রাশিয়া ভারতবর্ষকে পারমানবিক অস্ত্র বহনে সক্ষম ও দশ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্য ধ্বংসে সক্ষম আন্তর্মহাদেশীয় ব্যালিস্টিক রকেট "অগ্নি – ৫" এর জন্য অত্যাধুনিক লক্ষ্য নির্ণয় ব্যবস্থা দিতে চলেছে. এই বিষয়ে খবর প্রকাশিত হয়েছে ভারতের পাইয়োনিয়র সংবাদপত্রে দেশের "সামরিক দপ্তরের উত্স থেকে পাওয়া খবর" বলে উল্লেখ করে. এই প্রশ্নে নীতিগত ভাবে সমঝোতা হয়েছে কিছুদিন আগে ভারতীয় প্রতিনিধিদলের ভারত সফরের সময়ে, যার নেতৃত্বে ছিলেন ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এ. কে. অ্যান্টনি, উল্লেখ করেছে ভারতীয় সংবাদপত্র.

    পাইয়োনিয়র লিখেছে যে, ভারতের কাছে "অগ্নি – ৫" নামের ব্যালিস্টিক আন্তর্মহাদেশীয় রকেটের লক্ষ্য নির্ণয় ব্যবস্থা দেওয়ার বিষয়ে চুক্তি – ভারতের জন্যই এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন. এর পরে ভারত সম্পূর্ণ ভাবেই সেই সমস্ত "শীর্ষস্থানীয়" দেশের ক্লাবে যোগ দিতে পারবে, যাদের কাছে এই ধরনের অস্ত্র রয়েছে, অর্থাত্ যেখানে রয়েছে গ্রেট ব্রিটেন, রাশিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চিন ও ফ্রান্স. "বিগত দুই দশক ধরে কিছু উন্নত দেশের পক্ষ হতে, তাদের মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও রয়েছে, ভারতের প্রতি বৈষম্য মূলক সম্পর্ক দেখানো হয়েছে আধুনিক প্রযুক্তি বিনিময়ের ক্ষেত্রে, এই বাস্তব ঘটনাকে হিসেব করে দেখলে, আমাদের রকেট নির্মাতাদের জন্য খুবই কষ্ট সাধ্য হত এই উন্নতি করায়, যদি না রাশিয়া আমাদের সাহায্য করতে রাজী না হত" – বলা হয়েছে এই প্রবন্ধে.

    রাশিয়ার সরকারি উত্স থেকে আপাততঃ এই চুক্তির বিষয়ে কোনও মন্তব্য করা হয় নি, যা ভারতের খবরের কাগজে বেরিয়েছে. একই সময়ে রাশিয়ার বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে, মস্কো এই প্রথমবারই ভারতবর্ষের সাহায্য করার জন্য এগিয়ে যায় নি, আর তাই দিয়েছে, যা তাকে পশ্চিম দিতে অস্বীকার করেছে. রাশিয়া ও ভারতের মধ্যে বড় ও উচ্চ প্রযুক্তি যুক্ত সামরিক প্রকল্প খুব কম নেই. তার মধ্যে রয়েছে – সম্মিলিত ভাবে "পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধ বিমান" নির্মাণ, ভারতকে দশ বছরের জন্য পারমানবিক ডুবোজাহাজ "নেরপা" ভাড়াতে দেওয়া, ভারতের জন্য "বিক্রমাদিত্য" নামের বিমান ও রকেট বাহী যুদ্ধ জাহাজের আধুনিকীকরণের কাজ, সম্মিলিত ভাবে "ব্রামোস" নামের রকেট নির্মাণ ও উত্পাদন. গ্লোনাসস ব্যবস্থার ব্যবহার সম্পূর্ণ মূল্য মানের সামরিক প্রযুক্তি সহ প্রকল্প. রাশিয়ার "জাতীয় প্রতিরক্ষা" জার্নালের প্রধান সম্পাদক ইগর করোতচেঙ্কো অই প্রসঙ্গে মন্তব্য করে বলেছেন:

    "ভারত পাচ্ছে সম্পূর্ণ বিরল ব্যবস্থার অস্ত্র, যা বাস্তবে কোন রকমের অস্ত্রের সঙ্গেই তুলনীয় নয় এবং অনেক ক্ষেত্রেই অন্যান্য দেশের প্রস্তাবিত সমরাস্ত্রের চেয়ে অনেক বেশী উন্নত. বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ণে, "ব্রামোস" রকেটের মত শব্দাতীত গতি সম্পন্ন ও এই ধরনের দূর পাল্লার রকেট বর্তমানের বিশ্বে কারও কাছেই নেই. বিদেশী কাছাকাছি ধরনের অস্ত্রের সঙ্গে তুলনা করলে, যা আজ ব্যবহার করা হচ্ছে, "ব্রামোস" রকেট গতির ক্ষেত্রে তিন গুণ দ্রুত, দূরত্বের ক্ষেত্রে আড়াই গুণ বেশী দূরে আঘাত করতে পারে ও তার সক্রিয় হওয়ার সময় তিন চার গুণ কম. এতটাই মূল্যবান বর্তমানে যে বিষয়ে ভারতীয় সংবাদপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে – দূর পাল্লার রকেট "অগ্নি – ৫" এর লক্ষ্য নির্ণয় ব্যবস্থা".

    এই ধরনের প্রস্তাব দুই দেশের মধ্যে স্ট্র্যাটেজিক সহযোগিতার মূল নীতি ও বিষয়ের উপযুক্ত. এই সহযোগিতা অন্য কোন দেশের বিরুদ্ধে নয়. রাশিয়াতে ভারতের পক্ষ থেকে ঘোষণাও খেয়াল করা হয়েছে, যে তারা কখনোই প্রথম নিজেদের পারমানবিক অস্ত্র ব্যবহার করবে না. দিল্লী নিজেদের উপরে একতরফা ভাবে নেওয়া দায়িত্ব খুবই সতর্ক হয়ে পালন করছে ও নতুন কোনও পারমানবিক অস্ত্র পরীক্ষা থেকে বিরত রয়েছে. ভারত ও তার প্রতিবেশী কিছু দেশের সঙ্গে সীমান্ত ও এলাকা সংক্রান্ত বিবাদ থাকলেও, ভারত এই সমস্ত সমস্যাই শান্তিপূর্ণ ভাবে আলোচনার মাধ্যমেই মীমাংসা করতে চায়, আর এই বিষয়ে ভারতের নেতৃত্ব বহুবারই চিন ও পাকিস্তানের নেতৃত্বের সঙ্গে সাক্ষাত্কারের সময়ে বলেছে.