ভারত সরকার মাওবাদীদের, অথবা যাদের নকসাল বলে নামকরণ করা হয়েছে, তাদের মাথা চাড়া দেওয়ার বিরুদ্ধে সামরিক প্রতিক্রিয়া বৃদ্ধি করছে. তাদের ক্রিয়া কর্মের জায়গায় পাঁচটি নতুন ব্যাটালিয়ন পাঠানো হবে, প্যারা মিলিটারি টাস্ক ফোর্সের পুলিশের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে ৭৬ হাজার পর্যন্ত. নকসাল জঙ্গীদের সঙ্গে লড়াই করার জন্য হেলিকপ্টার বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে. মাওবাদী অধ্যুষিত ও ক্ষতিগ্রস্থ রাজ্য গুলিতে ২ কোটি ডলার সমান অর্থ অবধি দেওয়া হয়েছে পুলিশের থানা তৈরী ও তা মজবুত করার জন্য. এই বিষয়ে খবর দিয়েছেন ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী পালানিয়াপ্পান চিদাম্বরম. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

মাওবাদী বিদ্রোহীদের আন্দোলন খুবই শক্তিশালী ভারতের পূর্বে. কিন্তু তারা একই সঙ্গে বর্তমানে কাজ করছে দেশের মধ্য ও উত্তরাঞ্চলেও. আজ জঙ্গী হামলায় দেশের প্রায় এক তৃতীয়াংশ অধিকৃত, তথাকথিত উপজাতি অধ্যুষিত অঞ্চল গুলিই বেশী করে. এই অঞ্চল গুলি লৌহ, কয়লা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় ধাতু আকরে ধনী ও তা ভারতের অর্থনীতির দ্রুত উন্নতির কাজে অত্যন্ত প্রয়োজনীয়. আধুনিক শিল্পের বিকাশের ফলে এই ধরনের লোকেরা আরও বেশী করে তাঁদের স্বাভাবিক জীবন যাপনের সুবিধা হারাচ্ছেন ও তাঁদের প্রকৃত বাসস্থান থেকে উত্খাত হচ্ছেন, কর্ম হীণ ও অন্ন ও বাসস্থান হীণ উদ্বাস্তুতে পরিনত হচ্ছেন. বামপন্থী চরমপন্থীরা তাঁদের করুণ পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে নিজেদের দলে টানছে, প্রায়ই পুলিশ বাহিনী উপরে চড়াও হচ্ছে, রেল পথে বিপর্যয় ঘটাচ্ছে, শান্তি প্রিয় গ্রামের মানুষদের মারছে, যারা এই মাওবাদীদের সাথে হাত মেলাতে রাজী নয়, তাদের.

দেশে বাম পন্থী চরমপন্থীদের কাজকর্মে উদ্বেগ ভারতের প্রশাসন গোপন করছে না. প্রধানমন্ত্রী ডঃ মনমোহন সিংহ এদের ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় বিপদ বলে অভিহিত করেছেন. আর এটা তিনি করেছেন কাশ্মীরের ট্র্যাজেডি, মুম্বাই হামলা, ভারতের লোকসভাতে আক্রমণ, এই সমস্ত ঐস্লামিক চরমপন্থীদের করা সন্ত্রাস ও অন্তর্ঘাত মূলক কাজকর্মের পরিপ্রেক্ষিতেই. কিন্তু জীবনে যেমন এর আগেও বহুবারই দেখা গিয়েছে যে, শুধু শক্তি প্রয়োগ করেই, সামরিক ব্যবস্থা দিয়েই, মাওবাদীদের সমস্যা, বামপন্থী চরমপন্থীদের সমস্যা সমাধান করা সম্ভব হবে না, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার বিজ্ঞানী ও ভারত বিশেষজ্ঞ ফেলিক্স ইউরলভ বলেছেন:

"ভারতের এই সব থেকে দরিদ্র জনতার জন্য, তাদের উন্নতির জন্য সামাজিক - অর্থনৈতিক উন্নতির ব্যবস্থার নেওয়ার সঙ্গে একসাথে এই সমস্যার সমাধান করা যেতে পারে. আর এটা ভারতে যথেষ্ট ভাল করেই বোঝা হয়েছে. তাই শুধু, বলা যাক, হেলিকপ্টার পাঠালে, বা সেনা পাঠালে.... বলতে পারি, একটা নিষ্ঠুর সংঘর্ষই শুধু হবে. অবশ্যই সরকারের শক্তি অনেক. কিন্তু তার পরিণতি হতে পারে খুবই ভারী. সামাজিক – অর্থনৈতিক পথে এই সমস্ত প্রশ্নের সমাধান না করে এই সমস্যা থেকে পরিত্রাণের পথ আমি দেখতে পাচ্ছি না".

এখানে খুবই বড় ভুল হয়ে যাবে, যদি দেখা না হয় যে, মাওবাদী জঙ্গীদের কাজকর্মের মূলে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই রয়েছেন অশিক্ষিত, অর্ধ শিক্ষিত ও প্রায়ই সভ্যতার থেকে অনেক দূরের লোকেরা, যারা প্রায়ই এই সংগ্রাম করছেন কোন মাও বাদের ধারণা থেকে নয়, তাঁদের জীবন সংগ্রামের অংশ হিসাবেই এই লড়াই, কাজের জন্য, এক মুঠো খাবারের জন্য, একটু মাথা গোঁজার জায়গার জন্য.

এই জঙ্গী আন্দোলনের সঙ্গে লড়াই, যা গজিয়ে উঠেছে বর্তমানের পরিস্থিতির ভিত্তিতে, তা শুধু শক্তি প্রয়োগে সমাধান করা সম্ভব হবে না. বিভিন্ন দেশে সামাজিক বিদ্রোহকে শক্তি প্রয়োগ করে সমাধান করতে গিয়ে ফল হয়েছে প্রায়ই রাজনৈতিক ব্যবস্থার পতন. একমাত্র পথ – এটা খুবই গভীর সামাজিক – অর্থনৈতিক পরিশোধন, যা মানুষের সামনে নতুন করে জীবনের পথ খুলে ধরতে পারে. অন্যথা হলে এই বিরোধ বহু বছর ধরেই চলবে, যা দশক পার হয়ে বারে বারে প্রমাণ করে দেবে যে, শক্তি ব্যবহারের অক্ষমতা.