রাশিয়ার মন্ত্রীসভার প্রধান ভ্লাদিমির পুতিন নতুন সমাকলন প্রকল্পের বিষয়ে ঘোষণা করেছেন – ঐক্যবদ্ধ ইউরোএশিয়া অর্থনৈতিক এলাকা. তাঁর একটি প্রবন্ধে, যা "ইজভেস্তিয়া" সংবাদ পত্রে প্রকাশিত হয়েছে, ভ্লাদিমির পুতিন আলোচনা করেছেন সেই ভবিষ্যত নিয়ে, যা রাশিয়া, বেলোরাশিয়া ও কাজাখস্থানের হতে চলেছে, যখন শুল্ক সঙ্ঘের ঐক্যবদ্ধ এলাকা চালু হয়ে যাবে. "আমরা এক শক্তিশালী রাষ্ট্রোর্ধ সঙ্ঘের মডেল প্রস্তাব করেছি, যা বর্তমানের বিশ্বের একটি মেরু হতেই পারে ও তার মধ্যেই ইউরোপ ও দ্রুত উন্নতিশীল এশিয়া – প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের সঙ্গে এক সংযোজকের ভূমিকা নিতে পারে. এর অর্থ, একই সঙ্গে শুল্ক সঙ্ঘের কাঠামোর মধ্যে (বেলোরাশিয়া, রাশিয়া ও কাজাখস্থানের শুল্ক সঙ্ঘ) ও ঐক্যবদ্ধ অর্থনৈতিক এলাকার ভিত্তিতে (এই দেশ গুলির ঐক্যবদ্ধ অর্থনৈতিক এলাকা, যা ১লা জানুয়ারী ২০১২ সাল থেকে কাজ করতে শুরু করবে)আরও বেশী করে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের মাধ্যমে একক অর্থনৈতিক ও বিদেশী মুদ্রা সংক্রান্ত রাজনীতিতে যাওয়া প্রয়োজন হবে, তৈরী করতে হবে সম্পূর্ণ অর্থনৈতিক সঙ্ঘ".

    এই ধরনের সঙ্ঘ গঠনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কয়েক মাস আগে শুল্ক কার্যক্রম সংক্রান্ত এক সম্মেলনে ঘোষণা করেছিলেন. যা রাশিয়া, বেলোরাশিয়া ও কাজাখস্থান আয়োজন করেছিল. তখন তিনি আশা প্রকাশ করেছিলেন যে, এই ইউরোএশিয়া সঙ্ঘের সৃষ্টির দলিল ২০১২ সালে স্বাক্ষরিত হবে, আর তা কাজ করতে শুরু করবে আরও এক বছর পরে. আর তা হবে বিশ্ব সমাকলনের এক নতুন ধাপ. লক্ষ্য মর্যাদাময়, তার উপরে বর্তমানের বিশ্ব যে অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে রয়েছে, তার জন্য প্রয়োজনীয়, এই কথা উল্লেখ করে জাতীয় স্ট্র্যাটেজি ইনস্টিটিউটের আন্তর্জাতিক প্রকল্প বিষয়ের ডিরেক্টর ইউরি সলজোবভ বলেছেন:

    "এটা খুবই উল্লেখযোগ্য লক্ষ্য – একবিংশ শতকের দুই দৈত্যাকার অর্থনৈতিক শক্তি ইউরোপীয় সঙ্ঘ ও চিনের মাঝখানে এক শক্তিশালী সমাকলনের জোট তৈরী করা. রাশিয়া, স্বাধীন রাষ্ট্র সমূহের অন্যান্য দেশ গুলির মতনই, বর্তমানে সিদ্ধান্ত নেওয়ার মতন ভূ রাজনৈতিক নির্বাচনের সামনে দাঁড়িয়ে. হয় এই দেশ গুলি আরও বিভক্ত হয়ে ইউরোপের সঙ্গে একাংশ ও চিনের সঙ্গে অন্য অংশ হয়ে জুড়বে – আর এই জুড়ে যাওয়া খুব একটা আরাম দায়ক পরিস্থিতিতে হবে না. অথবা তার বদলে – এক শক্তিশালী ভূ অর্থনৈতিক শক্তি কেন্দ্রে পরিনত হওয়া, সেই ধরনের যেমন শুল্ক সঙ্ঘ, যার ভিত্তিতে তৈরী হবে সম্পূর্ণ ঐক্যবদ্ধ ইউরো এশিয়া অর্থনৈতিক সঙ্ঘ. এই পরিবর্তনের ফলে খুবই স্বাভাবিক হবে রাজনৈতিক সঙ্ঘ গঠন. একই রকম ভাবে আগে কখনও ইউরোপীয় সঙ্ঘ তৈরী হয়েছিল, কোন দেশের রাজনৈতিক সার্বভৌমত্ব, অর্থনৈতিক স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ণ না করেই. কোন একক দেশের মর্যাদার হানি না করেই, এই ভাবেই ইউরো এশিয়া সঙ্ঘ তৈরী হবে".

    প্রধানমন্ত্রী নিজের প্রবন্ধে লিখেছেন যে, খুব শীঘ্রই ঐক্যবদ্ধ অর্থনৈতিক এলাকার জনগন, যেখানে অভিবাসন, সীমান্ত ও অন্যান্য বাধা তুলে নেওয়া হবে, কোন রকমের বাধা নিষেধ ছাড়াই নিজেদের পছন্দ মতো স্থির করতে পারবেন, কোথায় থাকতে চান, শিক্ষা লাভ করতে চান ও কাজ করতে চান. ব্যবসায়ীরা একই সঙ্গে স্বাধীন ভাবে বেছে নিতে পারবেন কোন দেশে তাদের ব্যবসা করবেন – রাশিয়াতে, বেলোরাশিয়াতে, নাকি কাজাখস্থানে. শেষ অবধি এক বিশাল বাজার তৈরী হতে চলেছে – যেখানে সাড়ে ষোল কোটিরও বেশী গ্রাহক রয়েছেন – যাদের আইন গুলি একই রকমের, বিনিয়োগের স্বাধীন যাতায়াতের পথ সমেত. ভ্লাদিমির পুতিন লিখেছেন – "প্রাকৃতিক সম্পদের যোগ, মূলধনের যোগ, শক্তিশালী মানব সম্পদের জোটবদ্ধ ক্ষমতা ইউরো এশিয়া সঙ্ঘকে শিল্প এবং প্রযুক্তি ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতায় সক্ষম ও বিনিয়োগকারী পাওয়ার প্রতিযোগিতায় জয়ী হতে, নতুন কর্মক্ষেত্র তৈরী করায় ও আধুনিক উত্পাদন ব্যবস্থা তৈরীতে সাহায্য করবে. আর অন্যান্য প্রধান খেলোয়াড় ও আঞ্চলিক কাঠামো গুলির মতই যেমন, ইউরোপীয় সঙ্ঘ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চিন ও এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থার মতই বিশ্বের উন্নতিতে সহায়তা করবে."