রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছেন,তার দেশ আগামীতে জাতিসংঘের সবধরনের একতরফা রেজুলেশনের বিরোধিতা করবে।রাশিয়ার নিরাপত্তা পরিষদের সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত নিয়মিত এক বৈঠকে রুশ প্রেসিডেন্ট এ কথা বলেছেন।সিরিয়ার ওপর পশ্চিমা মিত্র জোটের জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের ভোট প্রদানে রাশিয়ার বিপক্ষে অবস্থানের কারণ বর্ননা দিয়ে মেদভেদেভ পরিষ্কারভাবে বলেন,এখানে ভরী আন্তর্জাতিক আইন নীতির ওপর ভিত্তি করে কাজ হয় না।

রুশ ফেডারেশনের প্রধান দৃড়তার সাথে উল্লেখ করেন,রাশিয়া আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে যে মতবাদ নিয়ে কাজ করে তা হচ্ছে,জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী রাষ্ট্রগুলো যাদের ওপরই মূলত বিশ্বের ভাগ্য নির্ভর করে; তাদের প্রধান কাজ হচ্ছে,কোন প্রকার নীতিমালা তৈরীর সুযোগ করতে না দেয়া যা কিনা অন্যদেরকে সামরিক শক্তির মাধ্যমে নিজেদের স্বার্থ উদ্ধার করতে সাহায্য করে।

সিরিয়ার সরকারের বিরুদ্ধে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের খসড়া রেজল্যুশনকে গত ৪ অক্টোবর রাশিয়া ও চীন ভেটো দিয়েছে।এ বিষয়ে দিমিত্রি মেদভেদেভ বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ‘এই রেজল্যুশন আমাদের উত্কন্ঠাকে বৃদ্ধি করে নি।তবে,যে বিষয়টি সবচেয়ে জটিল হতে পারে সেই একটি সহজ ধারনা তারা প্রত্যাখান করেছেন।মূল কথা হল,বর্হিঃবিশ্ব থেকে কোন প্রকার সামরিক হস্তক্ষেপ হবে না।এর অর্থ কি দাড়ায়?। আমার মনে হয় তা সবার কাছেই পরিষ্কার।এর অর্থ হচ্ছে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ সিরিয়ায় ক্ষেত্রে লিবিয়ার ঘটনার পুনরাবৃত্তি করতে পারবে না।যদিও অনেক সময় টেলিফোনে অথবা ব্যক্তিগত স্বাক্ষাতকারে আমাকে বলা হয়েছে যে,হ্যাঁ সিরিয়া তো আর লিবিয়া না।রাশিয়া এবং তার মিত্ররা এই কার্যক্রমে কখনই রেজল্যুশন গ্রহন করতে পারে না’।

মেদভেদেভ একই সাথে জানিয়েছেন যে,মস্কো ও বেইজিং জাতিসংঘকে আহবান করেছে এই মর্মে যাতে সংস্থার পক্ষথেকে সিরিয়ার সংকট সমাধানের জন্য দেশটির সরকার ও বিরোধী দলের সাথে আলোচনার পরিবেশ সৃষ্টি করে।রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের ভাষায়,সিরিয়া সরকার যদি জনগনের স্বার্থে প্রযোজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে ব্যর্থ হয় তাহলে সরকারের পদত্যাগ করা ছাড়া অন্য কোন পথ নেই।মস্কো অনেকবারই বলেছে যে,রাশিয়া বশির আসাদের আইনজীবি না।সিরিয়া সরকারকে সমর্থন অথবা বিরোধীদের সঙ্গে একত্রতা ঘোষণা করা তা রাশিয়ার কাজ না।তা স্বত্তেও জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি ভিতালি চুরকিন বলেছেন যে,সিরিয়ার সর্বশেষ ঘটনাবলী থেকে যে ধারনা পাওয়া যাচ্ছে তা হল,দেশটির বিক্ষোভকারীরা সন্ত্রাসীমূলক কর্যক্রম থেকে বিরত রয়েছে।

মস্কো শুধুমাত্র সিরিয়ার জনগনের নিজেদের মধ্যে আলোচনাকে এ সংকট সমাধানের একমাত্র পথ বলে মনে করছে।তাই রাশিয়া কখনই লিবিয়ার ঘটনাবলীর পুনরাবৃত্তি অন্তত সিরিয়ার ক্ষেত্রে হতে দিচ্ছে না।