বৃহস্পতিবার ভারতের বিরোধী দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) ভারত সরকারের দিকে ডাক দিয়েছে নিজেদের চিনের প্রতি রাজনীতি আবার যাচাই করে দেখতে. এর জন্য কারণ হয়েছে ভারতীয় সেনাবাহিনীর দপ্তর প্রধান ভি. কে. সিংহের ঘোষণা যে, চিন পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর অঞ্চলে নিজের সেনা বাহিনী স্থাপন করছে, যা বাস্তব নিয়ন্ত্রণ রেখার খুবই কাছে.

    "জেনারেল ভি. কে. সিংহের পাক অধিকৃত কাশ্মীর অঞ্চলে চিনের সেনা বাহিনীর উপস্থিতি নিয়ে ঘোষণা খুবই উদ্বেগের সঞ্চার করেছে" – বলেছেন বিজেপি দলের স্বীকৃত প্রতিনিধি শাহনওয়াজ হুসেইন. "ডঃ মনমোহন সিংহের প্রশাসনের উচিত্ "ঘুম থেকে উঠে" এই প্রশ্ন নিয়ে চিনের সঙ্গে আলোচনা করার. এটা খুবই গুরুতর প্রশ্ন. সরকার যেমন দেশের ভিতরে, তেমনই দেশের বাইরেও নিরাপত্তার প্রশ্নে সফল হতে পারছে না. তাদের চিনের প্রতি নিজেদের সম্পর্ক ভাল করে যাচাই করে দেখা উচিত্".

    এই নতুন হওয়া স্ক্যাণ্ডালের কয়েকটি দিক রয়েছে, যা যেমন এই অঞ্চলে ভূ রাজনৈতিক ভাবে তেমনই ভারতের দেশের আভ্যন্তরীণ রাজনীতির বিষয়েও রয়েছে. প্রসঙ্গতঃ ভারতের ভিতরের ও বাইরের দিক গুলি একই সঙ্গে জড়িত, - এই কথা মনে করে রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ – বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

    "ভারত ও চিনের মধ্যে সীমান্ত নিয়ে বিবাদ পুরনো ও খুব ভাল করেই জানা ব্যাপার. কিন্তু সংবাদ মাধ্যমে তা হতে পারে খুব একটা সক্রিয়ভাবে আলোকপাত করা হয় না ভারত পাকিস্তানের মধ্যে বিতর্কের মতো করে. আর এখানে শুধু এটাই কারণ নয় যে, স্বাধীনতা উত্তর ইতিহাসে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে তিনবার যুদ্ধ হয়েছে (দুই বার কাশ্মীর নিয়ে), আর অনেকবারই সম্পূর্ণ ভাবে প্রসারিত সামরিক বিরোধের কিনারা থেকে ভারসাম্য রক্ষা করে ফিরে আসা হয়েছে.

    এখানে মূল কারণ হল, যে চিন ও ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিতর্ক গুলিকে প্রচার করতে চায় না, কারণ এই দুই দেশই – যতই এশিয়াতে রাজনৈতিক নেতৃত্বের জন্য লড়াই করুক না কেন – খুবই ঘনিষ্ঠ ভাবে অর্থনৈতিক সম্পর্কে জড়িত একে অপরের সঙ্গে, যা না বেইজিং এর, না দিল্লীর জন্য স্বার্থের অনুকূল. যেমন, গত বছরের ডিসেম্বর মাসে ভারতে সফররত চিন গণ প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্র সভার প্রধানমন্ত্রী ভেন জিয়াবাও, একটি স্কুল পরিদর্শন করতে এসে ব্ল্যাক বোর্ডে ক্যালিগ্রাফি করে লিখেছিলেন এক বাক্য ভারতবর্ষ ও চিন – অনন্ত মিত্র".

