দামাস্কাস থেকে এই খবর ভুয়া বলে প্রচার করা হয়েছে যে, সিরিয়ার রাষ্ট্রপতি বাশার আসাদ ইজরায়েল ও পারস্য উপসাগরে মার্কিন নৌবহরের ওপরে আঘাত করার হুমকি দিয়েছেন. এই প্রচারের উদ্দেশ্যে মিথ্যা খবর মঙ্গলবার রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে সিরিয়ার উপরে নিষেধাজ্ঞা গ্রহণের উদ্দেশ্য আয়োজিত বৈঠকের কয়েক ঘন্টা আগে প্রকাশিত হয়েছিল. কিন্তু তা দামাস্কাসকে সমালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার কাজে লাগতে পারে নি.

এই খবর প্রচার করেছিল ইরানের তথ্য প্রচার সংস্থা "ফার্স". বাশার আসাদ নাকি কিছুদিন আগে তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রী আখমেত দাভুতোগলু কে এক সাক্ষাত্কারের সময়ে বলেছেন যে, পশ্চিমের তরফ থেকে সিরিয়ার কাজকর্মে সামরিক অনুপ্রবেশ করা হলে, ইজরায়েলের উপরে রকেট হানা দেওয়া হবে. তারপরে লেবাননের হেজবোল্লা দল গোলা বর্ষণের সঙ্গে যুক্ত হবে, আর ইরান পারস্য উপসাগরে মার্কিন সামরিক নৌবহরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করবে. কিন্তু বৃহস্পতিবারে সিরিয়ার পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে যে, "আসাদ বিগত সময়ে তুরস্কের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সঙ্গেই দেখাই করেন নি ও যা এই বৈঠকের সম্বন্ধে প্রকাশ করা হয়েছে তা মিথ্যা".

তা স্বত্ত্বেও, ইরানের সংস্থার এই অদ্ভূত প্রচার পশ্চিমে জ্বলন্ত দামাস্কাস আতঙ্কের কড়াইতে আরও তেল দিয়েছে ও নতুন করে অভিযোগের ঢেউ উঠেছে. পশ্চিমের দেশ গুলি মস্কো ও বেইজিং কেও অভিযোগ করতে ছাড়ছে না যে, তারা নিরাপত্তা পরিষদে সিদ্ধান্ত নিতে দেয় নি, যাতে সিরিয়ার ব্যাপারে নাক গলানো সম্ভব হয়. আমাদের ভেটো থামাতে পারবে না, প্যারিস ভয় দেখিয়েছে. রাশিয়াকে ব্যাখ্যা করতে হবে, ঘোষণা করেছে ওয়াশিংটন. বিশেষজ্ঞরা বিগত সময়ের মধ্যে রাশিয়া ও পশ্চিমের মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর কূটনৈতিক বিরোধের প্রসঙ্গে কথা বলতে শুরু করেছেন. রাশিয়ার নিকট প্রাচ্য ও ইজরায়েল গবেষণা ইনস্টিটিউটের সভাপতি ইভগেনি সাতানোভস্কি একটি সম্ভাব্য ঘটনা পরম্পরা নিয়ে বলেছেন"

"রাষ্ট্রসঙ্ঘের সিদ্ধান্ত ছাড়া কোন রকমের নাক গলানো হতে পারে. সিরিয়ার উপরে একই রকমের আঘাত হানা হতে পারে, যেমন হয়েছিল ইরাকের উপরে. কিন্তু এই ঘটনা প্যারিস ও ওয়াশিংটনের জন্য নির্দিষ্ট জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে, কারণ দুয়ারে কড়া নাড়ছে প্রাক্ নির্বাচনী বছর. আর ওবামা ও সারকোজিকে তাঁদের নির্বাচকদের সামনে জবাবদিহি করতে হবেই. আফগানিস্তান, ইরাক ও লিবিয়ার পরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের আরও একটি যুদ্ধের কি প্রয়োজন"?

বিশেষজ্ঞরা বাদ দেন নি যে, সিরিয়া বিরোধী সিদ্ধান্ত নেওয়া ভণ্ডুল হওয়ার পরে, মুখ রক্ষা করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় সঙ্ঘ নিজেদের পক্ষ থেকে দামাস্কাসের বিরুদ্ধে একতরফা নতুন নিষেধাজ্ঞা জারী করতে পারে. প্রাচ্য বিশারদ সের্গেই দেমিদেঙ্কো মনে করেন যে, পশ্চিম দামাস্কাসের বিরুদ্ধে কঠোর মন্তব্য করা চালিয়ে যাবে, কিন্তু শক্তি প্রয়োগ করতে বোধহয় যাবে না, তিনি বলেছেন:

"পশ্চিমের দেশ গুলি এখনই সিরিয়ার সম্পর্কে তাদের অবস্থান পাল্টাতে পারে না. তারা এর মধ্যেই এটা নির্দিষ্ট করে দিয়েছেন এই বলে যে, আসাদ দমন করছেন, সুতরাং – এটা বন্ধ করা দরকার. আর এই রাশিয়া, চিনের সঙ্গে মিলে, তা করতে দিচ্ছে না. এরই মধ্যে বোঝা যাচ্ছে যে, আসাদ কে ছুঁড়ে ফেলার অর্থ হল সিরিয়ার প্রশাসনে চরমপন্থী ঐস্লামিক দল নিয়ে আসা. এখানে মনে করা যেতে পারে যে, পশ্চিম এর মধ্যেই চরমপন্থীদের সঙ্গে চুক্তি করার একটা স্ট্র্যাটেজি বানিয়ে ফেলেছে, যদিও আমি নিজে ব্যক্তিগত ভাবে এই বিষয়ে সন্দেহ রাখি. কারণ চরমপন্থীরা – আরব সমাজের খুবই কম নিয়ন্ত্রণ যোগ্য অংশ".

সম্ভবতঃ সেই সমস্ত বিশেষজ্ঞরাই ঠিক, যাঁরা মনে করছেন – পশ্চিম বেইজিং ও মস্কোর উপরে চাপ দেওয়া চালিয়ে যাবে, যাতে সিরিয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্তে আবার ফেরা সম্ভব হয়. বাদ দেওয়া যায় না এমন সম্ভাবনা যে, তারা সিদ্ধান্তের খসড়াকে নরম করবে, যাতে নতুন করে ভেটো না দেওয়া হয়. এরই মধ্যে দামাস্কাসের এখন আভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সংশোধন ও গঠন মূলক বিরোধী পক্ষের সঙ্গে চুক্তি করা ছাড়া আর কোনও পথ নেই.