রাশিয়া ও চিন সিরিয়ার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে নিষেধাজ্ঞা গ্রহণের প্রকল্পের পথ রোধ করেছে. আরও তিনটি দেশ ব্রিকসের ব্রাজিল, ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা  ও তারই সঙ্গে লেবানন ভোট দানের সময়ে নিরস্ত হয়েছে. এই আইনের প্রকল্প নিয়েছিল ফ্রান্স, জার্মানী, গ্রেট ব্রিটেন ও পর্তুগাল. তাদের সমর্থন করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, আর তারই সঙ্গে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, গাবন, নাইজিরিয়া ও কলম্বিয়া.

রাশিয়া এই আইনের প্রকল্পের অন্তর্নিহিত বিরোধের দর্শনের উপরে ভেটো প্রয়োগ করেছে. রাষ্ট্রসঙ্ঘে রাশিয়ার তরফ থেকে স্থায়ী প্রতিনিধি ভিতালি চুরকিন সিদ্ধান্তের প্রকল্পের উপরে ভোটের সময়ে মস্কোর অবস্থানকে এই ভাবেই ব্যাখ্যা করেছেন, তিনি বলেছেন:

"আমরা এই দলিলের এক তরফা অভিযোগের ঝোঁক যে দামাস্কাসের দিকে করা হয়েছে, তা মেনে নিতে পারি না. আমরা মনে করি সিরিয়ার প্রশাসনের বিরুদ্ধে চরম নিষেধাজ্ঞা গ্রহণের বিষয়ে এক তরফা হুমকি দেওয়া যেতে পারে না. এই ধরনের পথ সঙ্কটের সিরিয়ায় আভ্যন্তরীণ ভাবে সমস্ত জাতীয় আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ নিরসনের নীতি বিরুদ্ধ. আমাদের পক্ষ থেকে বাইরের দেশ থেকে সামরিক অনুপ্রবেশ চলতে পারে না সংক্রান্ত যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তাও গৃহীত হয় নি. আর এটা – উত্তর আফ্রিকায় ঘটে যাওয়া ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে – আমাদের সাবধানী না করে পারে না".

ভোট দানের আগে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে পশ্চিমের দেশ গুলির নেতারা ঘোষণা করেছিলেন যে, তাঁরা বাশার আসাদের প্রশাসনকে আর আইন সঙ্গত মনে করেন না. প্রশাসনের সঙ্গে বিরোধী পক্ষের আলোচনা থেকে বিরত হওয়া নিয়েও আহ্বান করা হয়েছিল. এই ধরনের পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে, যা একতরফা ভাবে দামাস্কাসকেই শক্তি প্রয়োগের জন্য নিন্দা করেছে, তা বিরোধী দের পক্ষে এক সঙ্কেত হয়ে দাঁড়াতো যে, তারা এবারে বাইরের থেকে সক্রিয় সহায়তা আশা করতে পারে. আর এর অর্থ হত পরবর্তী কালে আরও বিরোধ বৃদ্ধি ও এই রকম মনে করে রাশিয়ার বিশেষজ্ঞ ভ্লাদিমির সোতনিকোভ বলেছেন:

"রাশিয়া ও চিনের পক্ষ থেকে ভেটো প্রয়োগ – এটা আগে থেকেই আশা করা হয়েছিল. কারণ রাশিয়ার অবস্থান পাল্টায় নি – রাষ্ট্রপতি ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে সবচেয়ে বেশী সম্ভাবনা তৈরী করে দেওয়া আলোচনার মাধ্যমে বিরোধের নিরসনের এবং তার জন্য বাইরের থেকে কোন রকমের শক্তি প্রয়োগ না করেই. এমনকি বিগত কিছু দিন আগের বাশার আসাদের ঘোষণার কথা মনে করলেও দেখতে পাওয়া যাবে যে, বিরোধী পক্ষকে উত্তেজিত করছে ঐস্লামিক ও ভাড়াটে সেনারা".