    আর তাও এই ধরনের বিতর্ক না উঠতে চেয়েও মাঝে মাঝেই জানান দিয়ে থাকে. এই বছরের জুন মাসে ভারতে এক স্ক্যাণ্ডালের শুরু হয়েছিল, তা জড়িত ছিল এই বিষয়ের সঙ্গে যে, ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক সংস্থার প্রকাশিত মানচিত্রে ভারতীয় রাজ্য অরুণাচল প্রদেশ চিনের অংশ বলে দেখানো হয়েছিল. আর এমনকি কাশ্মীরের অধিকৃত অঞ্চল (সিয়াচেন হিমবাহ) ও দেখানো হয়েছিল যেন চিনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে. পাক অধিকৃত কাশ্মীরে বর্তমানে চিনের সেনা বাহিনীর উপস্থিতির খবরও যে এখনই প্রকাশিত হয়েছে, তাও হঠাত্ করেই নয়, এই কথা উল্লেখ করে বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

    "বিগত মাস গুলিতে পাকিস্তান – আমেরিকা ও পাকিস্তান- আফগানিস্তান সম্পর্ক খারাপ হতে দেখা গিয়েছে. কিন্তু প্রকৃতিতে শূণ্য তাকে না. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জায়গা আরও বেশী করে পররাষ্ট্র নীতিতে পাকিস্তানের জন্য সক্রিয় ভাবে নিয়েছে চিন, আর প্রধান বিদেশী শক্তি, যাকে আফগানিস্তানে ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য ডাকা হয়েছে, তার জন্য দাবী করতে শুরু করেছে ভারতবর্ষ. স্ট্র্যাটেজিক সহযোগিতা নিয়ে চুক্তি বিগত কয়েক দিনের মধ্যে আফগান রাষ্ট্রপতি হামিদ কারজাইয়ের দিল্লী সফরের সময়ে স্বাক্ষরিত হওয়া – এর উজ্জ্বলতম উদাহরণ. আর এই প্রক্রিয়া গুলি অন্য বিষয়ের মধ্যে সমগ্র দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াতেই স্ট্র্যাটেজিক ভাবে বিরোধ বৃদ্ধি করতে পারে.

    একই সঙ্গে চিনের সঙ্গে সম্পর্কের রাজনীতির বিষয়ে নতুন করে দেখার কথা হঠাত্ করেই বিজেপি বলে নি. এই দল আজ জনপ্রিয়তার নিরিখে উপরে উঠছে ও আগামী সার্বিক নির্বাচনে বিজয়ের আশা করেছে – তা সে যখনই হোক সময়ের হিসেবে ২০১৪ সালে অথবা তার আগেই".

    গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা বর্তমানের সরকারের জনপ্রিয়তা হারানো ও বিজেপি দলের প্রভাব বৃদ্ধির জন্য হয়েছে, তা হল বিগত কয়েক মাস ধরে চলে আসা দুর্নীতি বিরোধী লোকপাল বিল নিয়ে অন্না হাজারে কৃত আন্দোলন. আজ খুব কম লোকই সাহস করে বলতে পারে যে, বর্তমানে প্রশাসনের নেতৃত্বে থাকা জাতীয় জোট সঙ্ঘ (ইউপিএ) নির্বাচনের পরেও ক্ষমতায় থাকবে. আর মার্কিন কংগ্রেস থেকে তাদের গবেষণা পরিষেবা কেন্দ্রের (সিআর এস) রিপোর্টে সোজাসুজিই বলা হয়েছে যে,  ২০১৪ সালে বিজেপি ক্ষমতায় আসতেই পারে. ভারতের প্রশাসনের ক্ষমতায় সেই দলের আসা, যারা বর্তমানের দলের থেকে আরও বেশী করে চরমপন্থী জাতীয় প্রশ্নের অবস্থানে রয়েছে, তা বেশী করেই এই অঞ্চলের প্রধান স্ট্র্যাটেজিক খেলোয়াড়দের মধ্যে বিরোধ বৃদ্ধি করতে পারে.