষেত্রে চুক্তি করেছিল, যা নাম দেওয়া হয়েছিল "পারমানবিক লেনদেন". এর সরাসরি লক্ষ্য ছিল যে, ভারতের সম্ভাবনাময় পারমানবিক শক্তির বাজারকে আমেরিকার কোম্পানীদের সামনে খুলে দেওয়া. আর পরবর্তী কালে – ভারতকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই অঞ্চলের স্ট্র্যাটেজিক স্বার্থের সঙ্গে খুব শক্ত করে বেঁধে দেওয়া – আর শুধু সেই বিষয়েই নয়, যা পারমানবিক শক্তির ক্ষেত্রেই বলা চলে.

কিন্তু আমাদের বিশেষজ্ঞ, রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা কেন্দ্রের বিশারদ বরিস ভলখোনস্কি, যেমন ন্যায় সঙ্গত ভাবেই উল্লেখ করেছেন যে, বিগত বছর গুলিতে ভারতবর্ষ একাধিকবার দেখিয়েছে যে, তারা আমেরিকার রাজনীতির ঘোলা জলে অন্ধ ভাবে অনুসরণ করতে রাজী নয়. তাই তিনি বলেছেন:

"বেশ কয়েকটি স্ট্র্যাটেজিক লক্ষ্য একই রকমের হওয়া স্বত্ত্বেও ভারতের রাজনীতি স্বাধীন হয়েই রয়েছে, আর ওয়াশিংটনের তরফ থেকে দিল্লীকে নির্দেশ দেওয়া খুবই নেতিবাচক ভাবেই নেওয়া হয়ে থাকে. অল্প কিছু দিন আগের উদাহরণেই দেখতে পাওয়া যায় ভারতের রাজনীতির স্বতন্ত্রতা, যদি মনে করা যায় যে, ভারত "বোয়িং" ও "লকহিড মার্টিন" কোম্পানীকে ভারতীয় বিমান বাহিনীর জন্য অত্যাধুনিক যুদ্ধ বিমান সরবরাহ করার টেন্ডারে অংশ নিতে দিতে আপত্তি করেছে.

প্রসঙ্গতঃ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতবর্ষকে এই অঞ্চলে নিজেদের প্রধান স্ট্র্যাটেজিক সহযোগী করার বিষয়ে চেষ্টার কসুর করছে না. এর জন্য বিভিন্ন তুরুপের তাস ফেলা হচ্ছে – অংশতঃ, ভারতের বহু দিনের প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে কথার সুর কঠোর করে. আর ভারতের উপরে পারমানবিক ক্ষেত্রের সমস্যার বিষয়েও চাপ সৃষ্টি করাকেও এই উদ্দেশ্যে দেখা যেতে পারে".

আর বলা যেতে পারে এই বিষয়েরই সমর্থন হিসাবে ভারতকে আমেরিকার এই অঞ্চলের রাজনীতির কক্ষপথে টেনে আনার দীর্ঘ দিনের প্রচেষ্টার অংশ হিসাবেই হিলারি ক্লিন্টন ঘোষণা করেছেন দীর্ঘস্থায়ী উদ্যোগ নিয়ে – তিনি আহ্বান করেছেন "মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ভারত ও চিনের মধ্যে অটুট ও গঠনমূলক সম্পর্ক স্থাপনের", যাতে একবিংশ শতকের প্রশ্ন গুলির সমাধান সম্ভব হয়.

আসলে, এটা স্পষ্ট আহ্বান ওয়াশিংটন – দিল্লী – বেইজিং স্ট্র্যাটেজিক ত্রিভুজ তৈরীর জন্য. এই প্রস্তাবের লক্ষ্য দেখাই যাচ্ছে: তার কারণ হল এখনই কার্যকর রিক (রাশিয়া, ভারত ও চিন) কাঠামোর একটি বিপরীত ওজন তৈরী করা ও সেটা দিয়েই রাশিয়াকে এশিয়া অঞ্চলের মূল প্রশ্ন গুলির সমাধানের বৃত্ত থেকে ঠেলে বের করে দেওয়া.

এই ধরনের প্রচেষ্টা, বর্তমানের নিজস্ব সমস্যা জর্জর অবস্থা স্বত্ত্বেও, নিঃসন্দেহ ভাবে বলা যায় এমন এক বড় রাষ্ট্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন্য, এই রকম ভাবে কাজ করাকে কি উপযুক্ত বলা যেতে পারে – তা অবশ্য আলাদা প্রশ্ন. এখানে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার হল অন্য: ওয়াশিংটন এশিয়ার এই দুই মহান রাষ্ট্রকে এই ধরনের জোট নির্মাণের বিনিময়ে কি দিতে পারে? আর তারা কোন কিছু দিতে কি তৈরী হচ্ছে – নাকি চেষ্টা করবে, উল্টোটা, আমেরিকার সঙ্গে একই তালিকায় থাকতে পারার মত মর্যাদা পাওয়ার জন্য কিছু নিতে? সাধারণতঃ ওয়াশিংটন এই ভাবেই কাজ করে থাকে.