তার ওপরে ভিতালি চুরকিন রাষ্ট্রসঙ্ঘের মঞ্চ থেকে যেমন ঘোষণা করেছেন যে, সিরিয়ার বিরোধী পক্ষকে এর মধ্যেই অস্ত্র সরবরাহ করা হচ্ছে. এই প্রসঙ্গে তিনি সেই সমস্ত কথার বিপক্ষে বলেছেন, যেখানে বলা হয়েছে যে, মস্কোর ভেটো দামাস্কাসকে অস্ত্র বিক্রয়ের জন্যই দেওয়া হয়েছে. এই ধরনের অভিযোগ রাষ্ট্রসঙ্ঘে আমেরিকার রাষ্ট্রদূত সুজান রাইস তাঁর বক্তৃতায় করেছেন. ভিতালি চুরকিন এই বৈঠকের পরে তার ফল নিয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে এই প্রসঙ্গে নিজের পক্ষ থেকে ঘোষণাটিকে অবোধ্য বলেছেন, তিনি যোগ করেছেন যে, এই কথা সেই দেশের প্রতিনিধি বলছে, যারা নিকট প্রাচ্যে বহু সহস্র কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে শুধু যুদ্ধাস্ত্র ও সামরিক প্রযুক্তি দিয়েই.

ভোট দানের পরে বিতর্কের সময়ে সিরিয়ার রাষ্ট্রদূত বাশার জাফারি ঘোষণা করেছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রায় পঞ্চাশ বার ইজরায়েলের কাজকর্মের নিন্দা করা নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময়ে ভেটো প্রয়োগ করেছে. সিরিয়ার প্রতিনিধি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে "ইজরায়েলের তরফ থেকে জাতি নিধনে" সাহায্য করার জন্য অভিযোগ করেছেন, যার পরে সুজান রাইস নিরাপত্তা পরিষদের কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান.

দামাস্কাসের তরফ থেকে আরও কয়েকটি কড়া ঘোষণা করার মধ্যেই এই স্ক্যাণ্ডাল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সিরিয়ার মধ্যে আরও বেশী করে হয়েছে. রাষ্ট্রপতি বাশার আসাদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সাবধান করে দিয়ে বলেছেন যে, যদি ন্যাটো জোট তাঁর দেশের উপরে আঘাত হানার চেষ্টা করে, তবে ইজরায়েলের দিকে কয়েক শো রকেট ছোঁড়া হবে. দামাস্কাস ভয় দেখিয়েছে যে, লেবাননের হেজবোল্লা আন্দোলনকে আহ্বান করবে ইজরায়েলের উপরে আঘাত করার জন্য. আর ইরানের শক্তি দিয়ে পারস্য উপসাগরে মার্কিন নৌবহরের উপরে আক্রমণ করা হবে. ইরানের উত্স কে স্বীকার করলে, এই ধরনের উচ্চ স্বরের ঘোষণা করা হয়েছে  ৯ই আগষ্ট, কিন্তু তা খুবই গরম খবরে পরিনত হয়েছিল রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদে সিরিয়া সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা গ্রহণ আলোচনা শুরু হওয়ার কয়েক ঘন্টা আগে.

রাশিয়া বাশার আসাদের প্রশাসনের স্বপক্ষে কোন "উকিল" নয়. আর এটা আবার করে ঘোষণা করা হয়েছে আলোচনার সময়ে, যা এই ভোট প্রয়োগের আগে হয়েছিল. তারা সিরিয়ার পক্ষ থেকে কোন রকমের শক্তি প্রয়োগের প্রস্তাব গ্রহণ করবে না ও শান্তিপূর্ণ মিছিলের উপরে শক্তি প্রয়োগের নিন্দা করেছে. সিরিয়ার নেতৃত্বকে দ্রুত গতিতে দেশে গণতান্ত্রিক পথে রাজনৈতিক সংশোধন করার বিষয়ে যে আহ্বান করা হয়েছে, তাও বর্তমানে বজায় রাখা হয়েছে, গোলমালের সময়ে গ্রেপ্তার হওয়া অথচ যারা কোন রকমের ফৌজদারী অপরাধ করে নি, সেই সমস্ত লোকেদের ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান করা হয়েছে. একই সঙ্গে মস্কোর তরফ থেকে সিরিয়ার সমস্ত দেশপ্রেমী বিরোধী পক্ষের লোকেদের, যারা বাইরের থেকে নিজেদের দেশের আভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনুপ্রবেশ চায় না, তাদের সঙ্গে জোর দিয়ে কাজ করা হচ্ছে.