রাশিয়া পরিকল্পনা করেছে ২০১২ সালের ডিসেম্বর মাসে ভারতীয় নৌবহরের মধ্যে মেরামতের কাজ ও আধুনিকীকরণ শেষ করে রকেট ও বিমান বাহী যুদ্ধ জাহাজ "বিক্রমাদিত্য" (প্রাক্তন রকেট ও বিমান বাহী যুদ্ধ জাহাজ "অ্যাডমিরাল গর্শকভ") দিয়ে দেবে. ভারতের নৌবাহিনীতে রকেট ও বিমান বাহী "বিক্রমাদিত্য" যুদ্ধ জাহাজ ভারতকে সামুদ্রিক বৃহত্ শক্তি সম্পন্ন দেশে পরিনত করবে. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    ২০০৪ সালের জানুয়ারী মাসে  স্বাক্ষরিত রাশিয়া ও ভারতের আন্তর্প্রশাসনিক চুক্তি অনুযায়ী, রাশিয়ার বিমান বাহী যুদ্ধ জাহাজ "অ্যাডমিরাল গর্শকভের" খোল ভারতকে দেওয়া হয়েছিল বিনা মূল্যে, শুধু এই শর্তে যে, এই জাহাজের আধুনিকীকরণ ভারত রাশিয়ার "সেভমাশ" জাহাজ নির্মাণ কারখানায় করবে. রাশিয়া একই সঙ্গে নিজেদের উপরে এই বিমান বাহী যুদ্ধ জাহাজের কাজের প্রশিক্ষণের জন্য প্রায় দেড় হাজার ভারতীয় নাবিকের দায়িত্ব ও ভারত মহাসাগরে এই জাহাজের ঘাঁটি গড়ার জন্য কাজ নিয়েছিল. ২০১০ সালের ১২ই মার্চ ভারতবর্ষে রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিনের সফরের সময়ে আলাদা করে চুক্তি হয়েছিল, এই "বিক্রমাদিত্য" নামের রকেট ও বিমান বাহী যুদ্ধ জাহাজের মেরামতের কাজের জন্য আলাদা করে অর্থ যোগানের. ভারতীয় পক্ষের তথ্য অনুযায়ী রাশিয়ার কাছ থেকে এই বিমান বাহী জাহাজ কেনার জন্য তাঁদের খরচ পড়বে প্রায় দুশো কোটি ডলারের উপরে.

    মেরামত ও আধুনিকীকরণের কাজ শেষ হলে "বিক্রমাদিত্য" বাস্তবে এক নতুন জাহাজে পরিনত হবে, কারণ প্রায় সত্তর শতাংশ ব্যবস্থাই এখানে নতুন, আর বাকি গুলিতেও করা হবে সম্পূর্ণ মেরামত. বিমান বাহী জাহাজে ষোলটি জাহাজের উপরে নামা ওঠার যোগ্য যুদ্ধ বিমান "মিগ – ২৯ কা" ও কয়েকটি হেলিকপ্টার থাকবে. ভারতকে এই বিমান প্রযুক্তি সরবরাহ রাশিয়া আগামী দুই বছরের মধ্যেই করবে. আশা করা হচ্ছে যে, এই জাহাজের পরিষেবার মেয়াদ হবে তিরিশ বছর. বিমান বাহী জাহাজ "বিক্রমাদিত্য" ও তার সঙ্গে একসাথে চলা বিভিন্ন মাইন নিক্ষেপ কারী ও অন্যান্য ধরনের যুদ্ধ জাহাজ ভারতের জাতীয় স্বার্থ ভারত মহাসাগরে ও তার থেকে অনেক দূরের জায়গাতেও রক্ষ করতে সক্ষম হবে. বিমান বাহী জাহাজ "বিক্রমাদিত্য" ভারতকে বিশ্বে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সমস্যা সমাধানে সাহায্য করবে. বর্তমানে মস্কো শহরে আয়োজিত সামরিক প্রযুক্তি সহযোগিতা নিয়ে আন্তর্প্রশাসনিক পরিষদের বৈঠকে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই বিমান বাহী জাহাজের আধুনিকীকরণ নিয়ে সমস্ত সমস্যা ও জটিলতা, যা আগে হয়েছিল, তা সফল ভাবে অতিক্রম করা সম্ভব হয়েছে. জাহাজ ভারতকে দেওয়া হবে আগে থেকে স্থির করা সময়েই এই কথা উল্লেখ করে ভারতের "পি টি আই" সংস্থার মস্কোর প্রতিনিধি ভিনয় শুক্লা বলেছেন:

    "ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী এ. কে. অ্যান্টনি ভারতকে "বিক্রমাদিত্য" বিমান বাহী জাহাজ দেওয়া সম্বন্ধে বলতে গিয়ে উল্লেখ করেছেন যে, ভারতে এই ঘটনা খুবই আগ্রহের সঙ্গে অপেক্ষা করা হচ্ছে, কারণ এই প্রকল্পের জন্য সেখানে খুবই মনোযোগ দেওয়া হয়েছে. ভারত আসা করে যে, ২০১২ সালের শেষেই এই দেওয়ার কাজ শেষ হবে. এই সময়ের মধ্যেই সমস্ত কাজ সব থেকে ভাল ভাবে শেষ হবে. মন্ত্রী একই সঙ্গে উল্লেখ করেছেন যে, রাশিয়ার পক্ষ থেকে যে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, তাতে বলা হয়েছে পূর্ব নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই সব কাজ শেষ করার জন্য সব কিছুই করা হবে".

    ভারতীয় জাহাজ নির্মাণ ও ক্রয় নিয়ন্ত্রণ সংস্থার প্রধান ভাইস- অ্যাডমিরাল নাদেলা নিরঞ্জন কুমার কিছু দিন আগে সিয়েভেরোদ্ভিনস্কে গিয়ে বিক্রমাদিত্যের নির্মাণ কার্য প্রায় ৮৫ শতাংশ শেষ হয়েছে বলে জানিয়েছেন.

    বিমান বাহী "বিক্রমাদিত্য" – এক বিশাল নৌবহরের জন্য উপযুক্ত নেতৃস্থানীয় জাহাজ, যা ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে খুবই শীঘ্র পেতে চলেছে. এই বছরের নভেম্বর মাসে ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে ভাড়াতে পেতে চলেছে "নেরপা" নামের পারমানবিক ডুবোজাহাজ. আসন্ন দুই বছরের মধ্যে ভারতকে দেওয়া হবে তিনটি ফ্রিগেট. যা রাশিয়াতে ভারতের বায়না অনুযায়ী তৈরী করা হয়েছে. "তেগ" (তরোয়াল), "তারকাশ" (বর্ম), "তৃখন্ড" (তীর) জাহাজ গুলি তৈরী হয়ে গিয়েছে, তাদের পরীক্ষা চলছে.

    ভারত এক বৃহত্ শক্তিধর নৌবাহিনীর দেশ হতে চলেছে. তাদের সামুদ্রিক নীতি অনুযায়ী, ২০২০ সালের মধ্যে দেশ খুবই বড় শক্তিধর নৌবহরের অধিকারী হবে, যা যে কোন ধরনের সমস্যারই সমাধান করতে পারবে.