ভারতের "জাতীয় জাহাজ মালিক সংস্থা" সোমবার রাষ্ট্রসঙ্ঘে আডেন উপসাগর অঞ্চলে, আরব সাগরে ও ভারত মহাসাগরে সব মিলিয়ে নিরাপত্তা রক্ষার জন্য এক আন্তর্জাতিক জলদস্যূ দমন শক্তি তৈরী করার আহ্বান করেছে.

এই সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছরে বিশ্ব বাণিজ্যের ক্ষেত্রে জলদস্যূ আক্রমণের ফলে আডেন উপসাগরে ও আরব সাগরে যে ক্ষতি হয়, তার পরিমান ৯শো কোটি ডলারেরও বেশী. এই খরচ জলদস্যূদের জাহাজ মুক্ত করার জন্য দিতে, মালের ক্ষতি ও ভারত মহাসাগরে জাহাজ ও জাহাজ চলাচল পাহারার দেওয়ার জন্য ক্রমবর্ধমান ব্যয় মিলিয়ে করতে হয়. আর কিছুদিন আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিংহ ঘোষণা করেছিলেন যে, ভারত মহাসাগরে জলদস্যূদের কারবার আরও বেশী করে হচ্ছে ও সারা ভারতের সামুদ্রিক বাণিজ্যে জন্য এই উদ্বেগ বেড়েই চলেছে.

জলদস্যূ সমস্যা মোকাবিলার জন্য অংশতঃ আডেন উপসাগরে সোমালির তীর বরাবর – যেখানে জলদস্যূরা ঘাঁটি গেড়ে বসেছে – সেখানে এক চলাচল অযোগ্য জায়গা তৈরী করে দেওয়া, যেমন ন্যাটো জোটের পক্ষ থেকে লিবিয়ার আকাশকে উড়ান মুক্ত করার জন্য করা হয়েছে, তেমনই করা যেতে পারে, বলে মনে করে রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

"জলদস্যূরা কিছুদিন ধরে খুবই ন্যক্কার জনক কাজ কারবার করছে. এর জন্য তাদের সোমালি দেশের ঘাঁটি সুবিধা করে দিয়েছে – যা বিগত ২০ বছর ধরে আর রাষ্ট্রই নেই, যেখানে কেন্দ্রীয় সরকার কোন কিছুই নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, আর বিভিন্ন অঞ্চলের দখল বিভিন্ন অপরাধী গোষ্ঠীর হাতে রয়েছে. আরব সাগরে বিভিন্ন দেশের সামরিক নৌবহর পাহারা দিলেও জলদস্যূদের কাজ কারবার খতম করা যাচ্ছে না. আজকের দিনে তাদের হাতে রয়েছে ২৬টি ধরা পড়া জাহাজ ও ৬০০ জন জাহাজের কর্মী. সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞদের হিসাব অনুযায়ী ২০১০ সালে জলদস্যূদের হাতে ধরা পড়েছিল ১১৮১ জন নাবিক ও জাহাজের যাত্রী, যারা এই সক্রিয় এলাকা হয়ে গিয়েছিল".

ভারত – সেই সমস্ত দেশের একটি, যারা জলদস্যূদের সঙ্গে আরব সাগরে খুব লড়াই করছে. এটা স্বাভাবিক, কারণ ভারতের মূল বিদেশী বাণিজ্য সহচর দেশে সংযুক্ত আরব আমীর শাহী, আর তাদের জন্য মূল পরিবহন যোগ্য মাল যাওয়া আসা করে (প্রাথমিক ভাবে খনিজ তেল) সমুদ্র পথেই. ভারতের নাবিকেরাই জলদস্যূদের বিরুদ্ধে সব থেকে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে থাকে: ভারতের নৌবাহিনীর সেনারা এদের মোকাবিলার জন্য সবচেয়ে চরম পথই নিয়েছে. আজ ভারতে বিচার ও ন্যায় সঙ্গত শাস্তির জন্য একশরও বেশী জলদস্যূ ধরা পড়েছে. প্রসঙ্গতঃ এদের মধ্যে অনেকেই ধারা পড়েছে লাক্ষাদ্বীপের কাছে – যা সোমালির প্রধান ঘাঁটি থেকে অনেক দূরে, যা আবারও প্রমাণ করে দিয়েছে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর কথা.

ভারতীয় নৌবাহিনীর সেনার কাছ থেকে এই ধরনের চরম ব্যবস্থা জলদস্যূদের কাছ থেকেও প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে: কিছু দিন আগে তারা ঘোষণা করেছে যে, বাণিজ্য জাহাজে ধরা পড়া ভারতীয় নাগরিকদের সঙ্গেও তারা আর কোন রকমের ভাল হওয়ার চেষ্টা করবে না. যুদ্ধ যখন, তখন যুদ্ধই হবে.

কয়েক বছর আগে আমেরিকার সাংবাদিক ও রাজনীতিজ্ঞ ডি. কাপলান ফরেন অ্যাফেয়ার্স জার্নালে এক প্রবন্ধ লিখেছিলেন "একবিংশ শতকের প্রধান মঞ্চ: ভারত মহাসাগরে শক্তির খেলা গুলি". তাতে প্রধান মনোযোগ দেওয়া হয়েছিল ভারত ও চিনের মতো দুই আঞ্চলিক ভাবে বৃহত্ রাষ্ট্রের মধ্যে শক্তির পরীক্ষা দিয়ে প্রধান হতে চাওয়ার চেষ্টার কথা. কিন্তু বিগত কিছু সময়ের ঘটনা যেমন দেখিয়েছে যে, ভারত মহাসাগর এলাকা থেকে নি৪গত বিপদ অনেক বেশী ভয়ঙ্কর. যদি রাষ্ট্র, যারা এমনকি প্রতিযোগী বা খোলাখুলি ভাবে বিরোধীও হয়, তবুও তাদের চেয়ে এই ছড়ানো ছিটানো জলদস্যূরা অনেক বেশী নিয়ন্ত্রণের বাইরের শক্তি. আর মনে হয় যে, তারাই ঠিক, যারা বিশ্বের সমস্ত দেশকে প্রতিযোগিতা ভুলে এই বিপদের বিরুদ্ধে একসাথে লড়তে আহ্বান করছে.