ইয়েমেনি প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকারীদের রেশারেশির অবসান ঘটতে চলল।শনিবার সালেহ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে খুব শিঘ্রই প্রেসিডেন্টের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।

মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষমতায় থাকা আরও একজন রাষ্ট্র নেতা তাহলে সরে যাচ্ছেন।ইয়েমেনি প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু হওয়ার ১০ মাস পর অবশ্য তিনি পদত্যাগ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।সবাইকে আশ্বচর্য করেই  গতকাল এক বিবৃতিতে তিনি বলেন,  ‘আমি খুব শিঘ্রই প্রেসিডেন্টের পদ থেকে পদত্যাগ করতে যাচ্ছি’।তবে এটিই ইয়েমেনে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে যথেষ্ট নয়।সালেহের ভাষায়,তিনি বিরোধী দলের কাছে ক্ষমতা তুলে দিতে প্রস্তুত রয়েছেন এবং সেই সাথে তার অনুসারিদেরকে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার আহবান জানিয়েছেন।এদিকে রাশিয়ার বিশেষজ্ঞ আজাহার কুরতব বলছেন যে,সালেহ পুনরায় হয়ত জনগনের সাথে প্রতারনা করতে যাচ্ছেন।তিনি বলছেন, ‘আমার কাছে মনে হচ্ছে যে,এটি সালেহের পুরনো খেলা।যখন পরিস্থিতি খারাপ থাকে তখন অনেক কিছু আশ্বাষ দেয়া হয় আর যখন পরিস্থিতি অনুকূলে চলে আসে তখন ওই আশাবাদ প্রত্যাখ্যান করা হয়।আমি মনে করি পশ্চিমা দেশের মত গনতান্ত্রিক ধারা ইয়েমেনে আসবে না।উপরন্তু দেশে শুরু হতে পারে গৃহযুদ্ধ’।

তাহলে আলী আবদুল্লাহ সালেহের পদত্যাদের পর কি ঘটবে।মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট ইভগেনি সাটানোভস্কী বলছেন, ‘ইয়েমেনে দীর্ঘ মেয়াদী রাজনৈতিক অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি হবে এবং রাষ্ট্রের ক্ষমতা নেয়ার জন্য ইসলামি সংঘঠনসহ বিভিন্ন দল উঠেপরে লাগবে।তিনি বলছেন,যখনই সালেহ ক্ষমতা ছেড়ে দিবেন তখনই ইয়েমেনের বিরোধী দলের মধ্যেই অন্তঃকোন্দোল শুরু হবে যেমনটি এখন চলছে লিবিয়ার বিরোধী দলের মাঝে।সুতরাং সালেহের পর কে হচ্ছেন ইয়েমেনের পরবর্তি নেতে এবং তিনিই বা কত দিন তার আসন ধরে রাখতে পরবেন তা বলা খুবই দুরহ’।

আসল কথা হচ্ছে,সালেহ পদত্যাগ করার আশ্বাষ দিয়েছেন।যদিও গত মার্চ মাসে সালেহ বলেছিলেন যে, তাকে ও তার পরিবারের নিরাপত্তার নিশ্চিয়তা দিলে বিরোধী দলের কাছে ক্ষমতা তুলে দিবেন।ওই পরিকল্পনা বিরোধী দলও মেনে নিয়েছিল কিন্তু এর ১ মাস পরই তিনি স্বাক্ষর প্রদানে অসম্মতি জানান।তবে এবার কি সেই ওয়াদা পালন করবেন?।