রাশিয়া আসন্ন বছর গুলিতে ভোগের ক্ষেত্রে ইউরোপের সবচেয়ে বড় খুচরো বাজার হতে চলেছে. এই ধরনের সিদ্ধান্তে পৌঁছেছেন ব্রিটেনের ফাইনান্সিয়াল টাইমস পত্রিকার বিশেষ প্রবন্ধের বিশেষজ্ঞরা, যাঁরা রাশিয়াতে বিনিয়োগের বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন. রেডিও রাশিয়ার তরফ থেকে যে সমস্ত বিশ্লেষকদের প্রশ্ন করা হয়েছিল, তাঁরা উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমানে যে কোন বিদেশী বিনিয়োগকারী তাঁর স্ট্র্যাটেজি সঠিক ভাবে করলে এখানের বাজারের অনেকটাই নিতে পারে ও যথেষ্ট বড় মাপের লাভ করতে পারে.

    বিদেশের বিনিয়োগকারীরা, যাঁরা আজ রাশিয়াকে দেখছেন ও তার সম্ভাবনা নিয়ে ভাবছেন, তাঁরা দেখতে পেয়েছেন যে, রাশিয়ার অর্থনীতি যে সম্ভাবনা আজ করে দিয়েছে, সেখানে গ্রাহক ক্ষেত্রের দিকে নজর দেওয়া দরকার. প্রসঙ্গতঃ সেই ক্ষেত্রে যেমন, উত্পাদন, তেমনই খুচরো বিক্রীর সম্ভাবনা. এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত পরামর্শ দাতারা লক্ষ্য করেছেন যে, দেশে জনতার বাস্তব আয় বাড়ার সঙ্গে ভোগের পরিমানও বাড়ছে প্রায় বছরে চার শতাংশ করে. কিন্তু এখানে প্রধান হল – ভোগের চিত্রই পাল্টে যাচ্ছে. ক্রেতাদের পছন্দ বদলাচ্ছে প্রাথমিক ভাবে তাঁরা আর দাম দেখছেন না, বরং দেখছেন গুণ মান ও জিনিসের মার্কা. খাদ্য সামগ্রী বাজার নিয়ে বিশেষজ্ঞ মারিয়া কাতারানোভা এই প্রসঙ্গে মন্তব্য করে বলেছেন:

    "যে ভাবে লোকের সম্পত্তি বৃদ্ধি হবে, তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে জিনিস ব্যবহারও বাড়বে. আমাদের বাজার সত্যই এখন উন্নতি করছে ও এক দল লোক রয়েছেন, যাঁরা আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গেই  জিনিসের প্রতি দাবীও বাড়াবেন".

    আর এখানেই শুরু হচ্ছে সবচেয়ে মজার ব্যাপার. ক্রেতাকে কোথায় যেতে হবে শুধু মস্কো বা সেন্ট পিটার্সবার্গেই নয়, দেশের অন্যান্য জায়গাতেও নিরবচ্ছিন্ন ভাবে শপিং মল ও অতিকায় বাজার তৈরী হওয়া, প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, বাজার এখনও সংপৃক্ত হয় নি, এই কথা উল্লেখ করে ক্যাপিটাল অ্যাক্টিভ ম্যানেজমেন্ট কোম্পানীর জেনেরাল ডিরেক্টর আন্দ্রেই গ্রিশেঙ্কো বলেছেন:

    "বাজার সংপৃক্ত নয়, এটা ঠিক. নেটওয়ার্ক দোকান দিয়ে মস্কো শহরে প্রায় কুড়ি শতাংশ জনগনকে পরিষেবা দেওয়া হচ্ছে, এমনকি তার কম হতেও পারে. বাকি গুলি সমস্ত অবোধ্য ছোট দোকান, যাদের প্রত্যেকেরই নিজেদের সমস্যা রয়েছে. কারও এটা জিনিস আনা নেওয়া নিয়ে, কারও জিনিস নিয়ে, কারও বা বিক্রেতা নিয়ে. আর যদি এর জায়গায় নেটওয়ার্ক দোকান এসে তাদের ক্রেতাদের সঙ্গে কাজের সংস্কৃতি বহাল করে ও তাদের রাশিয়ার বাইরে যতটা লাভ হয়ে থাকে, ততটাই করে, তবে সবই আরও বেশী করে ভাল হবে".

বর্তমানে রাশিয়ার খুচরো বাজারের সবচেয়ে বড় খেলোয়াড় দেশের কোম্পানীরাই – "মাগনিত", "ইকস- ৫" এবং "ওকেই". কিন্তু সক্রিয়ভাবে প্রসার বাড়াচ্ছে বিদেশের শীর্ষস্থানীয় খেলোয়াড়েরা – আশান ও মেট্রো. প্রসঙ্গতঃ, শেষের কোম্পানী – প্রথম থেকেই পাইকারী বিক্রীর ব্যাপারে বিশেষ করে রয়েছে, তারা এবারে বাড়ীর কাছে দোকান তৈরী করতে চাইছে. আর এক্ষেত্রে বাজারে সকলের জন্যই জায়গা রয়েছে. এমনকি নতুন বিদেশী কোম্পানীর জন্যও, যা বোধহয় এখানে আসবেই.

জিনিসের উত্পাদকেরাও তাদের সক্রিয়তা কমান নি. যেমন জার্মানীর "হেনকেল" কোম্পানী স্বীকার করেছে যে, তাদের জন্য রাশিয়া এক বড় বাজার হয়েছে ও প্রত্যেক বছরে বিক্রী বাড়ছে দশক হিসাবে. তার সঙ্গে মনে করিয়ে দেওয়া যেতে পারে যে, আমেরিকার "পেপসি কো", রাশিয়াতে নিজেদের অবস্থানকে আরও মজবুত করার জন্য ফলের রস ও দুধের জিনিস তৈরীর কোম্পানী "উইমবিলডান" কোম্পানী কিনে নিয়েছে, "কোকা কোলা" এর উত্তরে কিনেছে "নিদান" নামের এক কোম্পানী. ফ্রান্সের "দানোন" কোম্পানী "ইউনিমিল্ক" নামের কোম্পানী কিনে নেওয়ার জন্য খরচ করেছে. দেশে অন্যান্য কোম্পানীরাও সক্রিয়ভাবে নিজেদের উত্পাদনের জায়গা বৃদ্ধি করছে. এটা জিনিসের দাম কমাতে সাহায্য করে ও ক্রেতার কাছে চলে আসতে সাহায্য করে. আর শেষ অবধি বাজারের অংশ পেতে ও বিশাল লাভ করতেও সাহায্য করে.