রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের দুই স্থায়ী সদস্য দেশ রাশিয়া ও চিন সিরিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে নিষেধাজ্ঞা গ্রহণের প্রকল্পের পথ রোধ করা খুবই সরব প্রতিধ্বনি তোলা চালু রেখেছে. দামাস্কাস থেকে দুই দেশের রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্তে ভেটো প্রয়োগকে স্বাগত জানানো হয়েছে. বিশেষ করে উল্লেখ করা হয়েছে রাশিয়া ও চিন অন্যায়ের পথ রোধ করে জনতার পাশে দাঁড়িয়েছে বলে. পশ্চিমের রাজনীতিবিদেরা নিজেদের পক্ষ থেকে রাশিয়া ও চিনের একই অবস্থানের বিরুদ্ধে খুবই তীক্ষ্ণ সমালোচনা করেছে.

সবচেয়ে কঠোর ভাবে বক্তব্য রেখেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা. যদিও রাশিয়া ও চিনের পক্ষ থেকে সরকারি ভাবে অস্বীকৃত প্রকল্প ফ্রান্স, জার্মানী, গ্রেট ব্রিটেন ও পর্তুগাল প্রস্তাব করেছিল, তাও সবচেয়ে কঠোর ভাবে মন্তব্য করেছেন মার্কিন রাষ্ট্রসচিব হিলারি ক্লিন্টন. সম্ভবতঃ, "পশ্চিমের তৈরী" সিরিয়া সংক্রান্ত প্রকল্পের ন্যায় সঙ্গত চরিত্র প্রমাণ করার জন্য শেষ অবধি তিনি তৈরী রয়েছেন.

 সেই সমস্ত দেশ, যারা সিদ্ধান্তে ভেটো প্রয়োগ করেছে, তারা বাধ্য হবে সিরিয়ার জন্য ও অন্যান্য সকলের কাছে জবাবদিহি করতে যে, কে বিশ্বে মানুষের স্বাধীনতা ও অধিকারের জন্য লড়াই করছে, - ঘোষণা করেছেন রাষ্ট্রসচিব, তাঁর ডোমিনিকান প্রজাতন্ত্র সফরের সময়ে. রাষ্ট্র দপ্তরের সরকারি প্রতিনিধি ভিক্টোরিয়া ন্যুলান্ড তাঁর পক্ষ থেকে সেই সমস্ত দেশের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে বলেছেন, যারা "সিরিয়ার প্রশাসনের গলায় ফাঁস পরাতে" তৈরী হবে.

যে কোন মূল্যেই বাশার আসাদের প্রশাসনকে শ্বাসরোধ করা – এই অভিপ্রায়, এমনকি কোন ভাবেই গোপন করার চেষ্টা করা হচ্ছে না – যার প্রতিক্রিয়া শুধু এই অঞ্চলের জন্যই নয়, এমনকি সারা বিশ্বের জন্যই বিপর্যয় হতে পারে. বাস্তবে – এটা এক স্ফুলিঙ্গ, যা তৃতীয় বিশ্ব যুদ্ধের আগুণ ধরিয়ে দিতে পারে, - বলে মনে করে রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর সুদূর প্রাচ্য ইনস্টিটিউটের ভাইস ডিরেক্টর সের্গেই লুজিয়ানিন বলেছেন:

"রাশিয়া ও চিন নিকট প্রাচ্যে বড় মাপের যুদ্ধ আটকে দিয়েছে. কারণ একেবারেই স্পষ্ট দেখতে পাওয়া যাচ্ছে যে, যদি এই জোট সিরিয়ার বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে, তবে নিজে থেকেই এই অনুপ্রবেশের অর্থ হবে সিরিয়া ইজরায়েলের মধ্যে যুদ্ধ. ইরানও এক ধারে পড়ে থাকবে না, সিরিয়ার পক্ষেই অংশ নেবে. অর্থাত্ শুরু হবে অকল্পনীয় ও দীর্ঘস্থায়ী সামরিক বিরোধ".

