মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে সন্ত্রাসবাদীদের সঙ্গে আলোচনা বাতিলের নীতি সম্ভবতঃ বর্তমানে সেলাই বরাবর ফেটে যাচ্ছে. আমেরিকার লোকেরা সিরাজুদ্দিন হাক্কানির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে – পাকিস্তানে ঘাঁটি গেড়ে বসা চরমপন্থী দলের নেতার সঙ্গে, যে বিষয়ে সে নিজেই খবর দিয়েছে সংবাদ মাধ্যমকে. আলোচনায় কথা হয়েছে হাক্কানির আফগানিস্তানের সরকারে প্রবেশের সম্ভাবনা নিয়ে.

    হাক্কানি দল, যাদের সংখ্যা প্রায় ১৫ হাজার জঙ্গী লোক, তারা তালিব, আল- কায়দা ও পাকিস্তানের তালিব পন্থী বিশেষ গুপ্তচর বাহিনীর লোকেদের সঙ্গে যোগাযোগের কথা সবাই জানে. হোয়াইট হাউস তাদের উপরে আফগানিস্তানে পশ্চিমের সেনা বাহিনীর উপরে বহু শত হামলার দোষে অভিযোগ করেছে. তার মধ্যে – এই বছরের ১৩ই সেপ্টেম্বর ২০ ঘন্টা এক নাগাড়ে চলা কবুল শহরে ন্যাটো জোটের প্রধান দপ্তর ও মার্কিন দূতাবাসের উপরে গুলি বর্ষণও ছিল.

    এটা খুবই অদ্ভূত, কিন্তু সত্য যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্র দপ্তর হাক্কানির দলকে নিজেদের সন্ত্রাসবাদী দলের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে নি. তার কারণও রয়েছে: ওয়াশিংটন চায় না ইসলামাবাদের সঙ্গে সম্পর্ক আরও বেশী করে খারাপ করতে, যা পাকিস্তানের সরকারকে অন্ধকারে রেখে বেন লাদেনকে অ্যাবত্তাবাদে হত্যা করার জন্য তৈরী হয়েছে. হাক্কানির দলকে সন্ত্রাসবাদী ঘোষণা করলে, রাষ্ট্র দপ্তরকে পাকিস্তানকে সেই সমস্ত দেশের তালিকায় রাখতে হত, যারা সন্ত্রাসবাদকে সহায়তা করছে. কারণ পাকিস্তানের সরকার শুধুমাত্র হাক্কানির দলকে যে ধরার চেষ্টা করছে না, তা নয়, বরং ব্যবহার করেছে সীমান্তবর্তী উত্তর ওয়াজিরস্থানে তালিবদের সঙ্গে আলোচনার জন্য মধ্যস্থ হিসাবেও. এবারে তারা দরকার পড়েছে আমেরিকার লোকেদের একই কাজের জন্য, এই কথা উল্লেখ করে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ ভ্লাদিমির সোতনিকোভ বলেছেন:

    "১৯৮০ দশকের শুরুতে, যখন সোভিয়েত বাহিনী আফগানিস্তানে ছিল, তখন আমেরিকার লোকেরা পাকিস্তানের প্রতি গুপ্তচর বাহিনীর সঙ্গে একসাথে মিলে হাক্কানি আন্দোলন তৈরী করেছিল. এখন তারা চাইছে, যাতে হাক্কানির দল আমেরিকার লোকেদের সম্ভাব্য খেলায় নামে, যা তারা নাম দিয়েছে আফগানিস্তানের পরিস্থিতির ভারসাম্য আনা বলে".

    আমেরিকার লোকেদের এমনকি কয়েকদিন আগে তালিবদের সঙ্গে প্রধান আফগান শান্তি আলোচনাকারী – প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি বুরখানুদ্দিন রব্বানীর প্রমাণিত হত্যা কাণ্ডের সঙ্গে হাক্কানি দলের যোগাযোগও বিরত করতে পারে নি, এই কাজ করার থেকে. তারা বুঝতে পেরেছে যে, চরমপন্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ না করে, যারা সেখানের জনতার সমর্থন পেয়েছে, আফগানিস্তানের পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে না, তাই ভ্লাদিমির সোতনিকোভ আরও যোগ করে বলেছেন:

    "আমেরিকার লোকেরা নানা ধরনের সম্ভাব্য পথের হিসাব করছে, কি করে এমন করা যায়, যাতে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভাবে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায়, যখন আফগানিস্তান থেকে সেনা বাহিনী প্রত্যাহার করা হবে. এই লক্ষ্য সাধনের জন্য আমেরিকার লোকেরা এমনকি হাক্কানির দলের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখতে চায় ও এই ভাবে তথাকথিত মধ্যপন্থী তালিবদের সঙ্গেও যোগাযোগ বাড়াতে চায়".

