বিশ্ব অর্থনীতির সবচেয়ে বড় সমস্যা হল, যে তা খুব বেশী কেই রাজনীতির উপরে নির্ভরশীল. সমস্ত আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সংস্থারই প্রয়োজন সংশোধনের, যা তাদের বাইরের প্রভাব থেকে হয়তো মুক্ত করতে পারতো. এই বিষয়ে রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া এক বিশিষ্ট সাক্ষাত্কারে প্রখ্যাত মার্কিন অর্থনীতি বিশেষজ্ঞা অ্যান ক্র্যুগার ঘোষণা করেছেন, যিনি রয়টার সংস্থার পূর্বাভাস অনুযায়ী অর্থনীতিতে আগামী নোবেল পুরস্কার জয়ী হতে পারেন.

    ১৯৮০র দশকে অ্যান ক্র্যুগার বিশ্ব ব্যাঙ্কের প্রধান অর্থনীতিবিদ ছিলেন, ২০০০ শতকের শুরুতে – বিশ্ব মুদ্রা তহবিলের কার্যকরী ডিরেক্টরের প্রথম উপ প্রধান ছিলেন. তিনি পল নিত্স স্কুল অফ অ্যাডভান্সড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজে অধ্যাপনা করেন. বর্তমানে তাঁকে মনে করা হয়েছে বিশ্বের একজন অন্যতম প্রভাবশালী অর্থনীতি বিশেষজ্ঞা বলে.

    এই সাক্ষাত্কারে অ্যান ক্র্যুগার ঘোষণা করেছেন যে, আপাততঃ বিশ্বের একটি মুদ্রাও ডলারের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় সক্ষম নয়. তিনি বলেছেন:

    "ডলার প্রধান বিদেশী মুদ্রা হিসাবেই আছে, তার কারণ এই নয় যে, তা আগের মতই আত্ম বিশ্বাসী অবস্থানে রয়েছে, বরং সেই কারণে যে, তার কোন সমান বিকল্প নেই. এই বাস্তবকে দেখলে, মনে হয় না যে, কেউ নিজের অর্থকে ডলার থেকে ইউরো বা ইয়েন করতে চাইবে. বর্তমানে ডলার একটা স্থিতিশীল অবস্থানেই রয়েছে. আর বর্তমানে কোন স্থিতিশীল তৃতীয় বিদেশী মুদ্রা নেই: সম্ভবতঃ এটা পাউন্ড, সম্ভবতঃ এটা অস্ট্রেলিয়ার ডলার. কিন্তু এটা খুব কম করেই. চিন একই সঙ্গে চায় স্থিতিশীল মুদ্রা, আর এর জন্য তাকে বিনিময় যোগ্য করতে হবে, কিন্তু এখন সেটা সম্ভব নয়".

    রাজনৈতিক কারণেই চিন আন্তর্জাতিক ভাবে অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন স্তরে উঠছে না.

    রাজনীতি আপাততঃ ইউরোপের দেশ গুলিকে নিজেদের অর্থনীতির সমস্যা সমাধানে বাধা দিচ্ছে. ইউরোপীয় সঙ্ঘ একটা ব্যবস্থা হিসাবেই সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে, যা অর্থনৈতিক এলাকার ঐক্যবদ্ধ হওয়ার নীতিতে যেন কোন ভাবেই হস্তক্ষেপ না করে, বরং সদস্য দেশ গুলিকে বেশী করে স্বাধীনতা দেয়. এই প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেছেন:

    "মনে তো হয় না যে আলাদা করে কোন দেশ সম্পর্ক প্রত্যাখ্যান করতে পারে, প্রত্যেক দেশই এই ধরনের সম্পর্কে জড়িত হয়ে গিয়েছে, কিন্তু তার স্তর আলাদা. ইউরোপীয় সঙ্ঘের মধ্যে রয়েছে মুদ্রা জোট, যার ভিতরেই দেশ গুলি নিজেদের ইচ্ছা মতো মুদ্রা সংক্রান্ত রাজনীতি ও বিনিময় করতে পারে না, আর এটাই তাদের হাত বেঁধে রেখেছে".

    অ্যান ক্র্যুগার বলেছেন, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থারও সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে. এই সংস্থায় প্রবেশকে সহজ ও স্বেচ্ছা মূলক করে দেওয়া উচিত্. এটা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার উপরে রাজনীতির প্রভাব কমাতে সাহায্য করবে. এই ক্ষেত্রে ভাল উদাহরণ হয়েছে রাশিয়ার এই সংস্থার সঙ্গে যোগ হওয়ার বিষয়ে দীর্ঘ সময় চলা ইতিহাস. অর্থনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে সকলেই বুঝতে পারছে যে, রাশিয়ার অর্থনীতি ও বাণিজ্যের ক্ষমতা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার জন্যেই প্রয়োজন. আর একই সময়ে রাজনৈতিক বৈকল্য এই প্রক্রিয়াকে থামিয়ে দেওয়া চালিয়ে যাচ্ছে. মনে করিয়ে দিই যে, গত সপ্তাহে রাশিয়া ও জর্জ্জিয়ার মধ্যে আলোচনা কোন সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে, এটা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার একমাত্র দেশ, যারা রাশিয়ার সংযুক্ত হওয়ার জন্য নিজেদের সহমত দিচ্ছে না.