বিশেষজ্ঞের মতে নিকট প্রাচ্যে বিরোধের আগুণ আরও উজ্জ্বল হলে, যেখানে বহু বৃহত্ রাষ্ট্রের স্বার্থ জড়িত ও যেখানে প্রায় পারমানবিক শক্তিধর দেশ রয়েছে, তবে তা এক বিশ্ব জোড়া সংঘর্ষে পরিনত হতে পারে. যাদের আজ "লিবিয়ার ঘটনার" সাফল্যে মাথা ঘুরছে, তাদের এটা মাথায় রাখা উচিত্.

রাশিয়া ও চিনের পক্ষ থেকে বাতিল করা সিদ্ধান্তের খসড়া, তৈরীই করা হয়েছিল বিরোধের দর্শন দিয়ে, যেখানে ভেবে দেখা হয় নি যে, নিকট প্রাচ্য – এটা সত্যিকারের একটা বারুদের স্তূপ. তা এক তরফা ভাবে দামাস্কাসের বিরুদ্ধে অভিযোগের ঝোঁক দিয়ে তৈরী করা, কিন্তু সেখানে সিরিয়ার বিরোধী পক্ষের সম্বন্ধে কিছুই বলা হয় নি, যারাও হিংসার পথ নিয়েছে ও এমনকি সন্ত্রাসের পথেই চলতে শুরু করেছে. পশ্চিমের দেশ গুলি বাস্তবে পরিস্থিতিকে সেই দিকেই ঠেলে দিতে চাইছে, যাতে সিরিয়াতে সম্পূর্ণ ভাবে প্রজাতি গুলির মধ্যে ও ধর্ম মত গুলির মধ্যে বিরোধ শুরু হয়.

বাশার আসাদের প্রশাসন বিবর্তিত হচ্ছে, কিন্তু এটা পশ্চিমে খেয়াল করে দেখতে চাওয়া হচ্ছে না, বাস্তবে বাধ্য করতে চাওয়া হয়েছে তার ক্ষমতা থেকে অপসরণ, এই কথা বলে রাশিয়ার লোকসভার আন্তর্জাতিক বিষয়ক পরিষদের সভাপতি কনস্তানতিন কোসাচেভ বলেছেন:

"এক দলীয় ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার জন্য একসারি আইন সঙ্গত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, গণতান্ত্রিক ভাবে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হয়েছে, সংবাদ মাধ্যমের জন্য বেশী করে স্বাধীনতা দেওয়া হয়েছে. বিবর্তনের পথে অগ্রবর্তী হওয়ার সম্ভাবনাকে বৈপ্লবিক ভাবে পরিবর্তনের সম্ভাবনা দিয়ে বাতিল করা বুদ্ধির কাজ নয়. এটা সিরিয়ার জনগনেরই স্বার্থের অনুকূল নয়. নিরাপত্তা পরিষদে রাশিয়া ও চিনের অবস্থানের এটাই মূল কথা. সিরিয়ার রাজনৈতিক প্রক্রিয়াতে কৃত্রিম ভাবে বাইরে থেকে প্রভাব ফেললে, তা শুধু নতুন করে রক্তপাত, নতুন করে গোলমাল, নতুন ট্র্যাজেডি তৈরী করবে".

গৃহযুদ্ধের ফলে সিরিয়ার পতন সমস্ত নিকট প্রাচ্যকেই প্রভাবিত করবে. এরই বৈপরীত্যে রাশিয়া ও চিন নিরাপত্তা পরিষদকে প্রস্তাব করেছে নিজেদের খসড়া, যেখানে বিশেষ করে উল্লেখ করা হয়েছে সিরিয়ার সরকার ও বিরোধী পক্ষের দ্বন্দ্বের মধ্যে পশ্চিমের সামরিক অনুপ্রবেশ অসম্ভব বলে.