    কিন্তু রব্বানি নিহত হওয়ার পরে আফগানিস্তানের রাষ্ট্রপতি হামিদ কারজাই ঘোষণা করেছেন যে, তিনি তালিবদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করছেন, কারণ মধ্যপন্থী তালিব হয় না. কিন্তু আমেরিকার লোকেরা আফগানিস্তানের রাষ্ট্রপতির মতকে উপেক্ষা করেছে – তার সময়কাল – ওয়াশিংটনের মতে ফুরিয়ে আসছে, এই কথা মনে করে স্ট্র্যাটেজিক মূল্যায়ণ ও বিশ্লেষণ ইনস্টিটিউটের প্রাচ্য বিশারদ বিশেষজ্ঞ সের্গেই দেমিদেঙ্কো বলেছেন:

    "আমেরিকার লোকেরা বহু দিন ধরেই খুঁজছে তাঁর পরিবর্তে অন্য কাউকে. কারজাই নিজের পদের যোগ্য কাজ করছেন না, তিনি জাতীয় নেতা এবং সেই ধরনের ব্যক্তিত্বে পরিনত হতে পারেন নি, যা আফগানিস্তানকে নিজের চারপাশে জোটবদ্ধ করে দেশের পরিস্থিতিকে স্থিতিশীল করতে পারে. এখন একটা যা হোক স্থিতিশীলতা আনতেই হবে, যা আমেরিকার লোকেরা ইরাকে করেছে: পার্লামেন্ট ও সরকারের মধ্যে সমস্ত ধরনের যুযুধান বিপরীত শক্তিকে একসাথে জোর করে ঢুকিয়ে দিয়ে".

    আর যদি হাক্কানি মৃত রব্বানীর কাজের অংশ হিসাবে শান্তি আনার কাজ নিজের উপরে কিছুটা নিতে চায়, তবে এটা শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেরই জন্য সুবিধাজনক হবে. তাদের প্রয়োজন হল আফগানিস্তানের উপরে নিজেদের প্রভাব রক্ষা করা. প্রাথমিক ভাবে একটা বড় বাণিজ্যিক প্রকল্প হিসাবেই. হাক্কানির কাছ থেকে এই ক্ষেত্রে চাওয়া হয়েছে শান্তি আলোচনার প্রক্রিয়ায় "টিকিট কন্ডাকটরের" ভূমিকা, এই কথা বলে পাকিস্তানের রাজনীতিজ্ঞ ও ক্রিকেট খেলার এক কিংবদন্তী মানুষ ইমরান খান বলেছেন:

    "আমেরিকার লোকেদের এখন কি দরকার? চলে যাওয়ার স্ট্র্যাটেজি. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনতা চাইছে, যাতে সেনাবাহিনী দেশে ফিরে আসে – জনতার মত পরিসংখ্যাণ গুলি এটাই দেখাচ্ছে. হাক্কানি এর জন্য "টিকিট কন্ডাকটর" হতেই পারত, যে তালিবদের কাবুলের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসার জন্য ছেড়ে দিত. আমি মনে করি, আমেরিকার লোকেদের পক্ষ থেকে পাকিস্তানের উপরে তালিবদের উপরে প্রভাব বিস্তার করতে বলার জন্য চাপ সৃষ্টি করার বদলে এই ধরনের রাজনীতি বেশী করে বুদ্ধি সঙ্গত".

    কারজাই ও হাক্কানি – পরস্পর বিরোধী, তাই তাদের একই সঙ্গে আফগানিস্তানের ক্ষমতার শীর্ষে থাকা সম্ভব নয়, এই কথা মনে করেছেন রেডিও রাশিয়ার সঙ্গে যারা আলোচনা করেছেন. যদি শেষ অবধি দেশের নেতৃত্বে হাক্কানি দলের লোকেরা আসে, তবে পরবর্তী কালে কি হতে পারে তা বলা আরও কঠিন থেকে কঠিনতর হবে.